Home » পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানালেন ভারতীয় ফুটবলের ‘স্পাইডারম্যান’ সুব্রত পাল

পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানালেন ভারতীয় ফুটবলের ‘স্পাইডারম্যান’ সুব্রত পাল

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৮ ডিসেম্বর: নীরবে গোলরক্ষকের দস্তানাটি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন সুব্রত পাল (Subrata Pal)। যাকে একটা সময় এশীয় ফুটবলের ‘স্পাইডারম্যান’ বলা হত। দীর্ঘ দু’দশক জাতীয় দল-সহ ভারতীয় ফুটবলের প্রথম সারির ক্লাবে অবাধে বিচরণ করেছেন সুব্রত পাল। তবে এবার বর্ণময় ফুটবল ক্যারিয়ারে ইতি টানলেন সোদপুরের মিষ্টু। ইন্ডিয়ান ফুটবল টিমের সোশাল মিডিয়া সাইট এক্সের পেজে এই কথা জানানো হয়েছে। সুব্রত পালের ছবি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “ধন্যবাদ স্পাইডারম্যান। ব্লু টাইগারদের কাস্টোডিয়ান আজ তাঁর গ্লাভস জোড়া তুলে রাখলেন।”  

সুব্রত পালের উত্থান টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমির হাত ধরে। ২০০০ সালে জামশেদপুরের ওই অ্যাকাডেমির ট্রায়ালের সুযোগ পান তিনি। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমি থেকে স্নাতক হয়ে ২০০৪ সালে যোগ দেন মোহনবাগানে। তখন মোহনবাগানের কোচ ‘ডায়মন্ড সিস্টেম’ খ্যাত অমল দত্ত। বর্ষীয়ান বঙ্গ কোচের হাত ধরেই পেশাদার ফুটবলে হাতেখড়ি হয় দেশের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষকের। তারপর মোহনবাগানের হয়ে খেলেছেন টানা ৩ বছর। সেসময়ে জড়িয়ে পড়েন এক বিতর্কে। ২০০৫ সালে গোয়ায় ফেডারেশন কাপে সুব্রতর মোহনবাগান মুখোমুখি হয় গোয়ার ডেম্পোর। ম্যাচ চলাকালীন তার সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে মৃত্যু হয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার জুনিয়রের। ওই দু্র্ঘটনার দায়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল সুব্রতকে। তবে জীবনের খারাপ সেই অধ্যায় দ্রুত কাটিয়েও উঠেছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের মিষ্টু। মোহনবাগান থেকে ২০০৭ সালে যোগ দেন কলকাতার আর এক প্রধান ইস্টবেঙ্গলে। কলকাতার দুই প্রধান-সহ দায়িত্ব সামলিয়েছেন পুণে এফসি, প্রয়াগ ইউনাইটেডের। এর মধ্যে এক বছর লোনে খেলেছেন ডেনমার্কের একটি ক্লাবে। ইন্ডিয়ান সুপার লিগে মুম্বই, নর্থ-ইস্ট, জামশেদপুর, হায়দরাবাদের হয়ে খেলে ২০২১ সালে প্রত্যাবর্তন করেন ইস্টবেঙ্গলে। ২০২২ সালে লাল হলুদ থেকে লোনে মোহনবাগানে যোগ দিলেও একটিও ম্যাচ খেলা হয়নি।

আরও পড়ুন: COPA AMERICA 2024: কোপা আমেরিকার গ্রুপ বিন্যাস চূড়ান্ত করল কনডেমবল, মেসি-ভিনিদের গ্রুপে কারা?

ক্লাবের পাশাপাশি দেশের জার্সিতেও দীর্ঘদিন খেলেছেন সুব্রত পাল। শুরুটা হয়েছিল ২০০৭ সালে অনূর্ধ্ব-২৩ থেকে। বড়দের দলের হয়েও চুটিয়ে খেলেছেন। ২০০৭ ও ২০০৯ সালে নেহেরু কাপ, ২০০৮ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ, ২০১১ সালের এএফসি এশিয়ান কাপ, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের যোগ্যতা পর্বে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। দোহায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে ম্যাচে খেলেছিলেন সেই স্মরণীয় ম্যাচ। ভারতের গোল লক্ষ্য করে মোট ২০টি শট নিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলাররা। তারমধ্যে ১৬টি বাঁচিয়ে দেন সুব্রত। তার পরই কোরিয়ান সংবাদ মাধ্যম তাঁর নাম দেয় ‘স্পাইডারম্যান’। ভারতকে লজ্জার হারের হাত থেকে রক্ষা করেন তিনি। অবশ্য সেই ম্যাচে ৪-১ গোলে হেরেছিল ভারত। ২০০৯ সালের নেহরু কাপের ফাইনালেও ত্রাতা হয়ে উঠেছিলেন। পেনাল্টি শুট আউটে তিনটি শট সেভ করেছিলেন সুব্রত। ওই ম্যাচে সিরিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। সেই সুব্রত পালই এবার অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন।

About Post Author