সানী রায়, সময় কলকাতা, ১৭ অক্টোবর : রাজ্যে ছয়টি কেন্দ্রে উপনির্বাচন আগামী ১৩ নভেম্বর। মাদারিহাট বিধানসভা উপনির্বাচন নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে ২৯ হাজারের বেশি ভোটে বিজেপির মনোজ টিজ্ঞা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজেশ লাকড়াকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। মনোজ টিজ্ঞা ২০২৪ সালের আলিপুরদুয়ার কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন। শিয়রে উপনির্বাচন, কী হবে, গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ গুলি বা কী কী?
নজরে উপনির্বাচন, মাদারিহাটে বাম-কংগ্রেস জোট কি আদৌ হবে? সময় বলবে সময়ের কথা
মাদারিহাট বিধানসভার উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই সক্রিয় হয়েছে সব রাজনৈতিক দলই। বুধবার তৃণমূল, বিজেপি ও বামফ্রন্ট প্রত্যেকেই নিজের নিজের মতো করে বৈঠক করে। বামেদের বৈঠকে উঠে এসেছে তাদের নির্বাচনি কৌশলের কথা। সেইসঙ্গে পায়ের তলায় মাটি পেতে তারা কংগ্রেসের হাত ধরতে খুবই আগ্রহী। জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক কিশোর দাসের কথায়, ‘তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী ভোট যেন আলাদা না হয় সেজন্যই কংগ্রেসকে পাশে চাইছি আমরা।’
বুধবার আলিপুরদুয়ারে সিপিএমের জেলা কার্যালয়ে বৈঠক করেন জেলা বামফ্রন্টের নেতারা। কিশোর বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকেই আমাদের কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। মাদারিহাট বিধানসভাভিত্তিক একটি নির্বাচনি কমিটি তৈরি হবে সেদিন। সেখানে সব দলের নেতারা থাকবেন। তাঁরাই বিভিন্ন কর্মসূচি ঠিক করবেন।’
কিশোর ছাড়াও এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল দাস, প্রবীণ সিপিএম নেতা কৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা আরএসপি’র সম্পাদক সুব্রত রায়। মাদারিহাট উপনির্বাচনে জেতার জন্য কংগ্রেসকে পাশে চাইছে বামফ্রন্ট। তবে বামেরা চাইলেই তো আর হবে না। কংগ্রেস কী চাইছে, সেটা এই মুহূর্তে জেলা রাজনীতিতে চর্চার বিষয়। কংগ্রেস কিন্তু আলাদা প্রার্থী দেওয়ার মানসিকতা নিয়েই এগোচ্ছে। যদিও জেলা নেতারা মুখে বলছেন, এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতারা।
মঙ্গলবারই মাদারিহাটে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করে এসেছেন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি শান্তনু দেবনাথ। সেখানে তো তিনি বলেই দিয়েছেন এবারের উপনির্বাচনে তাঁরা আলাদা প্রার্থী দিতে চান। কিন্তু বামেরা তো আপনাদের পাশে চাইছেন? এ প্রশ্ন করলে শান্তনুর বক্তব্য, ‘কংগ্রেসের প্রার্থী চাই আমরা। তিনটি নাম কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। যদি বামফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতা হয়, তাহলে ওরা প্রার্থী না দিয়ে আমাদের প্রার্থীকে সমর্থন করুক।’ তবে এখনই সিদ্ধান্তের কথা বলছেন না তিনি। শান্তনু বলছেন, ‘এই আসনে আমাদের প্রার্থী রাখার দাবি জানানো হয়েছে। বাকি রাজ্য নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেবে।’
বামফ্রন্টও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য রাজ্য নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে। প্রার্থী কে হবেন, কোন দলের হবেন, সেটাও রাজ্য থেকেই ঘোষণা করা হবে। তবে বামফ্রন্ট সূত্রে খবর, আগেও তো ওই আসনে আরএসপি’র প্রার্থীই দেওয়া হয়েছে। এবারও তাই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। চূড়ান্ত কথা যদিও কোনও দলের নেতাই বলতে নারাজ। আপাতত তাঁরা সাংগঠনিক কাজ এবং প্রচারে জোর দিতে চাইছেন। বৃহস্পতিবার বিধানসভাভিত্তিক নির্বাচনি কমিটি তৈরি হওয়ার পর আগামী ২১ অক্টোবর বিধানসভাভিত্তিক কর্মীসভা করবে বামফ্রন্ট। ২৪ অক্টোবর মনোনয়ন জমা দিতে পারেন বামফ্রন্ট প্রার্থী। এরপর অঞ্চলভিত্তিক কর্মীসভা হবে। আরএসপি’র জেলা সম্পাদক সুব্রত রায় জানিয়েছেন, কর্মীসভার মাধ্যমেই প্রচার চলবে।

তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির প্রার্থী কে কে হতে পারেন?
আগামী ১৩ নভেম্বর মাদারিহাট সহ রাজ্যের ছ’টি বিধানসভায় উপ নির্বাচন। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই মাদারিহাটে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী কে তা নিয়ে দুই দলেই জল্পনার পারদ চড়ছে।
পদ্ম শিবিরের অন্দরের খবর, মাদারিহাট বিধানসভার উপ নির্বাচনে লড়ার জন্য ইতিমধ্যেই ১৭টি আবেদন জমা পড়েছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া প্রাক্তন বিধায়ক ও সাংসদ কুমারগ্রামের দশরথ তিরকি। বাকি ১৬ জন অবশ্য মাদারিহাট বিধানসভা এলাকার ভূমিপুত্র।
চব্বিশের লোকসভা ভোটে বিজেপি দলের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলাকে টিকিট দেয়নি। তা নিয়ে সেইসময় প্রকাশ্যেই বারলা ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। ফলে দলের সঙ্গে বারলার অনেকটাই দূরত্ব তৈরি হয়েছে। শোনা যাচ্ছে বারলাও মাদারিহাটের উপ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে জানতে বারলাকে এদিন একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মেসেজেরও জবাব দেননি।
এনিয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি এমপি মনোজ টিগ্গা বলেন, মাদারিহাট বিধানসভার উপ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য বারলার কোনও আবেদন পাইনি। তবে প্রার্থী হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে ১৭ জন আবেদন করেছেন। তারমধ্যে দশরথবাবুর আবেদনও জমা পড়েছে। প্রার্থী হতে যে কেউ আবেদন জানাতেই পারেন। তাতে বাধা নেই। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী বাছাই হবে দিল্লি থেকে।
অন্যদিকে, শাসক দলে কে প্রার্থী হবেন তা নিশ্চিত করে জানা না গেলেও তৃণমূলের অন্দরের খবর, উপ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন দলের মাদারিহাট ব্লক সভাপতি জয়প্রকাশ টোপ্পো। আবার তৃণমূলের অন্য একটি সূত্রের খবর, দলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা দলের জেলা সভাপতি প্রকাশচিক বড়াইককে উপ নির্বাচনে জিতিয়ে এনে বিধানসভায় পাঠাতে চায় দল। সেই জন্য এই উপ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রকাশচিকের নামও ভেসে উঠেছে। যদিও তা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব মুখে কুলুপ এঁটেছে।
প্রকাশচিক বড়াইক বলেন, প্রার্থী কে হবেন তা ঠিক করবেন দলনেত্রী। আমরা দলের সৈনিক মাত্র। ইতিমধ্যেই দলের প্রার্থীর বিষয়ে দলীয় সমীক্ষক দল মাদারিহাট থেকে সমীক্ষা করে ফিরে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই জোরদার প্রচার শুরু হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এবার আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি দলের মাদারিহাটের দলীয় বিধায়ক মনোজ টিগ্গাকে প্রার্থী করেছিল। মনোজবাবু জিতে গিয়েছেন। তারজন্যই মাদারিহাট বিধানসভার উপ নির্বাচন হচ্ছে। যাইহোক না কেন ইতিমধ্যেই পারদ চড়ছে মাদারিহাট বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে।।


More Stories
জেলায় জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের ও সন্দেহভাজনদের আটক করে রাখা হচ্ছে হোল্ডিং সেন্টারে
বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের ভালোবাসায় মুগ্ধতার বিশেষ প্রয়াস
রোহিঙ্গা ঠেকানো লক্ষ্য বিজেপির, বললেন খাদ্যমন্ত্রী