Home » Kolkata Knight Riders: নারিনের দুরন্ত ব্যাটিং, বিশাখাপত্তনমে দিল্লির বিরুদ্ধে দাপুটে জয় নাইটদের

Kolkata Knight Riders: নারিনের দুরন্ত ব্যাটিং, বিশাখাপত্তনমে দিল্লির বিরুদ্ধে দাপুটে জয় নাইটদের

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৪ এপ্রিল: চলতি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে জয়ের হ্যাটট্রিক কলকাতা নাইট রাইডার্সের। বুধবার বিশাখাপত্তনমে দিল্লি ক্যাপিটালসকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিল নাইটরা। প্রথমে ব্যাট করে কলকাতার দল তুলেছিল ২৭২ রান। সৌজন্যে ওপেনার সুনীল নারিনের ঝোড়ো ব্যাটিং করেন । জবাবে দিল্লির ইনিংস থামে ১৬৬ রানে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দলকে হারিয়ে আইপিএল পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এল শাহরুখ খানের দল।

বিশাখাপত্তনমে পিচ ব্যাটিং সহায়ক। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করাটাই এই মাঠে নিরাপদ। সেই কাজটিই এ দিন করলেন নাইট অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। অধিনায়কের সিদ্ধান্ত যে ঠিক ছিল টের পাওয়া গেল নাইটদের ইনিংস দেখে। মারমুখী মেজাজে ইনিংস শুরু করলেন দলের দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও সুনীল নারিন। শুরু থেকে ছক্কা হাঁকাতে শুরু করেন নারিন। যদিও দু’বার ভাগ্যের সহায়তা পান ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। বল তাঁর ব্যাট স্পর্শ করে উইকেটরক্ষক পন্থের হাতে গিয়ে জমা পড়েছিল। কিন্তু দু’বারই শুনতে পাননি পন্থ। দু’বার প্রাণ ফিরে পেয়ে বাইশ গজে ব্যাটিং তাণ্ডব করেন নারিন। খেলেন ৩৯ বলে ৮৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। তার ব্যাট থেকে এল সাতটি করে চার এবং  ছয়। ৮৫ রানের মধ্যে ৭০ রান তিনি করেন বাউন্ডারি মেরেই। চলতি আইপিএলের প্রথম শতরানটি তার ব্যাট থেকে আসবে বলে যখন মনে হচ্ছিল তখন মিচেল মার্শের বলে ক্যাচ দিয়েই ডাগআউটে ফেরেন তিনি। ফিল সল্ট ব্যক্তিগত ১৮ রানে ফিরলে নারিনকে এদিন সঙ্গ দেন তরুণ ব্যাটার আংগকৃশ রঘুবংশী। ১০৪ রানের জুটি গড়েন তারা। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে নামা ১৮ বছরের তরুণ করেন ২৭ বলে ৫৪ রান। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দলের বিরুদ্ধে কলকাতার বড় রানের ভিতটি গড়ে দিয়েছিলেন নারিন-রঘুবংশী জুটি। তারা ফিরলেও স্বস্তি ফেরেনি দিল্লি শিবিরে। তাদের বোলারদের নিয়ে এরপর ছেলেখেলা করলেন আন্দ্রে রাসেল। নিজের পুরনো দলের বিরুদ্ধে মারকুটে মেজাজে দেখা গেল তাকে। দ্রা রাসের ব্যাট থেকে এল ১৯ বলে ৪১ রান। শেষ দিকে নেমে ৮ বলে ২৬ রান করেন রিঙ্কু সিং। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৭২ রান তোলে কেকেআর। দিল্লির বোলারদের বিরুদ্ধে মোট ১৮টি ছক্কা মারেন কেকেআর। চোট থাকায় কুলদীপ খেলেননি। কিন্তু কলকাতার ব্যাটারদের তাণ্ডবলীলার বিরুদ্ধে দিল্লির বাকি বোলার ছাপ ফেলতে পারলেন না। সব থেকে বেশি রান দেন এনরিখ নোখিয়ে। ৪ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার। ইশান্ত ২ টি উইকেট নিলেও খরচ করলেন ৪৩ রান।

আরও পড়ুন: East Bengal: কেরালার বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়, ইস্টবেঙ্গলের সামনে প্লে অফে যাওয়ার অঙ্কটা কী?

বড় রানের লক্ষ্য মাথায় নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে আগ্রাসী খেলতে থাকে দিল্লির দুই ওপেনার। বড় শট খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় ওভারে উইকেট দিয়ে আসেন পৃথ্বী শ। তার পর একের পর এক ব্যাটার বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন। প্রথম দুটি ম্যাচে সমর্থকদের মনে দাগ কাটতে না পারলেও এই ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন মিচেল স্টার্ক। তিনি দু’টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। প্রথমটি ডেভিড ওয়ার্নারের ও দ্বিতীয়টি মিচেল মার্শের। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে মাঠে নামা বৈভব আরোরাও ৩ উইকেট তুলে নেন। ৩ উইকেট পান বরুণ চক্রবর্তীও। তবে এদিন চোটের জন্য বল করতে পারেননি হর্ষিত রানা। দিল্লির বাকি ব্যাটারেরা রান না পেলেও লড়াই করছিলেন ঋষভ পন্থ ও  ট্রিস্টিয়ান স্টাবস। অধিনায়ক পন্থ ২৫ বলে ৫৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন। গত ম্যাচে অর্ধশতরানের পর এই ম্যাচেও পন্থের রান পাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ভারতীয় নির্বাচকদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। স্টাবসের ব্যাট থেকে আসে ৩২ বলে ৫৪ রান। এই দুই ব্যাটার ফিরতে কলকাতার জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

About Post Author