দীপ সেন, সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৮ জুনঃ লাল ফিতের ফাঁসে আটকে যায় কত কিছুই। আটকে যায় প্রেম-ভালবাসা, আটকে যায় দীর্ঘদিনের সঞ্চয়। এই ফাঁসেই নিজের গর্ভজাত শিশুকে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে বিভ্রান্ত হতে হচ্ছে এক গর্ভধারিনীকে। বিভিন্ন সরকারী অফিসে ছোটাছুটি করে রীতিমত নাকাল হতে হচ্ছে তাঁকে। এই ঘটনার শিকার গত বুধবার বিরাটি স্টেশনে শিশু চুরি গুজবে নিগৃহীতা মহিলা সরকারী আশ্বাসে আশা-আতঙ্কের দোলায় দুলছেন।

কেটে গিয়েছে দুই দিন। একরত্তি শিশু ও তার মায়ের জীবনে ঝড় বয়ে গিয়েছে। নিজের গর্ভের শিশুকে ব্যাগে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য শুনতে হয়েছে শিশু পাচারকারীর অপবাদ। পড়তে হয়েছে জনরোষের মুখে। পুলিশি হেনস্থার হাত থেকেও বাদ যাননি। অবশেষে সেই শিশু যে তাঁর নিজের প্রমাণ দিয়ে মিলেছে ছাড়পত্র। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে রেলপুলিশ শিশুটিকে চাইল্ড লাইনে পাঠায়। শুক্রবার পরিবারের বাকি সদস্যদের সঙ্গে নিজের শিশুকে ফিরিয়ে আনতে যান ওই মহিলা। কিন্তু তাদের কার্যত ফিরতে হয়েছে খালি হাতেই। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পর্যাপ্ত নথির অভাবেই এখনও সেই শিশুকে মা-বাবার কোলে ফেরানো যায়নি। বুধবার রাতে শিশুটির জন্মসংক্রান্ত শংসাপত্র পুলিশের কাছে জমা করেছে সেই পরিবার। শিয়ালদা রেলপুলিশ জানিয়েছে পর্যাপ্ত প্রমাণপত্র ও তদন্ত শেষ হলেই তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বুধবার। চলন্ত ট্রেনে এক যাত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি পাঁচ মাসের শিশু। জানা যায়, এক মহিলা যাত্রী ব্যাগ নিয়ে দত্তপুকুর থেকে শিয়ালদাগামী ট্রেনে ওঠেন। তার সঙ্গে ছিল একটি বাজারের ব্যাগ। ট্রেনটি চালু হলে ওই ব্যাগের মধ্যে একটি শিশু নজরে পড়ে সহযাত্রীদের। একটা সময় শিশুটি কাঁদতে শুরু করলে সন্দেহ হয় ট্রেনে উপস্থিত বাকি যাত্রীদের। বিরাটি স্টেশনে ট্রেন পৌঁছলে সেই মহিলা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। তখন বাকিযাত্রীরা তাঁকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে মহিলার সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সহযাত্রীরা সেই শিশু সমেত মহিলাকে তুলে দেয় বিরাটি স্টেশনে থাকা জিআরপির হাতে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় উত্তর ২৪ পরগনার অন্তর্গত এই স্টেশনে। বাচ্চা চুরির সন্দেহে ওই মহিলার উপর চড়াও হয় উন্মত্ত জনতা। এমনকি দীর্ঘক্ষণ রেল অবরোধও করা হয়। স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ দেখায় জনতা। তাদের সামাল দিতে রীতিমত হিমশিম খেতে হয় রেল পুলিশকে।
আরও পড়ুনঃ বেতন মিলছে না : অ্যান্ড্রু ইউল সংস্থার নিউ ডুয়ার্স চা বাগানের কর্মীদের ধর্ণা
মহিলাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে ওই মহিলাই শিশুটির জন্মদাত্রী। তখনই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ওই দিন রাতেই জিআরপিতে গিয়ে নিজেদের পরিচয় পত্র দিয়ে আসেন নিগৃহীতা মহিলার স্বামী রামেশ্বর পাণ্ডে। জানা গিয়েছে ওই মহিলার নাম বাসন্তী পাণ্ডে। মহিলার বাড়ি ওড়িশায় ও রামেশ্বরের বাড়ি বিহারে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি