সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ সেপ্টেম্বর :কুইন্টন ডি কক অবসর নিচ্ছেন ভারতে আগামী বিশ্বকাপের পরেই।একে অসময়ে অবসর বলছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।সাউথ আফ্রিকান অধিনায়ক বাভুমা জানিয়েছেন তাঁর কোনও ধারণাই ছিল না যে, কুইন্টন ডি কক অবসর নিচ্ছেন। তবে এই প্রথম নয়, ফর্মে থাকাকালীন অল্প বয়সে এভাবেই অনেককে অবাক করে দিয়ে অসময়ে অবসর নিয়েছেন অনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। এদের মধ্যে অনেক ভারতীয় ক্রিকেটারও রয়েছেন।বিশ্বে সাম্প্রতিক কালের উঁচু মানের, সফল বা সম্ভাবনাময় যে ক্রিকেটাররা অসময়ে ব্যাট গ্লাভস, বল সরিয়ে রেখেছেন সেই তালিকায় প্রথম যে নামটি আসবে তাঁর নাম মাইকেল ক্লার্ক।মাত্র ১০ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পরে ৩৩ বছর বয়সে অবসর নিয়ে নেন অস্ট্রেলিয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। ১১৫ টি টেস্টে ২৮ টি শতরান, প্রায় পঞ্চাশের গড়ে আটহাজারের বেশি রান আর একদিনের ক্রিকেটে ২৪৫ টি ম্যাচে ৮ টি শতরান করেছিলেন ক্লার্ক।দুটি ফরম্যাট মিলিয়ে ১৬০০০ এর ওপরে রান করেছিলেন তিনি । খুব কম ম্যাচ না খেললেও তিনি যে সময় অবসর নেন তখন তিনি ক্রিকেটের মধ্যগগনে। ভারতীয়দের মধ্যে এই তালিকায় প্রথম যে নামটি আসবে তাঁর নাম প্রজ্ঞান ওঝা। ২৭ বছর বয়সে অবসর নিয়ে নেন স্পিন বোলার প্রজ্ঞান। ২৪ টি টেস্টে ১১৩ টি উইকেট পেয়েছিলেন প্রজ্ঞান। আশ্বিন ও জাদেজাকে দ্রুত ভারতীয় ক্রিকেটে নিয়মিত হতে দেখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে নেন তিনি।অথচ ওডিআই বা টি টোয়েন্টি ফরম্যাটে অল্প খেললেও তিনি সাফল্য পেয়েছিলেন। ১৮ টি একদিনের ম্যাচে ২১ টি,৬ টি টি টি টোয়েন্টি ম্যাচে ১০ টি উইকেট পেয়েছিলেন প্রজ্ঞান ওঝা।এখনও ভারতীয় দলে তাঁর সমবয়সী একাধিক খেলোয়াড় খেলে চলেছেন। পরের নামটি মুনাফ প্যাটেল।সেভাবে সুযোগ না পেয়ে খুব অল্প পেয়ে তিরিশ বছরের আগেই অবসর নিয়ে নেন তিনি। রিভার্স সুইংয়ের দক্ষ বোলার মুনাফ ১৩ টি টেস্টে ৩৫ টি উইকেট পেয়েছিলেন।ভারতের হয়ে এই দীর্ঘদেহী শেষ টেস্ট খেলেছিলেন যখন তাঁর বয়স ২৬। তার পরেও বছর দুয়েক একদিনের ক্রিকেটে বা টি টোয়েন্টি ম্যাচে তাঁকে দেখা গেলেও নির্বাচকদের খাতায় তিনি বেশিদিন থাকেন নি।বিশ্ব ক্রিকেটে আরেকজন সাড়া ফেলা পেসার হেনরি ওলোঙ্গা মাত্র ২৬ বছর বয়সে অবসর নিয়ে নেন। জিম্বাবোয়ের এই দ্রুত গতির বোলার এক সময়ে বিশ্বের অনেক সেরা ক্রিকেটারের ত্রাস ছিলেন। টেস্টে ৬৮ টি উইকেট পাওয়া এই বোলার একদিনের ম্যাচে দারুণ সফল ছিলেন। ওডিআই ফরম্যাটে ৫০ টি ম্যাচে ৫৮ টি উইকেট পান তিনি। অল্প বয়সে অবসর নেওয়া আরেকটি উল্লেখযোগ্য নাম ইংল্যান্ডের এন্ড্রু ফ্লিন্টহফ।বিশ্বের সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের তালিকায় তাঁর নাম আসবে। ৭৯ টি টেস্টে ২২৬ উইকেট আর ৩৮৪৫ রান। অসম্ভব প্রতিভাবান ফ্লিন্টহফ মাত্র ৩১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন। একদিনের ম্যাচেও সমানভাবে সফল তিনি।১৪১ টি ম্যাচে ১৬৯টি উইকেট আর ৩৩৯৪ রান।টেস্ট আর ওডিআই মিলিয়ে ৮ টি সেঞ্চুরির মালিক কয়েকটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের হয়ে।
অসময়ে অবসর নেওয়া প্লেয়ারদের তালিকায় অবশ্যই উচ্চারণ করতে হবে এবি ডিভিলিয়ার্স -এর নাম।৩৪ বছর বয়সে অবসর নিলেও সে সময় তিনি ছিলেন সেরা ফর্মে। সাউথ আফ্রিকা তো বটেই, সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় তিনি চলে আসবেন। টেস্ট, ওডিআই, বা টি টোয়েন্টি প্রত্যেকটি ফর্মাটেই অসম্ভব সফল তিনি। তিনটি ফরম্যাট মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার রান করেছিলেন তিনি। তাঁর ব্যাটিং স্টাইল তাঁকে করে তুলেছিল অসম্ভব জনপ্রিয়। ডি ভিলিয়ার্স যে সময় অবসর নেন তা বিশ্বের ক্রীড়াপ্রেমীদের মোটেই খুশি করে নি।।


More Stories
টুটু বসু প্রয়াত
পাকিস্তানকে ধ্বংস করল বাংলাদেশ
জমে উঠেছে পাকিস্তান বাংলাদেশ টেস্ট