সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ অক্টোবর: রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পরলেন রাজ্যের আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এবার উপাচার্য নিয়োগ মামলায় রাজ্যপালের কাছে জবাব তলব করল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের বেঞ্চ। শুক্রবার সিভি আনন্দ বোসকে নোটিস পাঠাল দেশের শীর্ষ আদালত। এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৩১ অক্টোবর। শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতে রাজ্যের হয়ে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বিচারপতির উদ্দেশ্যে বলেন, উপাচার্য নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন। কার্যত সেকারণেই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয়, এই মামলায় পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত আর কোনও নিয়োগ করতে পারবেন না রাজ্যপাল। এরপর বিচারপতিরা জানিয়ে দেন, যাঁদের অন্তর্বর্তী উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁরা নিজেদের বেতন পাবেন, কিন্তু উপাচার্য হিসেবে কোনও বাড়তি সুযোগ-সুবিধা, বাড়তি আর্থিক সুবিধা পাবেন না।

রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাতের আবহের মাঝেই গত ১ অক্টোবর মুর্শিদাবাদ, আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয় সহ রাজ্যের ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য নিয়োগ করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। আর এই উপাচার্য নিয়োগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের সংঘাত শুরু হয়েছে। যদিও রাজ্য-রাজভবন সংঘাত নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন ইস্যুতে এর আগেও একাধিকবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের মতানৈক্য হয়েছে। রাজ্যপালের নিয়োগ করা উপাচার্যদের তালিকায় একজন অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসারও রয়েছেন। কিছুদিন আগেই আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসাবে আইপিএস অফিসার এম ওয়াহাবকে নিয়োগ করেছিলেন রাজ্যপাল। যা নিয়ে চরমে উঠেছিল বিতর্ক। সেই বিতর্কের আবহ কাটতে না কাটতেই ফের অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসারকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ করায় নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন অমৃতসরে ওষুধ তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

উল্লেখ্য, রাজ্য-রাজভবন সংঘাত নতুন নয়। বিভিন্ন ইস্যুতে এর আগেও একাধিকবার রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের মতানৈক্য হয়েছে। কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি উড়িয়ে রাজ্যের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য নিয়োগ করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজভবনের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়, ‘আচার্যের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপাচার্যই। তাঁর অধীনস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কর্মী উপাচার্যের নির্দেশই মেনে চলবেন, অন্য কারও নয়। সরকার তাঁদের নির্দেশ দিতে পারে, কিন্তু সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলি।’ এই নির্দেশিকার ফলে নতুন করে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চরমে ওঠে। এর আগেও রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অস্থায়ী ১৪ জন উপাচার্য নিয়োগ করেছেন আচার্য তথা রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপরই রাজ্যপাল যে ১৪ জন উপাচার্যদের নিয়োগ করেছেন, তাঁদের উপাচার্য হিসেবে পারিশ্রমিক ও ভাতা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য উচ্চশিক্ষা দফতর।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি