স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৯ ডিসেম্বর: ১১১ বছরে এই প্রথম ব্রাজিলের প্রথম ডিভিশন থেকে অবনমন হয়েছে স্যান্টোসের। বৃহস্পতিবার ফোর্তালেজারের বিরুদ্ধে‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ ২-১ ব্যবধানে হেরে গিয়েছে পেলে-নেইমারের প্রাক্তন ক্লাব। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্যান্টোস সমর্থকরা। কিন্তু কেন এই হাল হল শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবের? খোঁজ নিল সময় কলকাতা….

স্যান্টোস মানেই সাম্বা ফুটবলের পাঠশালা। ব্রাজিলের বেলমিরোর এই ক্লাব থেকে পেলে, জিতো, পেপে, রবিনহো, জে রবার্তো, নেইমার, রড্রিগো-সহ একাধিক প্রাক্তন ও বর্তমান তারকার উত্থান। সেই ঐতিহ্যশালী ক্লাবই নাকি এবার খেলবে ব্রাজিলের দ্বিতীয় ডিভিশনে। ক্লাবের ১১১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার পড়তে হয়েছে লজ্জার অবনমনের মুখে। বৃহস্পতিবারের ফোর্তালেজারের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিততেই হত স্যান্টোসকে প্রথম ডিভিশনে টিকে থাকতে। কিন্ত্ত শেষ মুহূর্তের গোলে হারতে হয়েছে তাদের। চলতি মরশুমে ১১ টি ম্যাচ জিতেছে পেলের প্রাক্তন ক্লাব। হেরেছে মোট ১৭ টি। ৩৮ ম্যাচে তাদের প্রাপ্ত পয়েন্ট ৪৩। ২০ দলের লিগে সপ্তদশ স্থানে শেষ করেছে স্যান্টোস।
দলের এই দুর্দশার দায় সমর্থকরা চাপিয়েছে ক্লাব সভাপতি আন্দ্রেস রুয়েদার উপর। কারণ তাঁর আমলে মাঠ এবং মাঠের বাইরে ক্রমেই তলানিতে ঠেকেছে স্যান্টোসের পারফরম্যান্স। মাত্র দু’বছরের মধ্যে মোট ৯ বার কোচ বদল হয়েছে। পাশাপাশি ক্লাবের মাথায় চেপেছে বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা। শেষ ত্রৈমাসিকে দেওয়া হিসাব অনুযায়ী সেই অঙ্কের পরিমাণ প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার। এই আর্থিক সমস্যার কারণ হিসাবে উঠে আসছে ক্লাবের দীর্ঘকালীন ট্রফি খরা। প্রায় দু’দশকের বেশি সময় ব্রাজিলের প্রথম ডিভিশন লিগ জেতেনি স্যান্টোস। তার মধ্যে চ্যাম্পিয়নশিপে ইন্টারন্যাশিওনালের বিরুদ্ধে হারতে হয়েছে ১-৭ গোলে। আর এবার প্রথম ডিভিশনে টিকে থাকার লড়াইয়েও ব্যর্থ হয়েছে বেলমিরোর এই ক্লাব।
প্রিয় ক্লাবের অবনমন মেনে নিতে পারেননি স্যান্টোসের সমর্থকরা। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পরেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। ম্যাচ দেখতে উপস্থিত হওয়া সমর্থকদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। ক্ষুব্ধ সমর্থকদের একাংশ গ্যালারিতে ভাঙচুর চালায়। সেই বিক্ষোভ মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এর রেশ ছড়িয়ে পড়ে স্টেডিয়াম চত্বরেও। ফুটবলার-সহ একাধিক গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে উন্মত্ত জনতা। সেই ফুটবলারদের মধ্যে রয়েছেন চেন্নাইয়ন এফসির প্রাক্তন ফুটবলার স্টিভেন মেন্ডোজা। তাঁর গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফুটবলারদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। তবে উন্মত্ত সমর্থকদের শান্ত করতে বেশ বেগ পেতে হয় তাদের।

আরও পড়ুন: SANTOS CLUB: ১১১ বছরে প্রথমবার অবনমন, লজ্জার ইতিহাসের সাক্ষী পেলে-নেইমারের ক্লাব
স্যান্টোস থেকে পেশাদারী ফুটবলে আত্মপ্রকাশ নেইমারের। এই ক্লাবের জার্সিতে করেছেন প্রায় শতাধিক গোল। প্রিয় দলের দুর্সময়ে পাশে থাকার বার্তা দিয় পোস্ট করেছেন নেইমার। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন,“সব সময় স্যান্টোসের পাশে আছি।” নেইমারের মত এই ক্লাবে দীর্ঘদিন খেলেছেন ফুটবল সম্রাট পেলে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে স্যান্টোসে আত্মপ্রকাশ হয়েছিল তাঁর। বাকিটা ইতিহাস। ১৯৫৬ থেকে ১৯৭৪ সাল টানা ১৯ বছর ওই ক্লাবের জার্সিতে খেলেছেন পেলে। করেছেন অসংখ্য স্মরণীয় গোল। পেলের হাত ধরেই ছ’টা খেতাব জিতেছিল স্যান্টোস। তিনি বেঁচে থাকলেও আজ নিশ্চিত হতাশ হতেন। তবে প্রিয় ক্লাবের করুণ পরিণতি দেখতে হয়নি তাঁকে। গতবছর এই ডিসেম্বরে প্রয়াত হন ব্রাজিল ফুটবলের কিংবদন্তী। মাত্র কয়েকদিন আগে এই স্টেডিয়ামেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তখনও কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন অনেক স্যান্টোস সমর্থক। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে যে আবার তাঁদের কাঁদতে হবে কল্পনাও করতে পারেননি তারা।


More Stories
লালহলুদের ইলিশ উৎসব ধূপগুড়িতে
আকিব নবীর হয়ে সরব বেঙ্গসরকার, তাঁর দাবি ঘরোয়া ক্রিকেট বন্ধ করে দেওয়া হোক
প্লে-অফে যেতে হলে কেকেআর-কে কী করতে হবে? কলকাতার সামনে কোন পথ খোলা?