সময় কলকাতা ডেস্ক , ২৯ আগস্ট : এভাবেও ফিরে আসা যায়। মঙ্গলবার ইস্টবেঙ্গলের ফিরে আসাকে নাটকীয় বললে কম বলা হয় , রুদ্ধশ্বাস বললেও কম। এই ফিরে আসা রাজকীয়।৭৭ মিনিট পর্যন্ত দু গোলে পিছিয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল খোঁচা খাওয়া বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়ে গোল শোধ করল। নির্ধারিত সময়ে খেলা ২-২ গোলে শেষ হওয়ার পরে পেনাল্টি শুট আউটে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে ১৯ বছর পরে ইস্টবেঙ্গল আবার ডুরান্ড ফাইনালে। এবার নিয়ে ২৭ বার ডুরান্ড ফাইনাল খেলবে লালহলুদ। মঙ্গলবারের যুবভারতীতে রয়েল বেঙ্গল টাইগার হয়ে ওঠা ইস্টবেঙ্গলের জয় তাদের ১৭ তম ডুরান্ড জয়ের স্বপ্ন আরও তীব্র করে তুলল। ফাইনালে আরও কঠিন প্রতিপক্ষর সামনে পড়তে হবে তাদের। সবচেয়ে বড় কথা ডুরান্ড কাপের ফাইনালে দেখা যেতে পারে ডার্বি । গোয়া ও মোহনবাগান ম্যাচের জয়ীর মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল।

২০১৯ সালের মত এবারও প্রায় তীরে এসে তরী ডুবতে বসেছিল ইস্টবেঙ্গলের। গোকুলাম সেবছর ইস্টবেঙ্গলের ডুরান্ড ফাইনালের স্বপ্ন মুছে দিয়েছিল। এবার পাহাড়ি দল নর্থ ইস্টের কাছে হারার আতঙ্ক যখন সমর্থকদের মধ্যে প্রবল তখনই ফিরতে শুরু করল ইস্টবেঙ্গল । নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হওয়ার তেরো মিনিট আগে খেলার ফল নর্থ ইস্টের অনুকূলে ২-০। প্রথমার্ধে মিগুয়েল জাবাকোর গোলে ১-০ গোলে এগিয়েছিল নর্থ ইস্ট। ৫৭ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় গোল করে নর্থ ইস্টকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন ফাল্গুনী সিং। এর তিন মিনিটের মধ্যে জোড়া পরিবর্তন করে ম্যাচের সেরা চাল দেন কুয়াদ্রেত। এলসে ও খাবরাকে তুলে গুরসিমরাত ও ক্লেটন সিলভাকে নামিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিশু ও পারদোকে তুলে নামিয়েছিলেন বোরহা ও সৌভিককে। ইস্টবেঙ্গল অল আউট অ্যাটাকে যেতে শুরু করে। যেন তেন প্রকারেন জয় চাই। ৭৭ মিনিটের পর থেকেই শুরু হতে থাকে নাটকীয় পট পরিবর্তন। নাওরেম মহেশ গোল করে ব্যবধান কমান। যদিও নর্থ ইস্টের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বল দিক পরিবর্তন করে গোলে যায় । আট মিনিট সংযোজিত হয়। আর এই সময় শুরু হয় নাটক।
৯২ মিনিটে জাবাকো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতেই ইস্টবেঙ্গল সমতায় ফেরে। গোল করেন নন্দকুমার। এরপরে গোল না হওয়ায় পেনাল্টি শুট আউট শুরু হয়। পেনাল্টি শুট আউটে ইস্টবেঙ্গল পেনাল্টি শুটাররা একশো শতাংশ দক্ষতা দেখান। একের পরে এক গোল করে যান ক্লেটন সিলভা, মন্দার রাও দেশাই, বোরহা হেরেরা, মহেশ ও নন্দকুমার। নর্থ ইস্টের নেওয়া তৃতীয় পেনাল্টি ম্যাচের নির্নায়ক ছিল। টুর্নামেন্টে চারটি গোল করা পার্থিব গগৈ দুবার চান্স পেয়েও পেনাল্টি শুটআউটে গোল করতে ব্যর্থ হন। তাঁর ব্যর্থতাই শেষ পর্যন্ত পাহাড়ি দলটির বিদায় ডেকে আনে । আর প্রায় খাদের কিনারায় চলে গিয়ে ফিরে এসে ডুরান্ড ফাইনালে ছাড়পত্র আদায় করে নিল ইস্টবেঙ্গল। একটা জিনিস বলাই যায়,এবারের ইস্টবেঙ্গল অন্তিম মুহূর্তেও হারতে চায় না। ফিরে আসতে জানে। তাদের ফাইনালে ওঠা শুধু নাটকীয় ভাবে নয়, রাজকীয় ভাবেও। ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ অবশ্যই কার্লেস কুয়াদ্রেত। জেতার জন্য তাঁর মত ট্যাকটিকাল চেঞ্জ, তাঁর মত এরকম দুঃসাহস সাম্প্রতিক কালে দেখান নি কোনও হেডস্যার।।


More Stories
চেন্নাইয়ানকে হারিয়ে মোহনবাগানকে টপকে ইস্টবেঙ্গল তিন নম্বরে
কেকেআর-কে হারালেন, কে এই মুকুল চৌধুরী ?
গ্রেফতার অজি ক্রিকেট তারকা ওয়ার্ণার