Home » পাকিস্তানে সার্জিকাল স্ট্রাইক চালানোয় ভারতের বিরুদ্ধে শুরু সমালোচনা

পাকিস্তানে সার্জিকাল স্ট্রাইক চালানোয় ভারতের বিরুদ্ধে শুরু সমালোচনা

সময় কলকাতা ডেস্ক:- পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার বদলা নিতে মঙ্গলবার মধ্য রাতে পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ৯ জঙ্গি ঘাঁটিতে সার্জিকাল স্ট্রাইক চালায় ভারত। এই ভারত-পাক সংঘর্ষের মধ্যেই পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ দাবি করল যে তারা ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামিয়েছে তাদের ভূমিতে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সিএনএন-এর তরফে পাক সামরিক কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে এই খবর জানানো হয়েছে। যদিও ভারতবর্ষের সামরিক কর্তৃপক্ষ এ খবরকে আজগুবি বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরের একটি অংশে একটি বিমানকে মঙ্গলবার গভীর রাতে ছিটকে পড়তে দেখা যায়। মনে করা হচ্ছে ভারতের এই বিমানটি পাকিস্তানের উপর হামলায় অংশ নিয়েছিল। ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা সিএনএনকে জানিয়েছেন তারা বিকট আওয়াজ পেয়ে ঘর থেকে বাইরে এসে দেখেন একটি বিমান মাটিতে পড়ে গেছে এবং সেটি জ্বলছে। তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এই বিমানটি ভেঙে পড়ে কিনা তা অবশ্য জানা যায়নি, জানানো হয়েছে সিএনএন-এর তরফে।

উল্লেখ্য, ভারতবর্ষের সামরিক যুদ্ধবিমান ও মিসাইল আটকানোর জন্য চীন পাকিস্তানকে সুরক্ষা কবচ সরবরাহ করেছে। যদিও সমর বিশারদদের দাবি, ভারতবর্ষের মিসাইল যেভাবে পাকিস্তানের বিভিন্ন অংশে আছড়ে পড়েছে তাতে এই চীনা সুরক্ষা ব্যবস্থা খুব একটা কার্যকরী হয়নি শেষ পর্যন্ত।

এদিকে ভারত চীনকে বাদ দিয়ে মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানে হানার বিষয়ে মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, রাশিয়া, আরব এবং সৌদি আরব-কে জানিয়েছে। প্রায় সমস্ত দেশই ভারতকে বলেছে দ্রুত উত্তেজনা কমানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথা।

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতবর্ষকে সমর্থন করে এলেও মঙ্গলবার রাতের হানাদারীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লজ্জাজনক ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। এটা কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতবর্ষকে কিছুটা ব্যাক ফুটে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের সদস্যরা। কারণ আমেরিকা ভারতকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে বারবার নিষেধ করেছিল।

এই ডামাডোলের মধ্যেই ইরানের বিদেশমন্ত্রীর আজকে ভারত সফরে আসার কথা। উল্লেখ্য, ইরানের বিদেশমন্ত্রী এই মুহূর্তে পাকিস্তান সফর করছেন। ইরানের ভারত ও পাকিস্তান দুটি দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রয়েছে। এদিকে আবার ইরানের চা-বাহার বন্দরকে কেন্দ্র করে ভারতবর্ষের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও রয়েছে। সুতরাং এই ভারত পাকিস্তান সংঘর্ষে ইরান শেষ অবধি কী ভূমিকা নেয় সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ও দেখবার মতো বিষয়।

 

About Post Author