Home » বারাসাত স্টেডিয়ামে ঘাস বসবে কবে? রাজ্য ও দেশের সেরা টুর্নামেন্ট কি আদৌ ফিরবে?

বারাসাত স্টেডিয়ামে ঘাস বসবে কবে? রাজ্য ও দেশের সেরা টুর্নামেন্ট কি আদৌ ফিরবে?

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ সেপ্টেম্বর : দীর্ঘদিন ধরে হবে হবে করেও হচ্ছিল না। কৃত্রিম ঘাস থাকার কারণে বারাসাত থেকে দেশের প্রথম শ্রেণীর  ফুটবল  প্রতিযোগিতা বেশ কিছুদিন আগেই বিদায় নিয়েছে। কৃত্রিম ঘাস থাকার কারণে বারাসাত স্টেডিয়ামের ফুটবল ঐতিহ্য অস্তগামী  অথচ এখানেই দীর্ঘসময় ধরে হয়েছে আই লিগ, কলকাতা লিগ, আইএফএ শিল্ডের মত টুর্নামেন্ট। বেশ কয়েক বছর ধরেই শোনা যাচ্ছিল অ্যাস্ট্রো টার্ফের বদলে বারাসাত স্টেডিয়ামে ঘাষের মাঠ হবে। হয়ে আর উঠছিল না।অবশেষে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের  টনক নড়েছে। তাঁরা এবার মরিয়া হয়ে কৃত্রিম ঘাসের বদলে স্বাভাবিক ঘাসের মাঠে ফুটবল হোক চাইছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই নাকি টেন্ডার ডাকা হবে। ৮৫ লক্ষ টাকা খরচ করে ঘাস বসছে বারাসাত স্টেডিয়ামে।নয় থেকে দশ মাসের মধ্যেই বারাসাতে ঘাষের মাঠ হয়ে যাবে।  আর তারপরেই নাকি আগামী মরশুমেই বারাসাতে ফিরবে বাংলা ও ভারতের প্রথম শ্রেণীর সব টুর্নামেন্ট। জেলা প্রশাসন বারাসাত স্টেডিয়াম ও সাংবাদিক সম্মেলন করে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিলেও উঠছে হাজার প্রশ্ন।

জেলা প্রশাসন মুখে বলছেন বটে, কিন্তু না আঁচালে বিশ্বাস কোথায়? যে ফুটবল মাঠ ভারত ও বিদেশের আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলাররা কাঁপিয়েছেন, যে মাঠে সনি নর্ডির মত ফুটবলাররা চোট পেয়ে দীর্ঘদিনের জন্য খেলা থেকে সরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন সেই মাঠে ফুটবল আবার ফিরছেন এমনটা ঠিক নয়। ইদানীং সাবডিভিসন লিগ হয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে  বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন  বিশ্বে কৃত্রিম ঘাসে ফুটবলের ধারণা এখন অচল। অসমান বাউন্স, নকল ঘাসের উত্তাপ ফুটবলারদের চোট আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। স্বাভাবিকভাবেই কলকাতায় একাধিক ঘাসের মাঠ থাকায় এবং জেলায় কল্যাণীর মত স্টেডিয়াম থাকায় বারাসাত স্টেডিয়ামে আর সর্বোচ্চ মানের  টুর্নামেন্ট হচ্ছিল না।

বারাসাত স্টেডিয়ামে কয়েকবছর আগেও ইস্টবেঙ্গল,মোহনবাগান মহামেডানের সব খেলা পড়ত। যুবভারতীর বদলে বারাসাতকে সেসময় বেছে নেওয়া হয় কারণ ২০১৭ সালের অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ ছিল আসন্ন। বিশ্বকাপের জন্য সল্টলেকের মাঠকে ঘাসের মাঠ হিসেবে সেরা মানের করে নেওয়ার কাজ চলছিল। গ্রাউন্ডের কাজ চলার কারণে যুবভারতীতে খেলা বন্ধ ছিল। ২০১৭ সালের আগে রিভিয়েরা বারমুডা ঘাস আনা হয় আমেরিকা থেকে। কলকাতায় সেই ঘাস তৈরি করে নেওয়া হয় এই ঘাসের সজীবতা ও গতির জন্য। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন সেজে উঠততেই এবং বিশ্বকাপ শেষ হতেই  বড় দলের খেলা ফিরে যায় সল্টলেকে। পাশাপাশি মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান মাঠও অনেকটাই ক্রীড়া উপযোগী করে তোলা হয়। বারাসাত পড়ে থাকে মান্ধাতার আমলে।

২০১৭ সালে পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে রিভিয়েরা বারমুডা গ্রাস আনা হয়েছিল কলকাতায়। তাছাড়া প্রচুর আনুষঙ্গিক খরচ ছিল। বেশ কয়েকবছর পরে শুধুমাত্র ৮৫ লক্ষ টাকা দিয়ে ঘাস বসাতে চায় জেলা প্রশাসন। এখানে পুরোনো কৃত্রিম ঘাস তুলে ফেলা এবং বসানোর জন্য খরচও রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বাজেট যে রীতিমত কম তা বলাই বাহুল্য। কালীপুজোর শহর বারাসাতে অনেক ক্লাবে কালীপুজোর বাজেট যতটা, কার্যত প্রায় সেই খরচে মাঠে স্বাভাবিক ঘাস লাগাতে উদ্যোগী উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা প্রশাসন।

তাছাড়াও প্রশ্ন থাকছে। মাঠ ঠিক করতেই যদি দশ মাস সময় লাগে তাহলে কোন অঙ্কে সামনের মরশুমে বারাসাতে বড় ম্যাচ হতে পারে সেটাই প্রশ্ন। জেলা প্রশাসন যা খুশি দাবি করতেই পারেন,২০২৫ সালের আগে বারাসাত স্টেডিয়ামে বড় প্রতিযোগিতা ফিরে আসার সম্ভাবনা কার্যত অসম্ভব।।

About Post Author