সময় কলকাতা ডেস্ক, ৬ জানুয়ারি: রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। রেশন দুর্নীতি মামলায় শুক্রবার গ্রেফতার হয়েছেন বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য। এদিন রাতেই তাঁকে নিয়ে আসা হয় সিজিও কমপ্লেক্স। শনিবার সকালে তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় জোকা ইএসআইতে। এদিন মেডিকেল পরীক্ষার পর প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যানকে আদালতে হাজির করিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। জানা গিয়েছে, শঙ্করকে গ্রেফতারের পর জোকা ইএসআই হাসপাতালে মেডিক্যাল টেস্টের জন্য নিয়ে আসা হলে, জ্যোতিপ্রিয়র প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয়েছিল। তৃণমূল নেতার অবশ্য দাবি, রাজনৈতিকভাবেই জ্যোতিপ্রিয়র সঙ্গে পরিচয় ছিল তাঁর।
আরও পড়ুন অবশেষে ইডির হাতে গ্রেফতার বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য
উল্লেখ্য, টানা ১৭ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর অবশেষে শুক্রবার রাত ১২টা নাগাদ রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যকে গ্রেফতার করে ইডি। এদিন রাতেই তাঁকে নিয়ে আসা হয় সিজিও কমপ্লেক্স। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে,শঙ্করের বাড়ি থেকে রেশন দুর্নীতির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি পাওয়া গিয়েছে। উদ্ধার হয়েছে নগদ প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, শঙ্করের শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি অভিযানের পর লাখ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে। সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে নগদে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। জানা গিয়েছে, বাড়ির একটি আলমারিতে রাখা ছিল এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, যার মধ্যে বেশিরভাগই ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল। প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকাল থেকে বনগাঁর মোট পাঁটটি জায়গায় অভিযান চালিয়েছিলেন ইডির তদন্তকারী অফিসাররা। এদিন সকালে সন্দেশখালির তৃণমূল নেতা সাহাজাহান শেখের সরবেড়িয়ার বাড়িতে গিয়ে মারধর খেতে হয় ইডির আধিকারিকদের।
ওই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এদিন সন্ধে থেকেই বনগাঁয় প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রহরা বাড়ানো হয়। সূত্রের খবর, রাত ১২টা নাগাদ শঙ্করকে গ্রেফতার করে গাড়িতে তোলার আগে স্থানীয়দের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় ইডিকে। স্থানীয় মহিলারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ইডির গাড়ি লক্ষ্য করে চলে ইটবৃষ্টি। গালিগালাজ করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। শুক্রবার সকাল সাতটা নাগাদ বনগাঁর শিমুলতলায় শঙ্করের শ্বশুরবাড়িতে হানা দেয় ইডি। একইসঙ্গে তাঁর ভাইয়ের আইসক্রিম কলেও হানা দেয় ইডি কর্তারা সন্ধে ৭টা নাগাদ আইসক্রিম কল থেকে বেরোন তদন্তকারীরা। এদিন শঙ্করের মোট তিন জায়গায় ইডি আধিকারিকরা হানা দেয়। শঙ্কর আঢ্যর বাড়ি, তারই ম্যানেজার অঞ্জন মালাকারের বাড়ি এবং তার শ্বশুর বিনয় ঘোষের বাড়িতে হানা দেয় ইডি আধিকারিকরা। গ্রেফতারের পর ইডির গাড়িতে ওঠার সময় শঙ্কর সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘তদন্তকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করব।’


More Stories
আই-প্যাকের ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল ইডি
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব