Home » রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাজভবনের সামনে ধর্নায় উপাচার্য সংগঠন

রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাজভবনের সামনে ধর্নায় উপাচার্য সংগঠন

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ সেপ্টেম্বর: উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত তুঙ্গে। রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ‘অন্যায় হস্তক্ষেপ’ করছেন। এই অভিযোগ তুলেই রাজভবনের বাইরে ধর্নায় বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার সকালে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাজভবনের সামনে ধর্নায় বসছে তৃণমূলপন্থী উপাচার্য সংগঠন। জানা গিয়েছে, রাজভবনের নর্থ গেটের বিপরীতে নিঃশব্দ প্রতিবাদে বসবেন তৃণমূলপন্থী উপাচার্য এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যের উচ্চশিক্ষায় অব্যবস্থা তৈরি করছেন রাজ্যপাল। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিধানসভায় পাশ হওয়া বিলে স্বাক্ষর করছেন না তিনি। রাজ্যের সরকারকে সম্মান করছেন না। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি রাজ্যপাল প্রচুর মিথ্যা প্রচার করেছেন বলেও দাবি তাদের। এসবের প্রতিবাদেই এদিন রাজভবনের সামনে ধর্নায় উপাচার্য সংগঠন।

এর আগে গত মঙ্গলবারই রাজ্যপালের আচরণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনের বাইরে ধর্নায় বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি থেকে ফিরে সে কথা শুনে রাজ্যপাল বলেছিলেন, ‘সহকর্মী মুখ্যমন্ত্রীকে প্রতিবাদ জানানোর জন্য রাজভবনের ভিতরে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। সেই আমন্ত্রণের পর মুখ্যমন্ত্রীর তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া না মিললেও উপাচার্যদের সংগঠন জানিয়ে দেয় শুক্রবারই রাজভবনের বাইরে প্রতিবাদ জানাবেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেও উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে শুরু হয়েছে নয়া বিতর্ক। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের মাঝে গত বুধবারই কৃষ্ণনগর কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তবর্তীকালীন উপাচার্য নিয়োগ করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।

আরও পড়ুন    দুর্গাপুজোর পর ফের মুখোমুখি ইস্ট-মোহন, দেখে নিন আইএসএলের প্রথম ভাগের ক্রীড়াসূচী

রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, অধ্যাপক কাজল দে-কে মঙ্গলবার মধ্যরাতে কৃষ্ণনগর কন্যাশ্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তবর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ করেন আচার্য। এহেন পরিস্থিতিতে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বার্থে রাজভবনের সামনে মুখ্যমন্ত্রী ধর্নায় বসতে পারেন বলেও ঘোষণা করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত আরও তীব্র হয়। এর আগে গত সোমবারই মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি উড়িয়ে রাজ্যের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। শনিবার রাজভবনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়, ‘আচার্যের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপাচার্যই। তাঁর অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মী উপাচার্যের নির্দেশই মেনে চলবেন, অন্য কারও নয়। সরকার তাঁদের নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি।’ এই নির্দেশিকার ফলে নতুন করে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চরমে ওঠে।

About Post Author