সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ ডিসেম্বর: পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত যত এগচ্ছে ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে এবার ইডির স্ক্যানারে বিভিন্ন পুরসভার চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যানরাও। এই মামলার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পুরকর্তাদের নিয়ে অয়নের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। এমনকী ধৃত ব্যবসায়ী অয়ন শীলের সঙ্গে বিভিন্ন পুরসভার পদাধিকারীদের যোগসাজশ প্রকাশ্যে এসেছে। কোন পুরসভায় কাদের নিয়োগ করা হবে, সেই সব চাকরিপ্রার্থীদের বিষয়ে নিয়মিত তথ্য আদানপ্রদান হত ওই চ্যাট থেকেই। সেই সূত্র ধরেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নজরে এসেছেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্ত। পুরো বিষয়টি জানতে ইতিমধ্যেই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তর থেকে একটি তদন্ত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে দিল্লিতে।
আরও পড়ুন চিকেন বা মটন নয়, স্বাদ বদলাতে বানিয়ে ফেলুন আচারি পনির কোর্মা
যদিও পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে প্রথম থেকেই ইডির স্ক্যানারে ছিলেন নিতাই দত্ত। কেননা ২০১৪-২০১৮ সালের মধ্যে দক্ষিণ দমদম পুরসভার বিভিন্ন দফতরে চাকরি বিক্রির অভিযোগ ওঠে। সে সময়ে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্ত। কার্যত সেকারণেই ইডি-র নজরে ছিলেন নিতাইবাবু। কিছুদিন আগেই নিতাই দত্তের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালান ইডি আধিকারিকরা। ওইদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও। উদ্ধার হওয়া সেই নথির ভিত্তিতেই নিতাই দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারী অফিসাররা। প্রসঙ্গত, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির স্ক্যানারে রয়েছে পানিহাটি, বর্ধমান, দক্ষিণ দমদম, দমদম, নিউ বারাকপুর, কামারহাটি, মধ্যমগ্রাম, হালিশহর, কৃষ্ণনগর পুরসভা। এই ১০টি পুরসভায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি অনিয়ম হয়েছে বলেই অভিযোগ উঠেছে।
ইতিমধ্যেই পুরনিগম দফতরের কাছে এই দশটি পৌরসভা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য আবারও চেয়ে পাঠিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। ইডি তদন্তকারীরাই বলছেন, যে কটি পুরসভার নাম উঠে এসেছে, তার মধ্যে বেশিরভাগই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার। পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে রাজ্যজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি-সিবিআই। প্রতিদিনই দিকে দিকে অভিযান শুরু করেছে তারা। কিছুদিন আগেই নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন। কামারহাটি পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তারপর থেকেই রাজ্যের একাধিক পুরসভায় হানা দিচ্ছে ইডি। এর আগে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের ১২টি পুরসভাকে নোটিস পাঠিয়েছিল ইডি। রাজ্যের ওই ১২টি পুরসভার কাছেই ২০১৪ সাল থেকে কবে, কোথায়, কাকে নিয়োগ করা হয়েছে, সেই সংক্রান্ত খুঁটিনাটি তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছিল।


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ