Home » আর্জেন্টিনার পরাজয়ের নেপথ্যে ফকল্যান্ড?

আর্জেন্টিনার পরাজয়ের নেপথ্যে ফকল্যান্ড?

Oplus_131072

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ২৩ জুলাই : তবে কি আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক শক্তি গ্রাস করেছিল ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালকে? তবে কি আর্জেন্টিনার পরাজয়ের নেপথ্যে ফকল্যান্ড ?  ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয় নিয়ে চর্চা অব্যাহত আর এরমধ্যে উঠে এসেছে ফকল্যান্ড তত্ত্ব। নিজের বিশ্লেষণ সহ এরকম তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়ে আর্জেন্টিনার ফুটবল বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেস ডুকা দাবি করেছেন, ফকল্যান্ড ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ ও হুমকির কাছে মাথা নত করতে বাধ্য হয়েছে আর্জেন্টিনার ফুটবল দল। তাঁর মতে, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর মধ্যে লুকিয়ে ছিল ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের কাহিনী।

উল্লেখ্য, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা এবং ইংল্যান্ডের বৈরিতা ও সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে। ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপের অধিকার নিয়ে ব্রিটেন এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল।আর্জেন্টিনা যুদ্ধের সূত্রপাত করে  আক্রমণ শুরু করলেও যুদ্ধে পরাজয় হয় আর্জেন্টিনার। মৎস, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসে পরিপূর্ণ দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই বৃটেনের অধিকারভুক্ত। তবুও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এখনো আর্জেন্টিনার মানুষের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি প্রসঙ্গ।

প্রাসঙ্গিকভাবে , ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা মাত্র এক গোলের ব্যবধানে হারলেও স্পেনের বিরুদ্ধে তাদের প্রদর্শন ছিল অবিশ্বাস্যরকম খারাপ। আর্জেন্টিনার মত ফুটবলে শক্তিধর দেশকে স্পেন সারা ম্যাচে কার্যত দাঁড়াতেই দেয়নি যা নিয়ে অবাক ফুটবলপ্রেমীরা। কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতার লেশমাত্র ছিল না ফাইনালে।  আর এনিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য সহযোগে মুখ খুলেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেস ডুকা। তাঁর মতে, মাঠে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের দেখে মনে হচ্ছিল তাদের পা বাঁধা রয়েছে। পুরো ১২০ মিনিটে তারা একটিও অন-টার্গেট শট নিতে পারেনি, যা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোই কাল হয়েছে দাবি আর্জেন্টাইন ফুটবল বিশ্লেষক এবং  ফুটবল ক্লাব ‘ইন্দিপেনদিয়েন্তে’-র প্রাক্তন সভাপতি আন্দ্রেস “ডুকা” ডুকাতেনজাইলার -র (Andrés “Duka” Ducatenzeiler)।  তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনো স্বাভাবিক পরাজয় ছিল না, বরং আর্জেন্টিনার সঙ্গে বিশ্ব ফুটবলের রাজনৈতিক শক্তিগুলো চরম “ডাকাতি” করেছে।

ডুকার দাবি, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা প্রকাশ্যে “ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার” (Las Malvinas son Argentinas) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিলেন। এটিই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রিটিশ সরকার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফিফা (FIFA), উয়েফা (UEFA) এবং বৈশ্বিক পুঁজিবাদী পরাশক্তিরা কোনোভাবেই চায়নি এই ঘটনার পর আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হোক। এই কারণে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে ফাইনালে হারতে বাধ্য করা হয়েছে এবং বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।   তিনি উল্লেখ করেন যে, অধিনায়ক লিওনেল মেসি কিংবা কোচ লিওনেল স্কালোনি কেউই এই ম্যাচটি ছেড়ে দিতে চাননি। কিন্তু তাদের পেছনের পরিবার এবং অদৃশ্য শক্তির তীব্র হুমকির কারণে তাঁরা ম্যাচ ছেড়ে দিতে ও পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হন।তিনি ফাইনাল ম্যাচের কিছু সূক্ষ্ম ঘটনাকে ইঙ্গিত করে বলেন, আর্জেন্টিনার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্তিনেজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানানো এড়িয়ে গেছেন। অপরদিকে, স্পেনের গোলদাতা ফেরান তোরেস ট্রাম্পের স্লোগান সংবলিত ক্যাপ পরে মাঠে উদযাপন করেছেন। তাঁর মতে, এই পরাজয়ের মাধ্যমে সাধারণ ফুটবল ভক্তদের কাছ থেকে তাদের প্রিয় খেলাটি চুরি করে একটি “নিখুঁত ব্যবসা”-র রূপ দেওয়া হয়েছে।

বলাইবাহুল্য,আর্জেন্টিনায় এখনও ফকল্যান্ড খুব স্পর্শকাতর একটি বিষয় এবং আর্জেন্টাইন কিংবদন্তী ডিয়েগো ম্যারাডোনা তার আত্মজীবনী ‘আই অ্যাম এল ডিয়েগো’-তে লিখেছেন যে ১৯৮৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়টি ছিল মূলত ফকল্যান্ড যুদ্ধে হারের প্রতিশোধ। আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ক্রিচনার এই ২০১৩ সালেও ফকল্যান্ড ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। ডুকা যা বলছেন বা দাবি করেছেন সেখানেও ফুটবল ও ফকল্যান্ড মিলে মিশে একাকার, যে কথার সত্যি- মিথ্যে প্রমাণ করাও প্রায় অসম্ভব তবুও ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার অভাবিত ও বিস্ময়কর বিশ্রী পারফরমেন্স ডুকার তত্ত্বকে নতুন এবং বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।।

আর্জেন্টিনার পরাজয়ের নেপথ্যে ফকল্যান্ড? #falkland #fifaworldcup

About Post Author