Home » তুষারকান্তি ঘোষ : অমৃত-খ্যাতি ও যুগাবসান

তুষারকান্তি ঘোষ : অমৃত-খ্যাতি ও যুগাবসান

সময় কলকাতা ডেস্ক,২১ সেপ্টেম্বর : তুষারকান্তি ঘোষ।অধুনালুপ্ত যুগান্তর ও অমৃতবাজার পত্রিকার অন্যতম কর্ণধার। তিনি নিজে একটা নয়, একাই একাধিক অধ্যায় ছিলেন। তাঁকে এক বিশেষ কোনও সময়ের প্রতিনিধি বলা যেতে পারে না কারণ ছয় দশক বা তার বেশি সময় ধরে সম্পাদক থেকেছেন বা সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। ১৯২৮ সাল থেকে অমৃতবাজার পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, সত্তরের দশকে যুগান্তরের সম্পাদক হন।১৯৩৭ সালে যুগান্তরের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি, যা কিনা  “নেপথ্য-দর্শন”-এর শ্রীনিরপেক্ষ, অনিল ভট্টাচার্য,শ্রীপান্থ, কমল চৌধুরী, বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়ের মত একাধিক খ্যাতনামা সাংবাদিকের হাত ধরে  খ্যাতির সর্বোচ্চ শিখর ছোঁয়। অমৃতবাজার ও যুগান্তর গোষ্ঠীর খ্যাতি ছিল সর্বভারতীয় স্তরে সর্বোচ্চ মাপের। মনে রাখতে হবে অমৃতবাজারের জন্ম ১৮৬৮ সালে। ১২৩ বছর ধরে বঙ্গের হাওয়ায় শ্বাস নিয়েছে অমৃতবাজার যার একটা বিরাট সময় কেটেছে তুষার কান্তি ঘোষের হাত ধরে।

তুষারকান্তি ঘোষকে সংবাদপত্র জগতে  প্রকৃত অর্থে অনন্য একটি ধারার সঞ্চালক বলা গেলেও যখন পালাবদল হচ্ছে, তখন তিনি ছিলেন জলসাঘরের জমিদার। সংবাদপত্রদুটির যখন অক্সিজেনের দরকার ছিল, বাঁচার জন্য তাঁকে দরকার ছিল,তিনি তখন জীবনের প্রান্তসীমায় উপনীত।তাঁর আর কিছু করার ছিল না, তাঁর সাধের সংবাদপত্র দুটির অন্তিমশ্বাস শোনা ও প্রয়াণ দেখা ছাড়া। সত্তরের দশকের শেষ বা আশির দশকের শেষের দিক থেকেই, তাঁর বাবা ও তাঁর হাতে গড়া দুটি সংবাদপত্রে,দশমীর বিসর্জনের সুর বাজতে থাকে। সে সময় বাংলায় আনন্দবাজার ও আশির দশকে ইংরেজিতেচোখ খুলে তাকানো দ্যা টেলিগ্রাফের সাফল্যের সিঁড়ি ধরে এগোতে থাকে এবং পরবর্তী সময় বাংলায় বর্তমান ও ইংরেজিতে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার শ্রীবৃদ্ধি হয়, অথচ প্রবীণ দুটি পত্রিকা যুগের সাথে সাথে খসে পড়ে,  অনেক ইতিহাসকে সঙ্গী করে ইতিহাস হয়ে যায়। আজও পোড় খাওয়া সাংবাদিকরা সঠিক ভাবে বিশেষ একটি কারণ নির্ধারণ করতে পারেন না কেন যুগান্তর – অমৃতবাজার গোষ্ঠীর ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়? অনেকেই বলেন প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটের সাফল্যের কারণ দিয়ে বাগবাজারের যুগান্তর বাড়ির ব্যর্থতা পরিমাপ করার চেষ্টা বৃথা। অমৃতবাজার -যুগান্তর পত্রিকার ঝাঁপ বন্ধ হওয়ার কারণ একাধিক। কিন্তু এও ঠিক তুষার কান্তি ঘোষের যৌবনে, স্বাধীনতার ঠিক পরবর্তী সময়, পঞ্চাশের দশকে দৈনিক সংবাদপত্র হিসেবে যুগান্তরের কাটতি ছিল সবচেয়ে বেশি, জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী।আনন্দবাজার যুগান্তরের চেয়ে বয়সে সামান্য প্রবীণ হলেও এক সময় যুগান্তর থাবা বসিয়েছিল আনন্দবাজারের জনপ্রিয়তায়।তবুও বাগবাজারের যুগান্তর-আনন্দবাজার স্তব্ধ হয়ে যায়। তুষারকান্তি ঘোষের প্রয়াণের তিন বছর আগে, ১৯৯১ সালে বন্ধ হয়ে যায় অমৃতবাজার পত্রিকা।

আরও পড়ুন

তুষারকান্তি ঘোষ একটি গোষ্ঠীর কর্ণধার হওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিক- সাহিত্যিক  ছিলেন। একাধিক গ্রন্থ রয়েছে তাঁর। সম্পাদক ও সাংবাদিক হিসেবে পূর্বসূরী বা তাঁর উত্তরসূরী হরিশ মুখার্জী, তাঁর পিতা শিশির কুমার ঘোষ, লেখক-সাংবাদিক-সম্পাদক গৌরকিশোর ঘোষ বা বর্তমান সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠাতা বরুণ সেনগুপ্তের সঙ্গে তাঁর তুলনা করা যাবে না কারণ গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের স্তম্ভদের মধ্যে কোনও তুলনা হয় না তবুও ১২৫ বছর আগে,১৮৯৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর, জন্মগ্রহণ করা তুষারকান্তি ঘোষের কাজটা বেশ কঠিন ছিল কারণ  যুগান্তর- অমৃতবাজার পত্রিকার সাম্রাজ্য ছিল বিস্তৃত। তিনি দীর্ঘদিন সফলভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন। সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠাতা,সাংবাদিক ও সাহিত্যিক তুষারকান্তি ঘোষের দুর্ভাগ্য বেলাশেষের আগে,তাঁকে তাঁর সন্তানতুল্য দুটি সংবাদপত্রের মৃত্যু দেখে যেতে হয়।।

আরও পড়ুন : আদৰ্শ ছেলের জন্ম দিয়েছিলেন জীবনানন্দ দাশের মা কুসুমকুমারী

About Post Author