Home » আদৰ্শ ছেলের জন্ম দিয়েছিলেন জীবনানন্দ দাশের মা কুসুমকুমারী

আদৰ্শ ছেলের জন্ম দিয়েছিলেন জীবনানন্দ দাশের মা কুসুমকুমারী

সময় কলকাতা ডেস্ক,২১ সেপ্টেম্বর : “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে” – বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের অনেকের কাছে এই শব্দবন্ধ ও বাক্যরাশি অজানা। যারা আর যুবক নন, যাদের বয়স হয়েছে তাঁরা বা তাঁদের অনেকেই  এই লাইনগুলির সঙ্গে পরিচিত যদিও  অনেকেই সঠিক বলতে পারবেন না যে এই কবিতা কার লেখা। যারা বলতে পারবেন,তাঁরা আবার অনেকেই বলতে পারবেন না – তিনি ঠিক কে ছিলেন। অনেকেই জানেন না এই কবিতাটি যার নাম ‘আদর্শ ছেলে’- যিনি লিখেছিলেন,তাঁর পুত্র অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি। তিনি জীবনানন্দ দাশের মা। তিনি কুসুমকুমারী দাশ, মহিলা বাঙালি কবিদের মধ্যে অবশ্যই অন্যতমা।

জীবনানন্দ দাশের মা কুসুমকুমারী যে সময় লিখতেন সে সময় সামান্য কিছু মেয়েরা পড়াশোনা জানলেও, বাঙালি লেখিকার সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। প্রবাসী ও মুকুলের মত সেযুগের প্রথম শ্রেণীর পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা বেরোত।তাঁর লেখা কবিতায় প্রাধান্য পেয়েছে নীতিবোধ ও দেশপ্রেম।যদিও তাঁর অধিকাংশ লেখায় আজকাল পাওয়া যায় না, যুগের সাথে সাথে হারিয়ে গিয়েছে। তাঁর জন্মের ১৪৮ বছর পরে মানুষ ভুলতে বসেছে কুসুমকুমারী দাশের নাম।

২১ সেপ্টেম্বর,১৮৭৫। বরিশালের এক ব্রাহ্ম পরিবারে কুসুমকুমারীর জন্ম। বরিশালে ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠাতা স্কুলে তিনি চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। স্কুলটি বন্ধ হয়ে গেলে তার বাবা চন্দ্রনাথ দাশ তাকে কলকাতায় রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে রেখে আসেন। তাকে বেথুন তুলে ভর্তি করা হয় যা কিনা ছিল সে যুগের মেয়েদের শিক্ষার এক অন্যতম অঙ্গন। প্রবেশিকা পরীক্ষা দেওয়ার আগে তাঁর বিয়ে হয় সত্যানন্দ দাশের সঙ্গে  ও অন্যতম কৃতী পুত্র ছিলেন জীবনানন্দ যিনি নিজের মায়ের স্মৃতিচারণে বলেছেন, “.. খুব সম্ভব ফাস্ট অবধি তিনি পড়েছিলেন, তারপরই তার বিয়ে হয়ে যায়। তিনি অনায়াসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ পরীক্ষায় খুব ভালোই করতে পারতেন, এ বিষয়ে সন্তানদের চেয়ে তার বেশি শক্তি ছিল বলে মনে হচ্ছে।”

১৯৪৮ সালে রাসবিহারী এভিনিউয়েr বাড়িতে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত ব্রাহ্ম সমাজের বিভিন্ন কাজে উদ্যোগী ভূমিকা  নেন।১৯১২ থেকে ১৯৩১ ব্রাহ্মসমাজের বিভিন্ন সমতে আচার্যের ভূমিকা পালন করতেন তিনি। তাঁর লেখালেখি শুরু হয়েছিল অতি অল্প বয়স থেকে। প্রবন্ধ ও কবিতা লেখায় তিনি সুদক্ষ ছিলেন। পৌরাণিক আখ্যায়িকা নামে একটি গ্রন্থ তিনি লিখেছিলেন। এছাড়াও তাঁর অসংখ্য রচনা হারিয়ে গিয়েছে বলেই মনে করা হয় তবুও তিনি অমর থেকে যাবেন শুধু মাত্র দুটি কারণে।  আদর্শ ছেলে কবিতা  আর জীবনানন্দ দাশের জন্ম দিয়েছেন যিনি, তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকর্ম হারিয়ে গেলেও সময় তাঁকে মনে রাখবেই ।।

আরও পড়ুন :শক্তি চট্টোপাধ্যায় : সংসারে সন্ন্যাসী লোকটা

About Post Author