Home » MANOJ TIWARI: বাংলা ক্রিকেটে মনোজ যুগের অবসান, বিদায়ী অনুষ্ঠানে ইডেনে চাঁদের হাট

MANOJ TIWARI: বাংলা ক্রিকেটে মনোজ যুগের অবসান, বিদায়ী অনুষ্ঠানে ইডেনে চাঁদের হাট

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ১৯ ফেব্রুয়ারি: শেষ দুই দশকে তিনি ছিলেন বাংলা ক্রিকেট দলের স্তম্ভ। ঘরোয়া ক্রিকেটে নজর কেড়েও জাতীয় দলে প্রাপ্য সুযোগ না পাওয়া ক্রিকেটারদের তালিকায় তার নাম থাকবে প্রথমের সারিতে। তিনি বাংলার মনোজ তিওয়ারি। রবিবার বিহারের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে দীর্ঘ ক্রিকেট সফরের ইতি টানলেন তিনি। রবিবার বিকেলে বাংলা ক্রিকেট সংস্থা বা সিএবির পক্ষ থেকে ইডেনে মনোজকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মনোজের বিদায়ী অনুষ্ঠানে প্রাক্তন থেকে বর্তমান, কোচ-কর্মকর্তা থেকে ক্রিকেটারের উপস্থিতিতে চাঁদের হাট বসেছিল ক্রিকেটের নন্দনকাননে।

 

গত বছর রঞ্জি ট্রফির পর ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিয়েছিলেন মনোজ। পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। বাংলার হাতে রঞ্জি ট্রফিটা আরও একবার তুলে দিয়ে অবসর নিতে চেয়েছিলেন। যদিও তা সম্ভব হয়নি। রবিবার বিহারকে বড় ব্যবধানে হারালেও রঞ্জ ট্রফি থেকে বিদায় নিতে হয়েছে মনোজের বাংলাকে। তারপর ৩৮ বছরের ক্রিকেটার জানিয়ে দিলেন এটিই তার বাংলার হয়ে শেষ ম্যাচ। বিহারের বিরুদ্ধে ম্যাচের পর দেখা যায় ইডেনের পিচে চুম্বন করছেন মনোজ। ম্যাচ জয়ের পর তাকে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন সতীর্থেরা। বিকেলে তাকে সংবর্ধনা জানায় সিএবি। সেই অনুষ্ঠানে হাজির ছিল গোটা বাংলা দল। উপস্থিত ছিলেন সিএবির কর্তারা। প্রিয় মনোজের বিদায়ী অনুষ্ঠানে ইডেনে পৌঁছে গিয়েছিলেন তার প্রিয় দাদিসৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও। সৌরভ ছাড়াও বাংলা দলে মনোজের সঙ্গে খেলা তার প্রাক্তন সতীর্থরাও উপস্থিত হয়েছিলেন। অনেক প্রাক্তন সতীর্থ ইডেনে উপস্থিত থাকতে না পারলেও ভিডিও বার্তায় মনোজকে ক্রিকেট পরবর্তী জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানান। সেই তালিকায় রয়েছেন দীপ দাশগুপ্ত, রোহণ গাওস্কর, মহম্মদ শামি, হরভজন সিংয়ের মতো একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটার।যদিও এই অনুষ্ঠানে দেখা মেলেনি বাংলা ছেড়ে ত্রিপুরায় চলে যাওয়া ঋদ্ধিমান সাহা এবং সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের। ছিলেন না মনোজের দীর্ঘদিনের সতীর্থ অশোক দিন্দাও।

আরও পড়ুন: MANCHESTER UNITED: জোড়া গোলে ইতিহাস হুইল্যান্ডের, লুটনকে হারালেও দলের খেলায় অস্বস্তি বাড়ল ইউনাইটেডের

২০০৪ সালে বাংলা দলে অভিষেক হয়েছিল মনোজের। ২০০৬ সালটি ছিল মনোজের কাছে স্বপ্নের মরশুম। ৭৯৬ রান এসেছিল মনোজের ব্যাট থেকে। ব্যাটিং গড় ৯৯.৫০। তারপর ডাক পেয়েছিলেন ভারতীয় দলে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মীরপুরে অভিষেক হওয়া ছিল সময়ের অপেক্ষা।তবে ম্যাচ শুরুর আগে ফিল্ডিং অনুশীলনের সময় কাঁধে চোট পান।অবশেষে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর সুযোগ আসে ২০০৮ সালের প্রথম দিকে। ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অভিষেক সুখের হয়নি মনোজের। ব্রেট লির বিধ্বংসী ইয়র্কারের শিকার হন তিনি। তারপর দলে সুযোগ পেতে সময় লেগেছে তিন বছর। তখন ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি হয়ে উঠেছেন পরিচিত মুখ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শতরান করলেও তারপর বিশেষ একটা সুযোগ পাননি জাতীয় দলে। রবিবার বিদায়ী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় সেই আক্ষেপও শোনা গেল মনোজের গলায়।

About Post Author