সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৭ অক্টোবর: রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। পুরনিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে রেশন দুর্নীতিকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। সেই সূত্র ধরেই বাকিবুর রহমানের (Bakibur Rahaman ) পাঁচটি চালকল এবং আটাকলের খোঁজ মেলে। এরপরই বাকিবুরের বাগুইআটি কৈখালির আবাসনে ৫৪ ঘণ্টা ম্যারাথন তল্লাশির পর অবশেষে রেশন দুর্নীতিতে আটক করা হয় বাকিবুর রহমানকে। ইতিমধ্যেই বাকিবুরের বিভিন্ন ব্যবসা এবং বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পেয়েছে ইডি। কলকাতা থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরুতে বাকিবুরের রয়েছে একাধিক রেস্তোরাঁ, পানশালা। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, রেশন দুর্নীতিতে ধৃত বাকিবুরের দুবাইতে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে। ফ্ল্যাটগুলির দাম সাত থেকে আট কোটি টাকা। সেই ফ্ল্যাটের জন্য বেশিরভাগ টাকা দুবাইতে পাঠানো হয়েছিল। বাকি টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল।

তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, রেশন সামগ্রী বিক্রির গোটা কারবার চেন সিস্টেমে চলত। এমনকী দুবাইতে ফ্ল্যাট কেনার প্রায় ১৪ কোটি টাকা এদেশ থেকেই পাঠিয়েছিলেন বাকিবুর। ওই ১৪ কোটি টাকার উৎস কী? কোথা থেকে এত টাকা পেয়েছিলেন বাকিবুর? নিয়োগ দুর্নীতির টাকাই কি কাজে লাগিয়েছিল? দুবাইতে কি পালিয়ে যাওয়ার ছকও কষেছিলেন বাকিবুর? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতেই পুজোর মুখে তেড়েফুঁড়ে ময়দানে নেমেছে তদন্তকারী আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডির নজরে বাকিবুরের সঙ্গীরাও রয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাকিবুরের সঙ্গীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন তদন্তকারীরা। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই তলব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন অভিষেকের আপ্তসহায়ককে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে হলফনামা জমার নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রসঙ্গত, রেশন দুর্নীতিকাণ্ডের তল্লাশিতে ইতিমধ্যেই বাকিবুরের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি কালো ডায়েরি। সেই ডায়েরির সূত্র ধরেই ইডির হাতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। ইডির দাবি, প্রায় ১০ বছর ধরে রেশনের আটা নিয়ে দুর্নীতি চলছিল। সরকারি গণবণ্টন ব্যবস্থায় কত পরিমাণ আটা কত দামে কেনা হয়েছে, তা উদ্ধার হওয়া ডায়েরি থেকে জানতে পেরেছে ইডি। এছাড়াও বাকিবুর রহমানের রাইস মিল থেকে বিভিন্ন সরকারি দফতরের ১০৯টি স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে। যদিও বাকিবুরের বিরুদ্ধে রেশনের আটা নিয়ে বেলাগাম দুর্নীতির প্রমাণ আগেই এসেছিল পুলিশের হাতে। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নদিয়ার কোতয়ালি, ধুবুলিয়া, নবদ্বীপ এই ৩টি থানায় রেশনের আটা দুর্নীতি নিয়ে মামলাও রুজু করেছিল রাজ্য পুলিশ। এরপরই প্রচুর রেশন সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়। এসবের পরেও রমরমিয়ে রেশনের সামগ্রী কালোবাজারি হত বলেই দাবি ইডির।


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ