সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ আগস্ট: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় আরও তিনজন পড়ুয়াকে গ্রেফতার করল পুলিশ। যাদবপুর পড়ুয়া মৃত্যুকাণ্ডে এই নিয়ে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, শেখ নাসিম আক্তার, হিংমাশু কর্মকার, সত্যব্রত রায় নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শেখ নাসিম যাদবপুরের প্রাক্তনী। বাকি দু’জন এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছেন। জানা গেছে, নাসিম রসায়ন নিয়ে যাদবপুরে পড়াশুনা করেছেন। স্নাতকোত্তর পাশ করার পর হস্টেলেই থাকতেন তিনি। এদিকে, হিমাংশু গণিত ও সত্যব্রত কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশুনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই তিনজনের মধ্যে সত্যব্রতকে আগেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। শুক্রবার এই তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের তলব করা হয়েছিল। কিন্তু, তিনজনের বয়ানেই অসঙ্গতি থাকায় গ্রেফতার করা হয়। জানা গিয়েছে, ওইদিন রাতে ঘটনার সময় এই তিনজনই উপস্থিত ছিলেন হস্টেলে। এরপরই তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, মৃত্যুর আগে স্বপ্নদীপের সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক ও অত্যাচার করা হয়। এই ঘটনায় পুলিশ প্রথমেই সৌরভ চৌধুরী নামে এক প্রাক্তনীকে গ্রেফতার করেছিল। তারপর তাঁর সূত্র ধরেই বাকিদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত তিন পড়ুয়াই সৌরভের খুব কাছের।
আরও পড়ুন পশুখাদ্য কেলেঙ্কারি মামলায় লালু প্রসাদের জামিনের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে দারস্থ সিবিআই

প্রসঙ্গত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় হস্টেলের প্রাক্তনী সৌরভ চৌধুরীকে ব়্যাগিংয়ের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল আগেই। রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছে মনোতোষ এবং দীপশেখর নামের আরও দুই ছাত্রকে। এরপরই দীপশেখর দত্তর আইনজীবীও ধৃত সৌরভ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব়্যাগিংয়ের অভিযোগ তোলে! তাঁর দাবি, সৌরভ দীপশেখরকেও ব়্যাগিং করেছে। দীপশেখর নিজেও ব়্যাগিং-এর শিকার। জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার বাসিন্দা দীপশেখর দত্ত, অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং হুগলির বাসিন্দা মনোতোষ ঘোষ, সমাজবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত সৌরভকে জেরা করেই মনোতোষ ও দীপশেখরের নাম উঠে এসেছে। এই মনোতোষের ঘরেই ‘গেস্ট’ হিসেবে মৃত ওই পড়ুয়াকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও এফআইআরে জানিয়েছিলেন মৃত পড়ুয়ার বাবা রমাপ্রসাদ কুণ্ডু। রবিবারই মনোতোষ ও দীপশেখরকে আদালতে তোলা হলে দুই ছাত্রের তরফেই আদালতকে বলা হয়, তাঁদের নামে কোন এফআইআরে নেই। তাহলে কীভাবে তাঁদেরকে হত্যার মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে? এই ঘটনায় অনেকেই জড়িত। অনেকের বয়ানেই ব়্যাগিংয়ের কথা জানা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে এমন অত্যাচার চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরেই। এরপরেই সৌরভের মতো ধৃত দুই ছাত্র দীপশেখর এবং মনোতোষকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত।

প্রসঙ্গত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রমৃত্যুর তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। কে বা কারা তাঁর মৃত্যুতে দায়ী, তা খুঁজে বের করতে গিয়ে একের পর এক ব্যক্তির জড়িয়ে পড়ার প্রমাণ আসছে তদন্তকারীদের হাতে। যাদবপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্তের স্বার্থে উঠে এসেছে এক ডায়েরি। সেখানে যাদবপুরের ডিন অফ স্টুডেন্টকে লেখা এক চিঠিতে ‘রুদ্রদা’ নামে এক সিনিয়রের কথা উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু কে এই রুদ্রদা? কী অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে? চিঠিতে সেসব বিস্তারিত লিখেছেন বাংলা প্রথম বর্ষের নিহত ছাত্র। যদিও ইতিমধ্যেই সেই চিঠি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। কেননা ওই চিঠির তারিখে গোলমাল রয়েছে বলেই দাবি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, গত ৩ জুন ‘রুদ্রদা’ নামে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন বাংলা বিভাগের ছাত্র স্বপ্নদীপ। ‘রুদ্রদা’ বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, ওই ‘দাদা’ই বলেছিল যে হস্টেলে সিনিয়রদের কথা শুনতেই হবে। নইলে ছাদ থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। ‘রুদ্রদা’ নেশাগ্রস্ত, ধূমপান করে বলেও চিঠি লেখা হয়েছে। এসব শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে নিহত পড়ুয়া। যদিও পরে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ধৃত দীপশেখর দত্তই ওই চিঠিটি লিখেছিলেন।
আরও পড়ুন পুলিশকে বিপথচালিত করতে খোলা মাঠে ট্রেনিং ক্লাস! ধৃত আরও তিন


More Stories
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব
এবার কলকাতায় পাঁচজায়গায় একযোগে সিবিআই হানা