সময় কলকাতা ডেস্ক:- অবশেষে আদালতের নির্দেশে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জখম ছাত্র ইন্দ্রানুজ রায়ের ইমেলকেই এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করল পুলিশ। ১ মার্চের ঘটনার পরে ২ মার্চে করা ওই ইমেলে ইন্দ্রানুজের আবেদন ছিল, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র এবং তাঁর গাড়িরচালকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি সহ অন্যান্য অপরাধে উপযুক্ত ধারায় এফআইআর রুজু করতে হবে। তাঁদের যথোপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে। যদিও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি শিক্ষামন্ত্রী। ব্রাত্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি যাদবপুরের ‘অসুস্থ’ উপাচার্য ভাস্কর গুপ্তকে দেখতে গিয়ে জানিয়েছেন, ‘তাঁর উপরে চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি ইন্দ্রানুজের বিরুদ্ধে এফআইআর করেননি। এমনকী ব্রাত্য যে সংগঠনের সভাপতি সেই ওয়েবকুপাকে নিষেধ করেছিলেন ইন্দ্রানুজের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে। কারণ, ইন্দ্রানুজকে তিনি একজন ছাত্র হিসেবেই দেখছেন।’
এফএফআইয়ের হুংকার
অন্যদিকে, তৃণমূলের ‘খেলা হবে’র পাল্টা ‘চালিয়ে খেলার’ হুঙ্কার দিল এসএফআই। এসএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘বহিরাগত গুন্ডারা ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে যদি ছাত্রীদের মারে, তৃণমূল-টিএমসিপি-পুলিশ এক হয়ে ক্যাম্পাসের মধ্যে মেয়েদের রাস্তায় ফেলে পেটায়, তা হলে কি সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা আক্রমণকারীদের দিকে ফুল ছুঁড়বে? এটা ২০২৫ সাল। ওরা যদি খেলা হবের পরিকল্পনা করে থাকে, তা হলে আমরাও বলছি, ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে চালিয়ে খেলা হবে। সেটার জন্য যেন সকলে প্রস্তুত থাকে।’
ইন্দ্রানুজের ইমেলে লেখা
ইন্দ্রানুজের ইমেলে লেখা হয়েছে , “বিশ্ববিদ্যালয়ের বেহাল দশা ও ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছিলাম। তিনটে নাগাদ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি নষ্ট করতে তৃণমূলের গুন্ডারা হামলা চালায়। ব্রাত্য বসুর প্ররোচনায় বহিরাগত তৃণমূলী গুন্ডারা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে তাঁদের জামাকাপড়, আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে দেয়। কয়েকজনকে মারধরও করে। এমনকী ‘মুখ চিনে রাখলাম, পরে দেখে নেব’ বলেও হুমকিও দেওয়া হয়। এরপর বিকেল চারটে নাগাদ শিক্ষামন্ত্রী ও অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র ক্যাম্পাসের সভা শেষ করে গাড়ি নিয়ে রওনা দেওয়ার চেষ্টা করলে, প্রতিবাদরত ছাত্রছাত্রীরা অবরোধ করেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেহাল দশার পরিবর্তন ও ইউনিয়ন নির্বাচন করানোর দাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে চান। শিক্ষামন্ত্রী শুরুতে কথা বলতে রাজি হলেও পরে মত বদলান। তৃণমূলের গুন্ডারা আবার হামলা চালায়।
ইন্দ্রানুজ এক জায়গায় লিখেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে মানববন্ধন করে বিক্ষোভ শুরু করলে, মন্ত্রী ওঁর ড্রাইভারকে গাড়ি চালিয়ে দিতে বলেন। ড্রাইভারও গাড়ি চালাতে শুরু করেন। শুরুতে গাড়ির গতি কম থাকলেও পরে আমাদের মেরে ফেলতে গাড়ির গতি বাড়াতে থাকে। নিজেকে বাঁচাতে ছাত্রছাত্রীরা কোনওরকমে গাড়ির সামনে থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে চেষ্টা করে। সেই সময় আমি গাড়ির নিচে চাপা পড়ে যাই। আমার উপর দিয়ে গাড়ি চালানো হয়।
যদিও ইন্দ্রানুজের মা বর্ণালী রায় বসু বুধবার বলেছিলেন, শনিবার যা ঘটেছে, তা নিছকই দুর্ঘটনা। ইচ্ছাকৃত ছিল না। তবে ইচ্ছা করলেই সেটা এড়ানো যেত। ব্রাত্য বুধবার দাবি করেছিলেন, ‘আমার আত্মরক্ষার দরকার ছিল। অনেকে মনে করছেন, আমার আরও ধৈর্য্য ধরা উচিত ছিল। আমি সেটা মনে করিনি। আমার গাড়ির সামনে ওঁদের আসাই ঠিক হয়নি। আমি এটা গভীর ভাবেই মনে করি।’
এদিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির (জুটা) তরফে এ দিন পড়ুয়াদের আর্জি জানানো হয়েছে, পরীক্ষা ও ক্লাস বয়কট না–করে তাঁরা যেন ক্লাসে যোগ দেন। সমিতির সভাপতি পার্থ বিশ্বাস জুটার বৈঠকের পরে বলেন, ‘আন্দোলনের পাশাপাশি ক্লাস ও পরীক্ষাও চলুক। স্নাতক প্রথম বর্ষের পরীক্ষা বন্ধ হলে পড়ুয়ারাই সমস্যায় পড়বেন। রাজনৈতিক কারণে ওমপ্রকাশ ও মনোজিৎ মণ্ডল সহ অন্যান্য শিক্ষকদের বয়কটের যে ডাক আন্দোলনকারীরা দিয়েছেন, তা জুটা অনুমোদন করে না’ বলেও জানানো হয়েছে।


More Stories
বারাসাতে মিছিল কি তৃণমূলের শেষের শুরুর ইঙ্গিত ?
পাটুলিতে শুট আউট, নিহত যুবক
রাজ্যসভায় নীতিশ, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী কে এবার?