Home » পাকিস্তান থেকে ফের পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রামে, বাংলাদেশ-পাকিস্তান সখ্যতা বাড়ছে!

পাকিস্তান থেকে ফের পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রামে, বাংলাদেশ-পাকিস্তান সখ্যতা বাড়ছে!

সময় কলকাতা ডেস্ক, চুমকি সূত্রধর, ২১ ডিসেম্বর: পাকিস্তানের করাচি থেকে ফের একটি পণ্যবাহী জাহাজ বাংলাদেশের চট্রগ্রামে আসল। গত মাসে পণ্য নিয়ে প্রথম এসেছিল পাক জাহাজ। বাংলাদেশে এর আগে পাকিস্তানের জাহাজ নোঙর করেনি। তবে এবার ঘটল অন্য ঘটনা। পণ্যবাহী জাহাজ নোঙর ফেলল চট্টগ্রামে। ইউনুসের আমলে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সখ্যতা বেড়েছে! পাকিস্তান থেকে আমদানি বেড়েছে ২৭ শতাংশ ভারত থেকে আমদানি কমেছে!

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতিতে জঙ্গিদের নিশানায় পশ্চিমবঙ্গ! টার্গেট ভারতের চিকেন নেক 

পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে ফের পণ্যবাহী জাহাজ আসল বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে। শুক্রবার সকালে দুবাই-করাচি হয়ে এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝান নামে জাহাজটি দ্বিতীয়বারের মতো চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছয়। জাহাজটিতে প্রায় ৮২৫ একক কনটেইনার পৌঁছেছে। এরপর খালি কনটেইনার নিয়ে ফেরার কথা জাহাজটির। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের করাচি বন্দরের সঙ্গে চট্টগ্রামের জাহাজের মাধ্যমে যোগাযোগ চালু হয় গত নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে। প্রথমবার ৩৭০ একক কনটেইনার নিয়ে পৌঁছয় জাহাজটি। এরমধ্যে পাকিস্তান থেকে আনা হয় ২৯৭ একক কনটেইনার, বাকিগুলো সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে। এবার দ্বিতীয়বারের মতো পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে আসা জাহাজটিতে প্রথমবারের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি কনটেইনার রয়েছে। এতে চিনি, সোডা অ্যাশ, ডেনিম ফেব্রিক, সুতো, ডলোমাইট লুম্পস, ন্যাচারাল ডলোমাইট, শুঁটকি, ইউপিএস, আলু, রেডিয়েটর কোর ইত্যাদি মালপত্র এসেছে। শিপিং এজেন্ট, বন্দর ব্যবহারকারী ও আমদানিকারকদের মতে, দুবাই-করাচি-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চালু হওয়ায় ভাড়া ও সময় দুটোই কমেছে। এতে লাভবান হয়েছেন এই রুটের আমদানি ও রপ্তানিকারকরা। মহম্মদ ইউনুস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য বাড়াতে নেওয়া পদক্ষেপগুলির মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য অন্যতম। দায়িত্ব নেওয়ার সাড়ে চার মাসের মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গেই ইউনুস দু’বার সাক্ষাৎ করেছেন। ১৯৭১-এর সংঘাত, যুদ্ধের অতীত পাশ কাটিয়ে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে সম্প্রতি হয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, মাত্র সাড়ে চার মাসে দুই দেশের সম্পর্ক এতটাই রকেট গতিতে এগিয়েছে যে, পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আমদানি ২৭ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। গত ৫ আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পালা বদলের পর ভারতের সঙ্গে শুধু সম্পর্কের অবনতির জেরে কমেছে রপ্তানি। সূত্রের খবর, মহম্মদ ইউনুস পণ্য আমদানিতে ভারতের উপর নির্ভরতা কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পরিবর্তে পাকিস্তান থেকে আমদানি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ফলে জিনিসপত্রের দামও বেশি।

ঢাকার বাণিজ্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ১৭৯.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সামগ্রী। গত বছরের তুলনায় এই পরিমাণ ২৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, ভারত থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ২ হাজার ৫২.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় অনেকটা কম। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ পোশাক ও শিল্পের কাঁচামাল, রাসায়নিক এবং পেঁয়াজ-আলু আমদানি করত। এখন বিপুল পরিমাণে চিনি-আমদানি শুরু করেছে। সেই সঙ্গে আগের তুলনায় সব পণ্যই পাকিস্তান থেকে বেশি পরিমাণে আমদানি করছে।

About Post Author