সময় কলকাতা ডেস্ক:- পহেলগামে পর্যটকদের উপর হামলার দায় নিয়েছে লস্কর-ই-তৈবার সামনের সারির জঙ্গি সংগঠন ‘দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফ্রন্ট’। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তর সূত্রে খবর, হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী বা মাস্টারমাইন্ড হলো সইফুল্লা খালিদ কসৌরি। মঙ্গলবার দুপুরের ওই হামলায় এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে ২৮ পর্যটকের মৃত্যুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও বেসরকারি সূত্রের খবর, জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩২ জন।
জম্মু-কাশ্মীরে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের পরে আইএসআই টিআরএফ তৈরি করেছিল। জম্মু-কাশ্মীরে লস্কর-ই-তৈবা এবং টিআরএফ-এর যাবতীয় জঙ্গি কাজকর্মের তদারকি করে সইফুল্লা। তাকে সইফুল্লা কসৌরি বলেও অনেকে চেনেন। লস্করের ডেপুটি চিফ বলা হয় সইফুল্লাকে। সে লস্করের মাথা ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি হাফিজ সইদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। লস্কর-ই-তৈবা টিআরএফ তহবিল, হাফিজের নির্দেশে তহবিল কার্যত চালায় সইফুল্লা। হাফিজের সঙ্গে সইফুল্লার ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ বারবার পেয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা আরএডব্লিউ এবং বাকি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ফেব্রুয়ারির গোড়ায় খাইবার পাখতুনখাওয়া এলাকায় এক সমাবেশে ভারতে হামলার হুমকি দিয়েছিল সইফুল্লা। সে বলেছিল,’ আজ ২ ফেব্রুয়ারি। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাশ্মীর দখলের জন্য যা যা করার দরকার তা করব। আগামী দিনে আমাদের মুজাহিদিনরা হামলা আরও বাড়াবে।’ ওই সমাবেশের আয়োজন করেছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও আইএসআই।
পাক সেনাবাহিনীর শীর্ষস্তরের অফিসারদের সঙ্গে সইফুল্লার এতটাই দহরম যে তাকে সবসময় স্বাগত জানানো হয় ফুলের পাপড়ি ছুড়ে নয়ত ফুলের দামি বোকে দিয়ে। এককথায়, পাকিস্তানে সে ভিভিআইপি। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে কঙ্গনপুর এলাকায় মাস দু’য়েক আগে গিয়েছিল সইফুল্লা। পাক সেনাবাহিনীর কর্নেল জাহিদ জারিন খট্টক তাকে সেখানে বক্তব্য পেশ করতে অনুরোধ জানান। ভারতীয় সেনা ও ভারতীয়দের বিরুদ্ধে অত্যন্ত উগ্র ভাষণ দিয়েছিল সইফুল্লা। সইফুল্লা জীবনযাপনে শৌখিনতার ছাপ দেখার মতো। তার একাধিক দামি বিদেশি গাড়ি রয়েছে। তার নিরাপত্তা বলয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর থেকেও বেশি বলে জানাচ্ছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি