সময় কলকাতা ডেস্ক:-মালদহের ইংরেজবাজারের কাউন্সিলর খুনে আরও ২ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতরা দুজনেই ইংরেজবাজারের বাসিন্দা। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার ৫। সেই ঘটনার তদন্তে ক্রমশ স্পষ্ট হল বিহার যোগ। বিহার থেকে সুপারি দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল দৃষ্কৃতীদের? এমনই প্রশ্ন উঠছে। তবে কাউন্সিলরকে খুনের মোটিভ কী, দুদিন কেটে গেলেও তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তৃণমূল নেতা দুলাল সরকার খুনের ঘটনায় সরাসরি পুলিশের গাফিলতি কথা বলেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, পুলিশ সুপারের অপদার্থতার জন্য এটা হয়েছে।তাঁর নির্দেশে মালদহে ছুটে যান মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও সাবিনা ইয়াসমিন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভপ্রকাশের পরেই তৎপর হয় পুলিশ। শুরু হয় ধরপাকড়। একের পর এক গ্রেফতারি। আগে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার সেই গ্রেফতারির তালিকায় যুক্ত হল আরও ২ জন। ধৃতরা হল অভিজিৎ ঘোষ এবং অমিত রজক। তারা দুজনেই ইংরেজবাজারের বাসিন্দা।
ধৃত অভিজিৎ ঘোড়াপীড়ের ঘোষপাড়ার বাসিন্দা। অমিত ঝলঝলিয়ার রেল কলোনির বাসিন্দা। গত ২ জানুয়ারি, গত বৃহস্পতিবার দিনের আলোয় মাথায় গুলি লেগে মৃত্যু হয় মালদহের বর্ষীয়ান নেতা দুলাল সরকারের। ঠিক যেন বলিউড অ্যাকশন সিনেমার দৃশ্য। তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে ফিল্মি কায়দায় ভরা রাস্তায় বাইক থামিয়ে চলে এলোপাথাড়ি গুলি। লুটিয়ে পড়েন মালদহের ইংরেজবাজার পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর দুলাল সরকার। পরপর গুলি চালানো হয় তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে। একটি গুলি লাগে কাউন্সিলর দুলাল সরকারের মাথায়। সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে আনা হয় মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মৃত্যু হয় তৃণমূল নেতার।
এই ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই খুনের ঘটনায় দুজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে একজন ছিল বিহারের বাসিন্দা মহম্মদ সামি আখতার। আরেকজন টিঙ্কু ঘোষ ইংরেজবাজারের বাসিন্দা। আরও একজন আব্দুল গনিকে পুলিশ হরিশ্চন্দ্রপুর সংলগ্ন বিহার সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। এরই মধ্যে জোরাল হচ্ছে বিহার-যোগ তত্ত্ব। খুনে অভিযুক্ত বিহারের দুই দুষ্কৃতী-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতারের ঘটনায় সেটাই স্পষ্ট। পুলিশের অনুমান, বিহার থেকেই মোটা টাকার বিনিময়ে ভাড়া করে আনা হয়েছিল সুপারি কিলারদের। টানা প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে রেইকি করেছিল দুষ্কৃতীরা। কয়েকদিন ধরেই দুলাল ওরফে বাবলা সরকার কোথায় যাচ্ছেন, কখন যাচ্ছেন, সেই সব দিকে নজর রাখছিল দুষ্কৃতীরা। তারপরই খুন করা হয় কাউন্সিলরকে। গত বছর নভেম্বরে কলকাতার উপকণ্ঠে কসবায় নিজের বাড়ির সামেনই দুষ্কৃতী হামলার শিকার হয়েছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। আততায়ীর রিভলবার লক হয়ে যাওয়ায় বরাতজোরে বেঁচে যান সুশান্ত।
বৃহস্পতিবার মালদহে তৃণমূল নেতা দুলাল সরকার ওরফে বাবলাকে খুনের ঘটনায় সেই কসবার ছায়া দেখছেন তদন্তকারীরা। সুশান্তকে খুনের ঘটনায় বিহারের যোগ মিলেছিল। মালদহে কাণ্ডেও তাই। এমনকী, কসবার মতো মালদহ কাণ্ডেও খুনের ১০ দিন আগে থেকে দুষ্কৃতীরা বাবলা সরকারকে রেইকি করছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই উদ্ধার হয়েছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও নম্বর প্লেটবিহীন বাইক। ইংরেজবাজার থানার পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তকারী অফিসাররা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে খুন হয়ে থাকতে পারেন দুলাল ওরফে বাবলা সরকার। সেই সূত্রেই পুলিশ এগোচ্ছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক শত্রুতার বিষয়গুলিও উড়িয়ে দিতে নারাজ তদন্তকারীরা। ধৃতদের জেরা করে রহস্যভেদের চেষ্টায় পুলিশ।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি