Home » ডুরান্ড ফাইনালে কি ডার্বি?

ডুরান্ড ফাইনালে কি ডার্বি?

সময় কলকাতা ডেস্ক,৩০ আগস্ট : ১৩২ তম ডুরান্ড ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল ইতিমধ্যেই উঠে গিয়েছে। ইস্টবেঙ্গল মঙ্গলবার নাটকীয় ভাবে নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে হারাতেই একটি প্রশ্ন ফুটবলপ্রেমীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে তা হল এবার কী ডুরান্ড কাপের ফাইনালে পাওয়া যাবে আরেকটি ডার্বি? এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে বৃহস্পতিবার রাতেই। বৃহস্পতিবার সম্মুখ সমরে দেখা যাবে মোহনবাগান ও এফসি গোয়াকে। এই ম্যাচের বিজয়ীরা রবিবার ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হবে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে কী হতে পারে সে আলোচনায় যাওয়ার আগে একবার জেনে নেওয়া যাক ডুরান্ডকাপে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নদের পরিসংখ্যান। ইস্টবেঙ্গল এবার নিয়ে ২৭ বার ফাইনালে উঠেছে। মোহনবাগান এর আগেই ২৮ বার ফাইনাল খেলে ফেলেছে। দুদলই ১৬ বারের চ্যাম্পিয়ন। মোহনবাগান ফাইনালে খেললে ইস্টবেঙ্গল বা মোহনবাগানের মধ্যে একটি দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যার বিচারে চির প্রতিদ্বন্দীর চেয়ে এগিয়ে যাবে। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের ডুরান্ড ফাইনালে শেষ সাক্ষাৎকার হয়েছিল ২০০৪ সালে। ১৯ বছর আগের দ্বৈরথে জয়ী হয় ইস্টবেঙ্গল। সেবার ইস্টবেঙ্গল জিতেছিল ২-১ গোলে। ২০০৪ সালের পরে ২০২৩ সালে ইস্টবেঙ্গল ফাইনালে খেলছে। মাঝের ১৮ বছর ডুরান্ড কাপে ইস্টবেঙ্গলের শুধুই খরা। মোহনবাগান শেষ ফাইনাল খেলেছে ২০১৯ সালে। সেবার গোকুলাম এফসির কাছে হেরে তারা রানার্স হয়েছিল। মোহনবাগান শেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তেইশ বছর আগে। সেবার তারা মহিন্দ্রা ইউনাইটেড কে হারিয়ে দেয়। উল্লেখযোগ্য, অন্য কোনও দল এতটা সাফল্য পায় নি যা কলকাতার দুই প্রধান পেয়েছে। এফসি গোয়া ক্লাব হিসেবে বয়সে নবীন। গোয়ার ক্লাবটি ২০২১ সালে একবারই ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মহামেডান স্পোর্টিংকে হারিয়ে।

এবার ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ কে হবে সেটা সময় বলবে, তবে শক্তির বিচারে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্রতিদ্বন্দ্বী দুদলের ফারাক তুল্যমূল্য। এফসি গোয়া এখনও পর্যন্ত এবারের প্রতিযোগিতায় অপরাজিত। তারা একমাত্র ড্র করেছিল নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে। মোহনবাগান গ্রুপে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হেরে গেলেও পরের ম্যাচে মুম্বাই এফসি কে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে। স্ট্রাইকার হিসেবে কামিন্স, সাদিকু, মনবীর উইংয়ে লিস্টন কোলাসো আশিক কুর্নিয়ান সমৃদ্ধ ফরোয়ার্ড লাইন, মিডফিল্ডে সাহাল, হুগো বুমোস, অনিরুদ্ধ থাপা – ম্যাচের রং বদলাতে পারেন এরকম খেলোয়াড় মোহনবাগানে বেশি। যদিও ডিফেন্সকে নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে।অন্যদিকে, এফসিগোয়া কেও অবহেলা করার কোনও উপায় নেই। সেরা ফর্মে রয়েছেন মরক্কোর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় নোয়া সাদোউ যিনি ইতিমধ্যেই ৫টি গোল করে গোলদাতাদের শীর্ষে। ভিক্টর রডরিগজ ভালো ফর্মে রয়েছেন।রয়েছেন কার্ল ম্যাকহিউ যিনি মোহনবাগানে দীর্ঘদিন থাকার সুবাদে পুরোনো দলের শক্তি ও দুর্বলতা-দুইই জানেন।সবচেয়ে বড় কথা -ব্র্যান্ডন ফার্নান্ডেজের নেতৃত্বে একঝাঁক দেশীয় তারকা রয়েছেন এফসি গোয়ায় যারা সবুজ মেরুন কে কঠিন প্রতিদ্বন্দিতার মুখে ফেলে দিতে পারেন। ফলে প্রথম সেমিফাইনালর মত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালেও সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা।।

About Post Author