Home » সংসদে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

সংসদে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ ডিসেম্বর: সংসদে সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে মূলচক্রী ললিত ঝা! এবার এই ঘটনার জেরে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। সোমবার শীর্ষ আদালতে মামলার আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদক আবু সোহেল। গোটা ঘটনার নেপথ্যে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা নিরপেক্ষ ভাবে খতিয়ে দেখার আর্জি জানানো হল। মামলাকারীর প্রশ্ন, দেশের সংসদ এবং জনপ্রতিনিধি সাংসদদের নিরাপত্তাই যেখানে লঙ্ঘন হচ্ছে, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? তাঁর আর্জি, গত ১৩ ডিসেম্বর সংসদ হানার গোটা ঘটনার পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তাই তা খতিয়ে দেখা হোক। 

আরও পড়ুন   ফের হাওয়া বদল, বড়দিনের আগে একধাক্কায় অনেকটাই বাড়ল তাপমাত্রার পারদ        

আইনজীবী আবু সোহেলের আবেদন, শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে সোমবার সরব হন বিরোধীরা। সংসদের নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধীদের শোরগোলের জেরে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ মোট ৩৩ বিরোধী সাংসদকে অধিবেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত সাসপেন্ড করেন স্পিকার ওম বিড়লা। এই তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের ৯ সাংসদ, রয়েছেন কংগ্রেস, ডিএমকে সাংসদরাও। পাশাপাশি রাজ্যসভারও বেশ কয়েকজন সাংসদকে সাসপেন্ড করা হয়। এসবের মাঝেই এবার সংসদে স্মোককাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। ইতিমধ্যেই সংসদ চত্বরের সুরক্ষার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করতে আরও একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন স্পিকার ওম বিড়লা। বিষয়টি জানিয়ে সংসদের সকল সদস্যকে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। গত ১৩ ডিসেম্বরের ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক তকমা দিয়ে চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘১৩ ডিসেম্বর সংসদে যা ঘটেছে, তার সঙ্গে সাংসদদের সাসপেন্ড করার ঘটনাটি জুড়ে দেওয়া দুর্ভাগ্যজনক।’

 

এ প্রসঙ্গে স্পিকার আরও জানিয়েছেন, অধিবেশন কক্ষে সাংসদদের অশালীন ব্যবহারের প্রশংসা করে না দেশবাসী। সংসদের শৃঙ্খলা ও সম্মান রক্ষার্থেই সাংসদদের সাসপেন্ড করা হয়েছে জানিয়ে সাংসদদের প্রতি স্পিকারের বার্তা, আশা করি, ভবিষ্যতে সংসদের গরিমা ও মর্যাদাকে গুরুত্ব দেবেন সাংসদরা। চিঠিতে স্পিকার আরও লিখেছেন, অতীতেও সংসদে দর্শকদের পিস্তল নিয়ে গ্যালারিতে ঢোকা, শ্লোগান দেওয়া, লিফলেট ছড়ানো, এমনকি সাংসদদেরও পিপার স্প্রে নিয়ে ঢোকার নজিরও রয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংসদ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে সাংসদদের সহযোগিতা ও সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন স্পিকার ওম বিড়লা। প্রসঙ্গত, গত বুধবার লোকসভার অধিবেশন চলাকালীন দর্শকদের বসার গ্যালারি থেকে আচমকাই নিচে ঝাঁপ দিয়েছিলেন দুই যুবক-যুবতী। জুতোর ভিতর থেকে স্মোক ক্যানিস্টার বের করে হলুদ ধোঁয়ায় গোটা লোকসভা ভরিয়ে দিয়েছিলেন তারা। মুখে ছিল স্লোগান, “তানাশাহী নেহি চলেগা”। সেই একই সময় অধিবেশন কক্ষের বাইরে থেকেও স্লোগান দিতে দিতে রঙিন গ্যাস স্প্রে করছিলেন আরও কয়েকজন। ললিত ঝা ছিলেন এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড। ঘটনায় মোট ৬ জন জড়িত ছিল বলে জানায় পুলিশ।

About Post Author