Home » অভিষেকের ধর্নার চতুর্থ দিনেই বঞ্চিতদের সঙ্গে দেখা করতে কলকাতা ফিরছেন রাজ্যপাল বোস

অভিষেকের ধর্নার চতুর্থ দিনেই বঞ্চিতদের সঙ্গে দেখা করতে কলকাতা ফিরছেন রাজ্যপাল বোস

সময় কলকাতা ডেস্ক, ৮ অক্টোবরঃ অভিষেকের ধর্নার চতুর্থ দিনই দার্জিলিং থেকে তড়িঘড়ি কলকাতায় ফিরছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। কলকাতা ফিরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় -সহ তৃণমূল প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। তারপরই ‘বঞ্চনা’ নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলবেন রাজ্যপাল। প্রশাসন সূত্রে খবর, তিস্তা বাজার থেকে সরাসরি বাগডোগরা বিমানবন্দরে যাবেন রাজ্যপাল। সেখান থেকেই কলকাতা ফিরবেন। কলকাতায় ফেরার আগে শনিবার রাজ্যের শাসক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করে ‘আশ্বাস’ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। সেইসঙ্গে এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল বলেন, ‘বঞ্চিতদের সঙ্গে কথা বলব। তাঁদের থেকে সরাসরি অভিযোগ শুনব। কিন্তু রাজনৈতিক বাধা থাকলে কিছু করতে পারবনা’। স্বাভাবিকভাবেই সি ভি আনন্দ বোসের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

উল্লেখ্য, দিল্লিতে তৃণমূলকে হেনস্থার প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবারই রাজ্যপালহীন রাজভবন অভিযানে নেমেছিল তৃণমূল। একশো দিনের কাজে বাংলার ‘বঞ্চিতদের’ টাকা আদায়ের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। রাজ্যপাল কলকাতায় না ফেরা পর্যন্ত রাজভবনের দুয়ারে লাগাতার আন্দোলন চলবে বলেই জানিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু, বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল রাজভবনে উপস্থিত না থাকায় পুলিশের হাতেই চিঠি তুলে দেয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। এদিকে, সংঘাতের আবহের মাঝেই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে শনিবার সকালে উত্তরবঙ্গে রওনা দেয় তৃণমূলের ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এদিন তৃণমূলের তরফে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার এবং দুই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্র। শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রাজ্যপালের সাক্ষাৎ হওয়ার কথা আছে।

আরও পড়ুন   আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকুন, স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা বাড়বে! জানুন রাশিফল

মঙ্গলবার দিল্লি থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে কলকাতায় ফিরে ৫ অক্টোবর রাজভবন অভিযান হবে। কথা ছিল রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করে চিঠি দেবে তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু, উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গিয়েছেন তিনি। তাই রাজ্যপাল রাজভবনে না থাকায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি প্রতিনিধি দলের। রাজভবনের সামনেই প্রতিবাদ সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। সেখান থেকেই ২৫ জনের এক প্রতিনিধি দল হাতে স্মারকলিপি নিয়ে রাজভবনের গেটের সামনে যান। ‘রাজভবন চলো’ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ সৌগত রায়, সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার, সাংসদ শতাব্দী রায়, সাংসদ মহুয়া মৈত্র, বিধায়ক বিরবাহা হাঁসদা-সহ তৃণমূলের প্রথম সারির নেতারা। এদিন রাজপথ কার্যত এই মিছিলকে কেন্দ্র করে জনস্রোতে পরিণত হয়। যতক্ষণ না রাজ্যপালের সাক্ষাৎ মিলছে, ততক্ষণ অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

About Post Author