সময় কলকাতা ডেস্ক:- থমথমে সীমান্ত। নিয়ন্ত্রণ রেখায় তৈরি কামান। আকাশে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তৈরি ভারতীয় সামরিক বাহিনী। পড়শি দেশ উসকানি দিলেই নিউ নর্মালে গর্জে উঠবে ভারতীয় ফৌজের কামান। এই প্রেক্ষাপটেই ভারতের বড় বার্তা, এখনও শেষ হয়নি অপারেশন সিঁদুর। তিন কুখ্যাত জঙ্গিকে হস্তান্তর করতে হবে পাকিস্তানকে। সোমবার ইজরায়েলে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত জে পি সিং স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দেন, ভারত বদলা নেবে। সন্ত্রাসবাদীদের ক্ষমা নেই। রেয়াত করা হবে না জঙ্গিদের মদতদাতাদেরও।
সাফ জানান, অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ হয়নি। লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সইদ, জাকিউর রহমান লখভি এবং মুম্বই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত সাজিদ মিরের মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীদের ভারতের হাতে তুলে দিতে হবে। নয়াদিল্লি আগেই জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’ আপাতত স্থগিত হয়েছে, কিন্তু শেষ হয়নি। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেকথা দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন।
এবার সেই একই কথা ইজরায়েলে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত জে পি সিং-এর মুখে। সোমবার এক ইজরায়েলি বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিং বলেন, পহেলগাঁওয়ে ধর্ম দেখে ২৬ জন নিরীহ মানুষকে খুন করেছে সন্ত্রাসবাদীরা। তারপরই ভারত জেহাদি ঘাঁটিগুলোতে প্রত্যাঘাত করে। ভারতের নিশানা পাকিস্তান ছিল না। কিন্তু তারা পাল্টা হামলা চালিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছে যে ইসলামাবাদই জঙ্গিদের পালন করে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের এই লড়াই চলবে।
ভারতীয় রাষ্ট্রদূত জানান, পাকিস্তানের নুর খান বিমানঘাঁটিতে ১০ মে ভারতের বিমান হানার পরে ইসলামাবাদে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সেই হামলার পরই পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশন্স ভারতের কাছে যুদ্ধবিরতির আবেদন করে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যে সিন্ধু জলচুক্তিকে পাকিস্তান আজ ভারতের যুদ্ধঘোষণা বলছে, সেই চুক্তির মূল কথা ছিল সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্ব। ভারত তো জল ছেড়েছে, কিন্তু পাকিস্তান দিয়েছে রক্ত ও জঙ্গি। প্রধানমন্ত্রী আগেই স্পষ্ট করেছেন—রক্ত ও জল একসঙ্গে বইতে পারে না।
জেপি সিং প্রশ্ন তোলেন— মুম্বই, পাঠানকোট ও পুলওয়ামা হামলার তদন্তের কী হল? তিনি বলেন, ভারত ডসিয়ার দিয়েছে, প্রযুক্তিগত তথ্য দিয়েছে। আমেরিকা পর্যন্ত প্রমাণ দিয়েছে। তাও কেন হাফিজ সঈদ, লখভি, সাজিদ মীর মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ায়?
তিনি বলেন, যেভাবে আমেরিকা তাহাউর হুসেন রানাকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে, পাকিস্তানকেও ঠিক তেমন ভাবেই এই তিনজনকে ভারতের হাতে তুলে দিতে হবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, সন্ত্রাসের প্রশ্নে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট – জিরো টলারেন্স। সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাস চালানো কখনই বরদাস্ত করা হবে না। গত এপ্রিলে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার বদলাস্বরূপ গত ৭ মে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালায় ভারত। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় জঙ্গিদের আঁতুড়ঘর। হামলা চলে সওয়া নাল্লা, সারজাল, মুরিদকে, কোটলি, কোটলি গুলপার, মেহমোন্না জোয়া, ভিমবের এবং ভাওয়ালপুরের জঙ্গি ঘাঁটিতে।
এই অভিযানে শতাধিক জঙ্গির মৃত্যু হয়। শুধু তাই নয়, রাতারাতি অনাথ হয়ে যায় জইশ-প্রধান মাসুদ আজহার। ভারতের প্রত্যাঘাতে পরিবারের ১৪ সদস্যকে হারায় মাসুদ। সংসদ হামলার মূলচক্রী মাসুদকে কান্দাহারের ঘটনায় মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল ভারত। এবার লস্কর প্রধান হাফিজ-সহ মোট তিন জনকে ফেরত চাইল ভারত।


More Stories
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
অনশনের ১৭ দিনে অসুস্থ সোনম ওয়াংচুকের জন্য উদ্বিগ্ন লেখক -অভিনেতা -বুদ্ধিজীবীরা
কোটি কোটি টাকার চুক্তি :কীভাবে ধোঁকা দিয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে বোকা বানালেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত ব্যবসায়ী গৌরব?