Home » বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতিতে জঙ্গিদের নিশানায় পশ্চিমবঙ্গ! টার্গেট ভারতের চিকেন নেক 

বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতিতে জঙ্গিদের নিশানায় পশ্চিমবঙ্গ! টার্গেট ভারতের চিকেন নেক 

সময় কলকাতা ডেস্ক, চুমকি সূত্রধর, ২১ ডিসেম্বর: ভারতে নাশকতার নীল নকশা তৈরি করছে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন। জঙ্গিদের নিশানায় ভারতের চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডর। অর্থাৎ জঙ্গিদের নিশানায় এখন পশ্চিমবঙ্গ। কী কী কৌশল অবলম্বন করছে জঙ্গিরা? কেন পশ্চিমবঙ্গ টার্গেট? দেখুন আমাদের প্রতিবেদন।

আরও পড়ুন: “আম্বেদকর, আম্বেদকর, আম্বেদকর….!” শাহের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে পথে নামছে মমতা

২৪ এর কোটা আন্দোলনকে ঘিরে এখনো উত্তপ্ত বাংলাদেশ। কোটা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস। তারপর থেকে কার্যত লাগাম ছাড়া ভাবে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টাকে ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সামাজিক প্রচার মাধ্যমের দৌলতে সারা বিশ্ব এখন ওয়াকিবহাল কি ঘটছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক দুর্দশায় দীর্ণ বাংলাদেশ এখন হাত বাড়িয়েছে পাকিস্তানের দিকে। স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্তানের অত্যাচারের ইতিহাস ভোলানর জন্য মোহাম্মদ ইউনূসের পরিকল্পিত রিসেট বটন ইতিমধ্যেই চাপা শুরু করেছে  বাংলাদেশ। তার ফলস্বরূপ বাংলাদেশের ছড়িয়ে পড়েছে ভারত বিদ্বেষের হাওয়া। আর এই ভারত বিদ্বেষকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা ভারতে তৎপর হয়েছে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহেরি প্রকাশ্যে জনসভা মিটিং মিছিল করেছে। আন্দোলনের সময় ৫৮২৯টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৬ লক্ষ তিরিশ হাজারের বেশি গোলাবারুদ ছিনতাই হয়েছিল। বাংলাদেশ পুলিশের সন্দেহ সেই সমস্ত আগ্নেয়াস্ত্র এবং গোলাবারুদ পৌঁছে গিয়েছে জঙ্গিদের হাতে। সেই সমস্ত আগ্নেয়াস্ত্র গোলাবারুদ ভারতে ব্যবহার করার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সম্প্রতি কর্নাটকের চিত্র দুর্গ থেকে ৬ জন বাংলাদেশীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে ভারতের ঢুকেছে তারা তারপর কলকাতা থেকে জাল পরিচয় পত্র সংগ্রহ করে পৌঁছে গিয়েছে কর্ণাটক। একাধিকবার এই প্রশ্ন উঠেছে যে ভারতে জাল পাসপোর্ট আধার কার্ড বানানো কি সহজলভ্য? সম্ভবত সেই প্রশ্নের উত্তর এই জঙ্গিদের গ্রেপ্তারের পর অনেকটাই পরিষ্কার। বাংলাদেশের ২৪ এর আন্দোলনের পর ৭০ জন কুখ্যাত জঙ্গি বাংলাদেশের জেল ভেঙে পালিয়েছে। পাশাপাশি জামিনে মুক্তি পেয়েছে যে এম বির বিভিন্ন শাখা সংগঠনের ১৭৪ জন জঙ্গি। তাদের মধ্যে ১১ জন শীর্ষ সন্ত্রাসবাদী মুক্তি পেয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গাফিলতি এবং তাদের অদৃশ্য অঙ্গুলি হেলনে এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

বাংলাদেশে কুখ্যাত জঙ্গিদের জামিন ,জেল থেকে পালানো এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে পাকিস্তান প্রীতি অনেকটাই আশঙ্কার বাতাবরণ তৈরি করেছে ভারতে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কি ভারতে আবার নাশকতার একাধিক ঘটনা ঘটবে? কারণ ভারতের একাধিক অংশ এখনো কাঁটা তার বিহীন। কোচবিহারের গৌহাটি ফ্রন্টিয়ারের অধীনে প্রায় ১১০ কিলোমিটার স্থল সীমা রয়েছে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। যার মধ্যে ৫০ কিলোমিটার কাঁটা তাররা বিহীন। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একাধিক অঞ্চল এখনো কাঁটাতার বিহীন। ফলে জঙ্গিদের ভারতে প্রবেশ অনেকটাই সহজ। সে কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে বিএসএফ এবং এন এস এ। বাংলাদেশের সাম্প্রতিকতম পাকিস্তান প্রীতি ভারতের ক্ষেত্রে অনেকটাই আশঙ্কা। কারণ আন্তর্জাতিক মহলের মতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পেছনে পাকিস্তানের অঙ্গুলি হেলান ছিল। ফলে পাকিস্তানের গুপ্তচর বিভাগ আইএসআই এই সুযোগে বাংলাদেশে তাদের স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে জঙ্গি সংগঠনগুলো পাকিস্তান মদতপুষ্ট হয়ে আরও সক্রিয় হতে পারে ভারতে। বাংলাদেশের এই পাকিস্তান প্রীতির কারণে ইতিমধ্যে আমেরিকার রোস নজরে পড়েছে বাংলাদেশ। আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের এফ সিক্সটিন বিমান কেনার চুক্তি ইতিমধ্যেই আমেরিকার রদ করেছে। কারণ বাণিজ্যিক এবং সৌহার্দ্যের সম্পর্ক বরাবারি ভারত আমেরিকার মধ্যে অটুট। সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোন পদক্ষেপ না নিলেও জঙ্গি সংগঠনের মাধ্যমেঈ নাশকতামূলক কার্যকলাপ কে প্রশ্রয় দিতে পারে বাংলাদেশ, সে সম্ভবনা তৈরি হচ্ছে বলে মত ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার। কারণ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মতে আল-কায়েদার ভারত উপমহাদেশীয় শাখা সংগঠন আনসারউল্লাহ বাংলা টিম ইতিমধ্যে ভারত জুড়ে নাশকতার ছক কষেছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত ১০ ই ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে অপারেশন প্রঘাত। ১৭ এবং ১৮ ডিসেম্বর দুদিনের অসীম কেরল এবং পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৮ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে দুইজন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে দেশবিরোধী কার্যকলাপের জন্য। ধৃতদের কাছ থেকে মিলেছে বিভিন্ন নিষিদ্ধ বই উস্কানি মূলক ই, আনসারুল্লাহ বাংলা শাখার প্রধান জসীমউদ্দীন রহমানের সহযোগী মোঃঈ ফারহান ইসরাকের নির্দেশেই ভারতে ঢুকেছে জঙ্গি সংগঠনের এই দল। প্রসঙ্গত মোঃ ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বক্তব্যে তিনি জানিয়েছিলেন ভারত যদি তাদের কার্যকলাপে না গলায় সেক্ষেত্রে ভারতের সেভেন সিস্টার অক্ষত থাকবে না। একাধিক বিএনপি নেতা এবং জামাত নেতার মন্তব্যে এটা এটা পরিষ্কার ছিল যে ভারতের চিকেন নেক অর্থাৎ শিলিগুড়ি করিডার বাংলাদেশের নেতাদের টার্গেট। আর সেই টার্গেটেকেই নিজেদের টার্গেট হিসেবে বেছে নিয়েছে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলো। সম্প্রতি মিশরে অনুষ্ঠিত ডি এইট সম্মেলনে দেখা হয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ ইউনুসের। পারস্পারিক সম্পর্কের উন্নয়নের কথাই আলোচনা হয়েছে দুজনের মধ্যে। যদিও এই সাক্ষাৎ নিয়ে অশনি সংকেত দেখছে ভারতের কূটনৈতিক মহল। বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহারি, আসরুল্লাহ বাংলা টিম এবং জামাত উল মুজাহিদ্দিন ভারতে যে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে সেটা প্রমাণিত।। ফলে এই জঙ্গিদের প্রতিহত করতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে ভারতের একাধিক রাজ্যের গোয়েন্দা দপ্তর পাশাপাশি স্পেশাল ট্রাস্ট ফোর্স।  জঙ্গিদের মূল লক্ষ্য যে পশ্চিমবঙ্গ সেটা বারবার প্রমাণিত। বাড়ানো হচ্ছে নজরদারি, বেড়েছে ভারতজুড়ে একাধিক গোয়েন্দা এজেন্সির তৎপরতা। ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্সির এখন প্রধান লক্ষ্য এই জঙ্গি সংগঠন গুলোর টিকর ভারত থেকে উপড়ে ফেলা।

About Post Author