সময় কলকাতা ডেস্ক:- শনিবার দিল্লিতে নীতি আয়োগের বৈঠকে সব মুখ্যমন্ত্রীকে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অপারেশন সিঁদুরের পর এই প্রথম মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক ছিল প্রধানমন্ত্রীর। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিকশিত রাজ্য। ২০৪৭, অর্থাৎ স্বাধীনতার শতবর্ষকে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে রাজ্যগুলির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেওয়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে কেন্দ্র। তবে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে নীতি আয়োগের বৈঠেকে এবার গেলেনই না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছরের ২৭ জুলাই নীতি আয়োগের বৈঠক হয়েছিল।
গতবার ১০ টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সেই বৈঠকে ছিল না। গতবার বক্তব্যের মাঝে মাইক বন্ধ করার অভিযোগ তুলে নীতি আয়োগের বৈঠকের মাঝপথে বেরিয়ে এসেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মুখ্যমন্ত্রীদের নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগই দিলেন না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে কী কারণে নীতি আয়োগের বৈঠকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী যোগ দিলেন না, তার কোনও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
তবে অনেকের মতে, এর আগের নীতি আয়োগের বৈঠকের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে দায়ী করেছেন। গতবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে দেওয়া হয়নি। বক্তব্যের মাঝপথে তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে কক্ষ ত্যাগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
যদিও কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ তাঁর বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। মাইক বন্ধের অভিযোগ নস্যাৎ করে দাবি করেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বরাদ্দ সময় পর্যন্ত বলতে দেওয়া হয়েছিল।
তবে সেদিনই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দেবেন না। সম্ভবত সে কারণে এবারের নীতি আয়োগের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী যোগ দিলেন না। তবে নীতি আয়োগের বৈঠকে মমতার যোগ না দেওয়া নিয়ে কটাক্ষ করতে সময় নেননি রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। বলেন, বৈঠক বয়কট করে কার্যত পশ্চিমবঙ্গকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিল। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বঞ্চিত হল।
যদিও, বিজেপিকে বঞ্চনার অভিযোগে পাল্টা তোপ দাগতে ছাড়েনি শাসকশিবির।
শনিবারের বৈঠকে যোগ দেননি কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং কর্নাটকের সিদ্দারামাইয়া। পিনারাইয়ের রাজ্যে বিধানসভা ভোট আসন্ন। তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিশেষ খাতিরের সম্পর্ক নিয়ে কংগ্রেস-সহ বিরোধীরা সরব। সেই অভিযোগ নসাৎ করতে পিনারাই নিজে বৈঠকে যোগ দেননি। এদিকে, কংগ্রেস শাসিত কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াও যোগ দেননি শনিবারের বৈঠকে। তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কর্নাটকের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগে সরব।


More Stories
অভিষেকের জন্য জেলে গিয়েছিলাম : অনুব্রত
আর পারলেন না, মমতার হয়ে মদনের লড়াই শেষ
কালীঘাটের তৃণমূলকে স্বস্তি দিল শহীদ দিবস পালনের অনুমতি