সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩অগাস্ট : এ কোন বিজেপি? মহিলা চিকিৎসক খুনের প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হয়ে মহিলা নিগ্রহ করল বারাসাতের বিজেপি কর্মীরা। মিছিলের টোটোর ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলা আহত হন।প্রতিবাদ করতেই অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও তার শাশুড়িকে বেধড়ক মারধর করল বঙ্গ বিজেপির বারাসাত সাংগঠনিক জেলা বিজেপি শাখার নেতা কর্মীরা। বিজেপির তান্ডবের হাত থেকে রক্ষা পাননি অন্তঃসত্ত্বা মহিলার স্বামী-ও। মহিলাদের ওপরে শারীরিক নিগ্রহের প্রতিবাদ করতে নেমে মহিলা নিগ্রহে উন্মত্ত হয়ে উঠল বিজেপি নেতা -কর্মীরা। আশ্চর্যজনক ভাবে নিন্দনীয় ঘটনার দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করেছেন বারাসাত জেলা সভাপতি তবুও মহিলা নিগ্রহের প্রতিবাদ মিছিলে সামিল বিজেপির মহিলা নিগ্রহ করার এক নজিরবিহীন ও কলঙ্কিত ঘটনার সাক্ষী থাকল বারাসাত।
প্রসঙ্গত , আরজিকরের মহিলা চিকিৎসক হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে প্রবল ঝড় উঠেছে রাজ্যজুড়ে। ঝড় উঠেছে সামাজিক প্রচার মাধ্যমে, ঝড় উঠেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে, ঝড় উঠেছে চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী মহলেও। রাজ্যের অধিকাংশ মেডিক্যাল কলেজ সহ হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসক থেকে শুরু করে হাসপাতালে কর্মীরা পর্যন্ত বসেছেন অবস্থান-বিক্ষোভে।। এই ইস্যুতে প্রতিবাদে সামিল হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন বিরোধীদলও। উত্তর ২৪ পরগনার বিজেপির বারাসাত সাংগঠনিক জেলার দলীয় কর্মসূচি হিসেবে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল মঙ্গলবার । শুধু মাত্র প্রতিবাদ মিছিল নয় পাশাপাশি বারাসাত হাসপাতাল অভিযানও ছিল প্রতিবাদ কর্মসূচির অন্যতম অঙ্গ ।
মঙ্গলবার দুপুরে বিজেপি কর্মীরা বারাসাত হাসপাতালের উদ্দেশ্যে মিছিল করে রওনা দিলে বারাসাত হাসপাতালে গেটের মুখেই বচসা বাঁধে এক যুবকের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে। ঘটনা সূত্রপাত মিছিলের মাইক বাঁধা এক টোটো ওই যুবকের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পায়ের উপর উঠে গেলে প্রতিবাদ করে ওঠেন যুবক। বিজেপির অভিযোগ উত্তেজিত যুবক চড়াও হয় টোটো চালকের উপর। বচসা বাধার পর আচমকাই মিছিলে উপস্থিত বিজেপি কর্মীরা, চড়াও হয় ওই যুবকের উপর। লাগাম ছাড়া ভাবে মারধর করা হয় যুবককে, যুবককে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং তার বয়স্ক মা। উত্তেজিত বিজেপি কর্মীদের হাত থেকে রেহাই পান নি যুবকের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও যুবকের বয়স্ক মা। প্রচন্ড মারধরের শিকার হওয়ার পর কার্যত ঘটনাস্থল থেকে তাঁর পরিবার-পরিজন নিয়ে পালাতে বাধ্য হন যুবক। যুবকের অভিযোগ, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকেও যথেচ্ছভাবে ধাক্কা মারা হয়েছে।
বিজেপির প্রবল তাণ্ডবে মারধরের ছবি ছিল ভয়াবহ। যুবককে চারিদিক থেকে ঘিরে ধরে মারধর করেছে বিজেপি কর্মীরা। দুএকজন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন কর্মী অবশ্য আক্রান্তদের বাঁচানোর চেষ্টাও করেছিল। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এ কোন বিজেপি? যেখানে এক মহিলা চিকিৎসক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে, সেখানে একজন মহিলার উপর চড়াও হওয়া এবং মারধর করা এ কোন সংস্কৃতি?

এই বিষয়ে কিছুটা সাফাইয়ের সুর শোনা গেল বিজেপির বারাসাত সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তরুণ কান্তি ঘোষের মুখে।বিজেপি জেলা সভাপতির বক্তব্য একটা ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটনা ঘটেছিল এবং সেটা তিনি সামলে দিয়েছেন। এখানেও প্রশ্ন উঠছে। মহিলাদের শারীরিক নিগ্রহ করার পরে সামলাতে হয় তাহলে প্রতিবাদ মিছিল করে কি লাভ? ঘুরেফিরে একই প্রশ্ন, এ কোন বিজেপি?
মহিলা চিকিৎসকের হত্যাকান্ড নিয়ে সারা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে প্রতিবাদের ঝড়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে আরজিকর কাণ্ডে পুলিশ প্রশাসন যেভাবে প্রশ্নের চিহ্নের মুখে পড়েছে, শুক্রবার বারাসাতের হতচকিত করা নিন্দনীয় ঘটনার সময় পুলিশ প্রশাসন ছিল মৌন ও ঠুঁটো জগন্নাথ। পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় মহিলা নিগ্রহের মত্ত বিজেপি তান্ডবও আরেকটি প্রশ্নচিহ্ন।।


More Stories
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে
জয়শ্রীরাম বললেই রোগীর পাঁচশো টাকা ছাড়- বিতর্ক চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?