Home » কমছে গঙ্গার জলস্তর, আসন্ন গ্রীষ্মে জল-সঙ্কটের আশঙ্কা

কমছে গঙ্গার জলস্তর, আসন্ন গ্রীষ্মে জল-সঙ্কটের আশঙ্কা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- মার্চের শুরুতেই গ্রীষ্মের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। বাঁকুড়া পুরুলিয়া ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। আর তাই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন পরিবেশবিদরা। পানীয় জলের সঙ্কট নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হতে শুরু করেছে। গঙ্গার জলের মাত্রা ভাবাচ্ছে বালি পুরপ্রশাসন থেকে সাধারণ নাগরিক, সকলকেই। গত এক-দেড় বছরে বালিতে বেশ কয়েক বার জল সঙ্কটের তীব্রতায় নাজেহাল হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বালি পুরসভা সূত্রে খবর

এই মুহূর্তে বালি পুরসভা এলাকায় প্রতিদিন সর্বাধিক ১৮ মিলিয়ন লিটার জল উৎপাদন হয়। আর শ্রীরামপুর ওয়াটার ওয়ার্কস থেকে খুব বেশি হলে ৪-৫ এমএলডি জল আসে বালি পুরসভাতে। সঙ্কট দূর করতে গত দু’বছর ধরে জল উত্তোলনের জন্য বিকল্প জায়গার অনুসন্ধান করছে বালি পুরসভা। ইতিমধ্যে রবীন্দ্র ভবনের কাছে গঙ্গার অনেকটা ভিতরে, বিকল্প জল উত্তোলনের ইনটেক পয়েন্ট নির্বাচন করা হয়েছে। সেখানে নতুন ইনটেক পয়েন্ট তৈরি করার জন্য বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্টও তৈরি। এখন শুধু কাজ শুরু হওয়ার অপেক্ষা। পুর প্রশাসন সূত্রে খবর, কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। আশা করা হচ্ছে, কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। তবে চলতি গ্রীষ্মের ভোগান্তি কী ভাবে মোকাবিলা করা যাবে, সেটাই এখন সব থেকে বড় চিন্তা।

গ্রীষ্মে গঙ্গার জলস্তর আরও কমে গেলে সমস্যা বাড়বে

শুধুমাত্র বালি পুর এলাকার বালি ও বেলুড়ের পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে ২০১৩ সালে বেলুড়ের পঞ্চাননতলায় গঙ্গার ধারে কেএমডিএর তরফে একটি জল প্রকল্প চালু হয়। প্রকল্পের জল উৎপাদন ক্ষমতা প্রতিদিন ৪৮ মিলিয়ন লিটার। বালি-বেলুড়ের চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন খরচ হয় ২৮ থেকে ৩০ মিলিয়ন লিটার জল। গ্রীষ্মের তীব্রতা বাড়লে জলের প্রয়োজন কিছু টা বাড়ে। কিন্তু বর্তমানে প্রকল্পের কাছাকাছি বেলুড় মড়াপোড়া ঘাট বা বলাইয়ের মায়ের ঘাটের কাছে গঙ্গায় পলি জমে, চড়া পড়ে, গঙ্গার নাব্যতা ক্রমে হ্রাস পাওয়ায় জল উত্তোলনের তীব্র সমস্যা দেখা দিয়েছে। গ্রীষ্মে গঙ্গার জলস্তর আরও কমে গেলে সমস্যা বাড়বে।

পাশাপাশি, প্রকল্পের পাম্পগুলির সময়মতো পরিচর্যার অভাবে প্রায়ই সেগুলি বিকল হয়ে পড়ছে। সমস্যা হচ্ছে জল সরবরাহের। কখনও সরবরাহ পাম্প, তো কখনও জল উত্তোলনের পাম্প অকেজো হয়ে পড়ছে। সঙ্গে মাত্র ২-৩ ফুট নাব্যতা থেকে জল তোলার ফলে জলের সঙ্গে মিশে থাকা পলি ও মাটি পাম্পের সাকশান অংশে জমে পাম্পগুলির কার্যকারিতা কমিয়ে ফেলছে। এর ফলে এখনই অশনি সঙ্কেত দেখছেন সাধারণ মানুষ। বালির নানা এলাকার নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, তাঁরা কেউই কয়েক বছর আগের মতো অঢেল জল পাচ্ছেন না। ব্যবহারের জল তো দূর অস্ত, অনেক সময়ে টান পড়ছে পানীয় জলেও।জরুরি পরিস্থিতিতে তখন পানীয় জলভর্তি ট্যাঙ্ক এলাকায় এলাকায় পৌঁছে দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে পুরসভাকে। সামনে রয়েছে প্রখর গ্রীষ্মের তিন-চারটি মাস। এ সময়ে গঙ্গার জলস্তর তলানিতে নামার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে চাহিদামতো জলের উৎপাদন ও সরবরাহ কমতে বাধ্য। তার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই জল উত্তোলনের পাম্প থেকে শুরু করে সরবরাহ পাম্প বিকল হওয়ার মতো ঝঞ্ঝাট তো রয়েছেই।

About Post Author