Home » ভারত বিদ্বেষের পুরস্কার! পাকিস্তানে পুরস্কৃত সেনাপ্রধান আসিম মুনির, মুনির-কে আরও বড় পদে বসাল পাকিস্তান

ভারত বিদ্বেষের পুরস্কার! পাকিস্তানে পুরস্কৃত সেনাপ্রধান আসিম মুনির, মুনির-কে আরও বড় পদে বসাল পাকিস্তান

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ভারতীয় সেনার বীর বিক্রমে হাঁটু-কোমর সব ভেঙে একাকার পাক সেনার। তারপরেও বড় পুরস্কার পেয়ে গেলেন সে দেশের সেনা প্রধান। ভারত বিদ্বেষ ও পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি পাঠিয়ে ২৬ টি নিরীহ প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পুরস্কার! মুনিরকে আরও বড় পদে বসালেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। জেনারেল থেকে এবার এক্কেবারে ফিল্ড মার্শল পদে প্রোমোশন হয়ে গেল আসিম মুনিরের। তা নিয়েই এখন জোর চর্চা গোটা দেশে।

স্বাধীনতার পর থেকে এর আগে মাত্র একজনেরই এই পদে পদোন্নতি হয়েছিল। তবে তারও রয়েছে অন্য ইতিহাস। মনে রাখা ভাল, পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সামরিক পদ এবং পাঁচ তারা বিশিষ্ট ব়্যাঙ্ক এই ফিল্ড মার্শালের ব়্যাঙ্ক। সেই পদেই বসছেন আসিম। ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত হওয়ায় জল, স্থল এবং নৌ-তিন সেনারই নিয়ন্ত্রণ চলে এল মুনিরের হাতে। এমনিতে মুনির শাহবাজ শরিফের ঘনিষ্ঠ।

ইমরান খানকে সরিয়ে শাহবাজ শরিফকে পাক প্রধানমন্ত্রীর মসনদে বসানোর নেপথ্যেও এই মুনিরের হাত রয়েছে বলে শোনা যায়। সেই মুনিরকে এবার পুরস্কার দিচ্ছেন শরিফ।

পাক প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে আসিম মুনিরের পদন্নোতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শরিফের নেতৃত্বে সেই প্রস্তাবে সিলমোহর পড়েছে। ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান বরাবর নিজেদের জয় দাবি করে আসছে। সেনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ‘ইউম-ই-তাশাকুর’ বা ধন্যবাদজ্ঞাপন অনুষ্ঠানও করেছে পাক সরকার। আসলে ভারতের অপারেশন সিঁদুরে নাস্তানাবুদ হওয়া পাকিস্তান মোটেই নিজেদের হতশ্রী দশা মেনে নিতে চায় না। উল্টে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিজেদের জয় হিসেবেই বারবার মুখে তুলে ধরেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তা আরও বেশি করে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই মুনিরকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। যাতে বিশ্বের কাছে প্রতিষ্ঠা করা যায় যে যুদ্ধে জিতেছে পাকিস্তানই।

জানা গিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেনাকে যোগ্য নেতৃত্ব দেওয়ার পুরস্কার স্বরূপ ফিল্ড মার্শালের পদ পাচ্ছেন আসিফ।

পাকভূমের অতীত ফিরে দেখা

এর আগে ১৯৫৯ সালে নিজেই নিজেকে এই পদে তুলে এনেছিলেন জেনারেল আয়ুব খান। এবার ফের আসিম মুনির। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ফিল্ড মার্শাল পদমর্যাদা কেবল একটি বড় সম্মানই নয়, একইসঙ্গে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কর্তৃত্বও প্রদান করে। এর মানে হল, মুনির এখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এখানকার সরকারেও অপরিসীম ক্ষমতার অধিকারী হবেন।

মুনির আগে ছিলেন আইএসআই প্রধান

এই পদমর্যাদা মুনিরকে কেবল সেনাবাহিনীর উপর নিয়ন্ত্রণের অধিকার দেবে না, বরং রাজনৈতিক-সামরিক বিষয়েও তাঁকে একটি নীতি-নির্ধারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ করবে।

ফিল্ড মার্শাল হওয়ার পর, আসিম মুনির এখন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার জন্য স্বাধীনতা পেতে পারেন।

আসিম মুনির ১৯৮৬ সালে তাঁর সামরিক কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর প্রধানও ছিলেন। ২০২২ সালে তিনি পাকিস্তানের ১১ তম সেনাপ্রধান হন। তারপর থেকে ওই পদেই ছিলেন।

পহেলগাঁও হামলার পরই অবশ্য বিভিন্নভাবে মুনিরের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ৯ মে সেনাপ্রধানের হাত শক্ত করতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ রায় দেয় পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। জানিয়ে দেওয়া হয়, এবার থেকে সেনা আদালতে সাধারণ নাগরিকদের মামলারও শুনানি করা যাবে। যার অর্থ, দেশের বিচারব্যবস্থা এবং সামরিক শক্তি পুরোটাই এখন মুনিরের হাতে। এখন পাকিস্তানে ভারত বিদ্বেষী সেনাকর্তা যেভাবে শক্তিশালী হচ্ছে, তাতে আগামী দিনে পাকিস্তানের ভারত বিরোধী কার্যকলাপ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

About Post Author