Home » IPL 2024: ব্যর্থ গিলের লড়াই, ২০০ রান তাড়া করে গুজরাটকে হারাল পঞ্জাব

IPL 2024: ব্যর্থ গিলের লড়াই, ২০০ রান তাড়া করে গুজরাটকে হারাল পঞ্জাব

স্পোর্টস ডেস্ক, সময় কলকাতা, ৫ এপ্রিল: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল প্রতিবার কিছু নাটকীয় ম্যাচের সাক্ষী থাকে। যেখানে শেষের কয়েকটি ওভারে ম্যাচের হিসেব বদলে দেন কোনও অনামী ক্রিকেটার। সেই চিত্রই দেখা গেল বৃহস্পতিবার গুজরাট টাইটান্স বনাম পঞ্জাব সুপার কিংসের ম্যাচে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৯ রান তুলেছিল গুজরাট। সৌজন্যে অধিনায়ক শুভমন গিলের দুরন্ত ৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১ বল বাকি থাকতে জয়ের রান তুলে নেয় পঞ্জাব। প্রীতি জিন্টার দলের হয়ে ম্যাচের রঙ একার হাতে বদলে দেন অনামী শশাঙ্ক সিং।

টসে জিতে গুজরাটকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান পঞ্জাব অধিনায়ক শিখর ধওয়ান। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই চালিয়ে খেলতে থাকেন শুভমন গিল। কিন্তু রান পাননি অপর ওপেনার ঋদ্ধিমান সাহা। ১১ রানের মাথায় আউট হন তিনি। তিন নম্বরে নেমে ২২ বলে ২৬ রান করেন কেন উইলিয়ামসন। এই আইপিএলে এটি ছিল তার প্রথম ম্যাচ। কিউয়ি ব্যাটার ফিরতে অধিনায়ক শুভমন গিলের সঙ্গে জুটি গড়েন সাই সুদর্শন। দুজনেই দলের স্কোরবোর্ডকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যান। ১৯ বলে ৩৩ রান করে থামে সুদর্শনের ইনিংস। তবে এই ম্যাচে রান পাননি দলের আর এক নির্ভরযোগ্য ব্যাটার বিজয় শঙ্কর। তার অবদান ১০ বলে ৮ রান। বাকিরা উল্লেখযোগ্য রান না পেলেও দলের হয়ে একা লড়াই চালিয়ে যান অধিনায়ক গিল। পঞ্জাবের কোনও বোলারকে রেয়াত করেননি তিনি। চলতি আইপিএলে প্রথম শতরানটি প্রায় করেই ফেলেছিলেন গিল। কিন্তু মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা বল নষ্ট করায় শতরানের আগেই থামতে হয় তাকে। গুজরাট অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৪৮ বলে ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। তার ইনিংস সাজানো ছিল ছটি চার ও চারটি ছয়ের সাহায্যে। শেষের দিকে নেমে ৮ বলে ২৩ রানের ঝটিকা ইনিংস খেলেন রাহুল তেওয়াটিয়া।

আরও পড়ুন: East Bengal: কেরালার বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়, ইস্টবেঙ্গলের সামনে প্লে অফে যাওয়ার অঙ্কটা কী?

২০০ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পঞ্জাব। দ্বিতীয় ওভারে আউট হন দলাধিনায়ক শিখর ধওয়ান। ১ রান করেন তিনি। অপর ওপেনার জনি বেয়ারস্টো শুরুটা ভাল করলেও বড় রান পাননি। ১৩ বলে ২২ রান করে আউট হন তিনি। তিন নম্বরে নেমে প্রভসুখন গিল করেন ২৪ বলে ৩৫ রান। রান পাননি স্যাম কারন। ৫ রান করে আউট হন তিনি। সিকন্দর রাজার অবদান ১৫ রান। জীতেশ শর্মার শুরুটা ভাল হলেও বড় রান করতে পারেননি। ৮ বলে ১৬ রান করে আউট হন জীতেশ। তারপর দলের হাল ধরেন অনামী শশাঙ্ক সিং ও  ইমপ্যাক্ট হিসেবে নামা আশুতোষ শর্মা। শেষ চার ওভারে পঞ্জাবের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪৭ রান। তবে নিজেরা চাপ না নিয়ে গুজরাট বোলারদের উপর পাল্টা চাপ তৈরি করেন দুই ব্যাটার। স্বাগতিক দলের কোনও বোলার তাদের বিপাকে ফেলতে পারেননি। ২৫ বলে নিজের অর্ধশতরান করে ফেলেন শশাঙ্ক। শেষ ১২ বলে পঞ্জাবের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৫ রান। মোহিত শর্মার এক ওভারে ১৮ রান তোলেন শশাঙ্ক-আশুতোষ জুটি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৭ রান। প্রথম বলেই আশুতোষকে ফিরিয়ে পঞ্জাবকে ধাক্কা দেন দর্শন নালখাণ্ডে। ১৭ বলে ৩১ রান করে আউট হন আশুতোষ। যদিও তাতে জিততে সমস্যা হয়নি পঞ্জাবের। ওভারের পঞ্চম বলে সেই রান তুলে নেয় সফরকারী দল। ২৯ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন শশাঙ্ক সিং। ছ’টি চার ও চারটি ছয় আসে শশাঙ্কের ব্যাট থেকে। ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হন তিনি।

About Post Author