Home » মমতাকে ফোন করলেন রিজিজু বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের মুখোশ খুলতে কেন্দ্রীয় দলে অভিষেক!

মমতাকে ফোন করলেন রিজিজু বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের মুখোশ খুলতে কেন্দ্রীয় দলে অভিষেক!

সময় কলকাতা ডেস্ক:- অপারেশন সিঁদুরের পর পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ নিয়ে গোটা দুনিয়াকে বার্তা দিতে চায় নয়াদিল্লি। সেজন্য বহুদলীয় সংসদীয় প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। সেই প্রতিনিধি দলে তৃণমূলের থেকে সামিল হচ্ছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর আগে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা না বলেই বহুদলীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলে বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠানের নাম রেখেছিল দিল্লি। তাতে ক্ষুব্ধ হন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইউসুফ পাঠান কেন্দ্রকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি ওই প্রতিনিধি দলে সামিল হবে না। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে বলা হয়, দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকার যে পদক্ষেপ করেছে, তাতে দল সমর্থন জানিয়েছে। বিদেশনীতি একান্তভাবেই কেন্দ্র সরকারের অধিকারভুক্ত বিষয়। তাই বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব এবং তার কূটনৈতিক দায়িত্ব সরকারই গ্রহণ করুক-সেটাই শ্রেয়।

তবে তৃণমূলের কে প্রতিনিধিত্ব করবেন, সেটা অন্য কেউ ঠিক করতে পারে না। সাফ জানিয়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট জানান, দল কাকে পাঠাতে চায় সেই নাম চেয়ে কোনও অনুরোধ আসেনি।

আসলে মমতা এবং অভিষেক দুজনেই বুঝিয়ে দেন, যেকোনও দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব তাঁরাই করেন, যাঁরা ভাল কথা বলতে পারেন বা গুছিয়ে অভিজ্ঞতায় ভর করে পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারেন। কোন দলে এমন কোন নেতা বা প্রতিনিধি রয়েছেন, তা কেন্দ্রের থেকে ভাল নির্দিষ্ট দলই বুঝবে। ফলে প্রতিনিধি নির্বাচনের দায়িত্ব দলের ওপর থাকাই কাম্য। তৃণমূল এভাবে অবস্থান স্পষ্ট করার পরই, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ফোন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেন।

তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন এবং জানান, এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মতামত নেওয়া উচিত ছিল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরপর সংসদীয় প্রতিনিধিদলের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই যথোপযুক্ত প্রতিনিধি হবেন। তবে শুধু তৃণমূল নয়, কংগ্রেসের সঙ্গেও একই রকমের আচরণ করেছিল কেন্দ্রের সরকার। প্রতিনিধি দলে সামিল করার জন্য সাবেক জাতীয় দলের কাছ থেকে নাম চেয়েছিল সরকার। কংগ্রেস চার জনের নাম পাঠিয়েছিল।

কিন্তু সেই চার জনের কাউকে দলে সামিল না করে সরকার এক তরফা ভাবে কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুরকে ওই প্রতিনিধি দলে সামিল করে। সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করলেও কংগ্রেস অবশ্য শেষমেশ কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। অনেকের মতে, বিজেপির বোঝা উচিত ছিল তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলনায় অনেক শক্তি মাটি। কংগ্রেস বরদাস্ত করলেও তিনি এটা মেনে নেবেন না। শেষমেশ তৃণমূলের সঙ্গে তাই আলোচনা করতেই হল কেন্দ্রকে।

About Post Author