সময় কলকাতা ডেস্ক:- বহু চেষ্টায় শেষ রক্ষা হল না, দেশ জুড়ে সাধারণ মানুষের প্রার্থনা বিফলে গেল। ৭০০ ফুট বোরওয়েল থেকে উদ্ধার ৩ বছরের চেতনার নিথর দেহ! ১০ দিন, ২৪০ ঘণ্টা। ৭০০ ফুট গভীর বোরওয়েলে আটকে ছিল ৩ বছরের চেতনা। অবশেষে বুধবার তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
সমস্ত ধরনের প্রচেষ্টা করা হয়েছে
টানা ১০ দিন বিভিন্ন কৌশল বদল করে করে অবশেষে উদ্ধার হয় চেতনা, তবে ততক্ষণে সব শেষ। রাজস্থানে ৭০০ ফুট কুয়ো থেকে ৩ বছরের শিশু চেতনার দেহ উদ্ধার করল র্যাট-হোল খননকারী দল। উদ্ধারের পর তড়িঘড়ি ওই শিশুকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ডাক্তাররা সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
প্রার্থনা করেছিল সারা দেশবাসী
গত ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে রাজস্থানের কোটওয়ালেতে খেলতে খেলতে ৭০০ ফুট গভীর ওই কুয়োয় পড়ে যায় ৩ বছরের চেতনা। প্রথমে চেতনা কুয়োয় ১৫ ফুট গভীরে আটকে ছিল। পরিবারের লোকেরা তাকে টেনে বার করার চেষ্টা করতে গেলে উল্টে আরও ১৫০ ফুট গভীরে পড়ে যায় চেতনা। এর পর শুরু হয় উদ্ধারকাজ। টানা ১০ দিন ধরে উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছিল গ্রামবাসীদের। নাওয়া- খাওয়া ভুলে অনেকেই ওই কুয়োর কাছে ভিড় করেছিলেন। বাবা-মায়ের চোখেমুখে ছিল আতঙ্ক। সকলেই প্রার্থনা করছিলেন যাতে চেতনা জীবিত অবস্থায় বেরিয়ে আসে। শুধু ওই গ্রামের লোকেদের নয় গোটা দেশের নজর ছিল উদ্ধারকাজের দিকে। বুধবার উদ্ধারকারী দলের সদস্যেরা পৌঁছে গিয়েছিল শিশুটির কাছে। সন্ধ্যায় ওই শিশুকে কুয়োর বাইরে বার করে আনেন তাঁরা। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছে।
কুয়োয় পড়ে যাওয়ার পরই উদ্ধারকাজ শুরু করে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পরে আসে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরাও। যদিও সাত দিন লাগাতার সব রকম চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তাই শেষ চেষ্টা করতে মাঠে নামেন দক্ষ খনি-শ্রমিকেরা। নিষিদ্ধ ‘র্যাট-হোল মাইনিং’ অর্থাৎ ইঁদুর-গর্ত খনন পদ্ধতিতে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন তাঁরা।
কুয়োর মধ্যে যাতে চেতনার শ্বাস-প্রশ্বাসের অভাব না হয়, তার জন্য কুয়োর মুখ দিয়ে একটি অক্সিজেন পাইপও প্রবেশ করানো হয়। একটি পাইলিং মেশিনের সাহায্যে শুরু হয় খননের কাজ। শিশুকে উদ্ধার করতে ২০ ফুট দূরে কুয়োর সমান্তরালে ১৭০ ফুট গভীর সুড়ঙ্গ খোঁড়া হয়। তবে প্রথমে উদ্ধারকারী দল শিশুটিকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তা ব্যর্থ হওয়ায় শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। জেলা প্রশাসন প্রথম থেকেই উদ্ধারকাজে নজরদারি চালায়। শিশুটি যাতে ১৭০ ফুট থেকে আরও নীচে চলে না যায়, তার জন্য ‘জে’ আকৃতির হুক এবং ‘আমব্রেলা বেস’ তৈরি করে আটকে রাখার ব্যবস্থা করে উদ্ধারকারী দল। তার পর ধীরে ধীরে কুয়োর ২০ ফুট দূরের গর্ত দিয়ে কুয়োর মধ্যে প্রবেশ করে তারা। বুধবার উদ্ধার করা হল ঠিকই তবে চেতনার নিথর দেহ।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
যুদ্ধের জাঁতাকলে ভারত