জয়দীপ মৈত্র,সময় কলকাতা, ২৮ জুন : ২০১৭ সালের ঘটনা। খুচরো ১ টাকা নিয়ে ঝামেলা বেঁধেছিল দোকানদার ও ক্রেতার। রেগেমেগে দোকানদারের নাক ফাটিয়ে দেয় ক্রেতা। মাঝে খুচরো মিলছিল, এতটাই বেশি খুচরো পাওয়া যাচ্ছিল যে খুচরো কয়েন নিতে চাইছিলেন না কেউ। তারপরে আবার সংকট দেখা দেয়। হাসপাতালের আউটডোরগুলিতে পরিস্থিতি হয় নিদারুণ। হাসপাতালের আউটডোরের টিকিট কাটার জন্য প্রয়োজনীয় দুটাকার আকাল পড়ায় হাসপাতালের সামনে বসে থাকার ভিখিরিদের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল রোগী আত্মীয়-পরিজনকে। খুচরোর আকাল দেখে গতবছর রিজার্ভ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেয় এটিএম থেকেও খুচরো কয়েন পাওয়া যাবে। কিন্তু কোথায় কী!খুচরো টাকা-কয়েনের আকাল বেড়েই চলেছে।জেলাগুলিতে খুচরোর আকালে রীতিমতো হিমশিম খাওয়ার উপক্রম। অনেক জেলায় যেমন দক্ষিণ দিনাজপুরে ভয়াবহ আকার নিয়েছে সংকট ।
দক্ষিণ দিনাজপুরে সারা বাজার চষে দেখা মিলছে না কয়েনের। বর্তমানকালে বাজারে হঠাৎ অন্তর্ধান ঘটেছে খুচরো টাকার। কোভিডকাল এবং তার পরবর্তীতে বাজারে এক টাকা, দুই টাকার কয়েনের প্রয়োজনের অধিক জোগান ছিল। এমন অবস্থা ছিল, দু’পাঁচ টাকার পণ্য কিনে ক্রেতারা খুচরো টাকা দিতে গেলে ব্যবসায়ীরা মেজাজ দেখিয়ে বলতেন, ‘এই খুচরো টাকা দেবেন না।’ ‘চলবে না।’ ‘হয় দশ, বিশটাকার নোট দিন, নচেৎ পণ্য ফেরত দিন।’ আর আজ। সেই কয়েনের জন্য এখন বিক্রেতারা পড়েছেন মহা ফ্যাসাদে। এক দুই টাকার কয়েনের খোঁজে তাঁরা ছুটছেন এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আর এক ব্যবসায়ীর নিকট। সম্প্রতি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর সহ সারা বংশীহারী এবং বুনিয়াদপুর এলাকায় এক টাকা, দুই টাকা, পাঁচ টাকা, এমনকি দশ টাকার কয়েন বা নোটের অভাব দেখা দিয়েছে।
মালদা থেকে বালুরঘাটগামী সরকারি বাসের কনডাক্টর সুনীল সরকার বলেন, ‘কী বলবো দাদা, দশ টাকা, পনেরো টাকা ভাড়া দিতে কেউ ১০০ টাকা আবার কেউ ৫০০ টাকার নোট ধরিয়ে দিচ্ছে। বলছে, খুচরো নেই। টাকা ফেরত দিতে আমায় হিমসিম খেতে হচ্ছে।’খুচরো টাকা-কয়েনের আকাল প্রসঙ্গে বুনিয়াদপুরের মুদি ব্যবসায়ী দীনেশ সাহা বলেন, ‘কয়েকদিন থেকে এলাকায় এক টাকা, দুই টাকার কয়েন এবং দশ, বিশ টাকার নোটের আকাল দেখা দিয়েছে। কোনও ব্যক্তি পাঁচ, দশ টাকার পণ্য কিনলে সোজা ১০০, ২০০ কিংবা ৫০০ টাকার নোট ধরিয়ে দিচ্ছে। জানি না, কী কারণে খুচরো টাকার আকাল দেখা দিল।’

খুচরো বিভ্রাট প্রসঙ্গে এসবিআই বুনিয়াদপুর শাখার ম্যানেজার নয়ন সরকার বলেন, ‘এই ব্যাপারে এখন কিছু বলা যাবে না।’ এখন দেখার, কবে বাজারে খুচরো টাকার জোগান এসে অভাব দূর হয়। তবে বর্তমানে খুচরো পয়সার অভাবে সমস্যায় জর্জরিত ব্যবসায়ীরা। সমাধানের কথা শোনেন তাঁরা, আশায় বুক বাঁধেন অথচ তাঁরা বিশবাঁও জলে।।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ