Home » রাজ্যপাল কলকাতায় না ফেরা পর্যন্ত রাজভবনের দুয়ারে লাগাতার ধর্নার ডাক অভিষেকের

রাজ্যপাল কলকাতায় না ফেরা পর্যন্ত রাজভবনের দুয়ারে লাগাতার ধর্নার ডাক অভিষেকের

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ অক্টোবর: দিল্লির পর এবার বাংলার মাটিতে আন্দোলনে অভিষেক। দিল্লিতে তৃণমূলকে হেনস্থার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজ্যপালহীন রাজভবন অভিযানে নেমেছিল তৃণমূল। একশো দিনের কাজে বাংলার ‘বঞ্চিতদের’ টাকা আদায়ের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও বেলা ১১টা থেকে মঞ্চে ঝাঁঝ বাড়াতে শুরু করেছেন অভিষেক ও তৃণমূলের অন্যান্য প্রথম সারির নেতারা। জানা গিয়েছে, রাজ্যপাল কলকাতায় না ফেরা পর্যন্ত রাজভবনের দুয়ারে লাগাতার আন্দোলন চলবে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল রাজভবনে উপস্থিত না থাকায় পুলিশের হাতেই চিঠি তুলে দেয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার দিল্লি থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে কলকাতায় ফিরে ৫ অক্টোবর রাজভবন অভিযান হবে।

কথা ছিল,রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করে চিঠি দেবে তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু, উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গিয়েছেন তিনি। তাই রাজ্যপাল রাজভবনে না থাকায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি প্রতিনিধি দলের। রাজভবনের সামনেই প্রতিবাদ সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সেখান থেকেই ২৫ জনের এক প্রতিনিধি দল হাতে স্মারকলিপি নিয়ে রাজভবনের গেটের সামনে যান। ‘রাজভবন চলো’ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ সৌগত রায়, সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার, সাংসদ শতাব্দী রায়, সাংসদ মহুয়া মৈত্র, বিধায়ক বিরবাহা হাঁসদা-সহ তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা। এদিন রাজপথ কার্যত এই মিছিলকে কেন্দ্র করে জনস্রোতে পরিণত হয়। বৃহস্পতিবার সারারাত রাজভবনের বাইরেই কাটিয়েছেন অভিষেক।

আরও পড়ুন    তিরন্দাজীতে জোড়া লক্ষ্যভেদ, এশিয়ান গেমসে দিনের তৃতীয় সোনা ভারতের

যতক্ষণ না রাজ্যপালের সাক্ষাৎ মিলছে, ততক্ষণ অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরেই এদিন রাতেই ধরনামঞ্চের কাছে দেখা গিয়েছে রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যদিও খুব বেশি সময় দেখা যায়নি। যদিও রাজভবনের কাছে তৃণমূলের এই কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা।উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদে, বঞ্চিতদের টাকা আদায়ে দিল্লি চলো অভিযানে গিয়েছিল তৃণমূল। সেখানে গিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আর্জি জানিয়েও দেখা পায়নি তৃণমূল সাংসদদের প্রতিনিধি দল। এরপরই দিল্লি পুলিশ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ সাংসদ শান্তনু সেন, মহুয়া মৈত্র, দোলা সেন সহ বেশ কয়েকজন সাংসদকে আটক করেছিল।

দিল্লিতে  দীর্ঘক্ষণ পুলিশি হেফাজতে থাকার পর মুক্তি পেয়েই রাজধানীতে দাঁড়িয়ে অভিষেক ঘোষণা করেছিলেন, বাংলার মানুষের দাবির কথা জানাতে বৃহস্পতিবার রাজভবন অভিযান কর্মসূচিতে সামিল হবে তৃণমূল। কেন্দ্রের বঞ্চনার প্রতিবাদে রাজ্যপালের হাতেই বঞ্চিত মানুষের ৫০ লক্ষ চিঠি তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু, এদিনই আবার রাজভবন ছেড়ে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন রাজ্যপাল। আর রাজ্যপালের উত্তরবঙ্গ সফরকে কেন্দ্র করেই একাধিক প্রশ্ন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতিতে। যদিও অভিষেকের রাজভবন অভিযানের আগেই রাজভবন থেকে কোচির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস। কোচি থেকে বুধবার সকালেই রাজ্যপাল দিল্লি যান। বৃহস্পতিবার ভোরবেলা দিল্লি থেকে তিনি সোজা পৌঁছে যান উত্তরবঙ্গে। রাজভবন সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গে যাওয়ার কর্মসূচি না থাকলে আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যে ফেরার কথা ছিল রাজ্যপাল বোসের।

About Post Author