Home » কেন পহেলগাম? হামলার ‘সময়’ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ

কেন পহেলগাম? হামলার ‘সময়’ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ

সময় কলকাতা ডেস্ক:- জঙ্গি হামলায় ফের রক্তাক্ত ভূস্বর্গ। আবারও মৃত্যুমিছিল! তবে এ বার সন্ত্রাসের নিশানায় সেনা-পুলিশ, স্থানীয় কোনও ‘পণ্ডিত’ পরিবার বা ভিনরাজ্যের শ্রমিক নয়। এলোপাথাড়ি বুলেটের নিশানায় এ বার ট্যুরিস্টরা। রাতারাতি শিরোনামে পহেলগাম। কেন? জঙ্গিরা আচমকা কেন পহেলগামের ট্যুরিস্ট রিসর্টকে টার্গেট করল? এর পিছনে অন্তত দু’টি কারণ দেখছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, ২০১৯-এর অগস্টে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মীরে যে ভাবে পর্যটনশিল্পের চেহারা উজ্জ্বল হয়েছে, কাশ্মীর-ফেরত টুরিস্টরা মোটামুটি সবাই যে ভাবে ‘বদলের ভূস্বর্গ’কে নিয়ে পজিটিভি ফিডব্যাক দিতে শুরু করেছিলেন, সেটাই আসল গাত্রদাহের কারণ হয়েছে পাকিস্তানের। সেই কারণেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সফর চলাকালীনই ‘টার্গেটেড হামলা’ চালানো হল পহেলগামে।

হামলার দায় নিয়েছে লস্কর-ঘনিষ্ঠ ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’। হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী বা মাস্টারমাইন্ড হলো সইফুল্লা খালিদ কসৌরি এবং পাক সেনাপ্রধান আসিফ মুনির। বিশেষজ্ঞদের দাবি এর পিছনে রয়েছে মুনিরের সাম্প্রতিক যুদ্ধজিগির! তাঁদের দাবি, জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু তুলে ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে খাটো করাটাই উদ্দেশ্য পাকিস্তানের।

অ্যাটাকের এই টাইমিংটা লক্ষ্যণীয়। এখনই যদি না পাল্টা মারের রাস্তায় নামে ভারত, তবে এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে। আবার শুরু হবে স্টোন পেল্টিং, বন্‌ধ। বালুচিস্তানের স্বাধীনতা যখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে, ঠিক তখনই এমন একটা হামলা চালানো হলো ও পার থেকে। পাশাপাশি আর কয়েক মাস পরেই অমরনাথ যাত্রা শুরু হবে। আর অমরনাথ যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হল পহেলগাম। পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্কের বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এই হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।

আসন্ন অমরনাথ যাত্রার পথে কাঁটা বিছিয়ে দেওয়াই লক্ষ্য। এই কারণটাই বেশি করে ভাবাচ্ছে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের। পর্যটকদের টার্গেট করে শুধু পর্যটন ব্যবসাকে লাটে তোলা বা জম্মু-কাশ্মীরের অর্থনীতিতে ধাক্কা দেওয়া নয়, জঙ্গিদের আসল উদ্দেশ্য ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পরে সবে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করা ভূস্বর্গকে অশান্ত করা।

About Post Author