সময় কলকাতা ডেস্ক:- বাবা-মাকে হত্যার পর, বনগাঁর এক মাদ্রাসায় ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক ব্যক্তিকে কোপানোর গুরুতর অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অন্তত চার জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু’জন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থানার অন্তর্গত বনগাঁ হাফিজিয়া খারিজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসায়। বুধবার সন্ধ্যায় রক্তাক্ত অবস্থায় জখম ব্যক্তিদের বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত যুবককে পাকড়াও করে বনগাঁ থানার পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় পড়াশোনা চলছিল। সেই সময় এক ব্যক্তি হঠাৎই মাদ্রাসার ভিতর ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই উপস্থিত শিক্ষক ও পরিচারকদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করে। ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী।
এদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। মাদ্রাসার সামনেই বনগাঁ-বাগদা সড়ক অবরোধ শুরু করে স্থানীয়রা। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে গিয়ে আক্রান্ত হন বনগাঁ থানার আইসি শিবু ঘোষ। আবার একদল উত্তেজিত জনতা বনগাঁ থানায় যায়। ভাঙচুর করে দুষ্কৃতীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। থানার টেবিল, চেয়ার ভাঙচুর করা হয় ৷ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশ।
এই ঘটনায় একাধিক পুলিশকর্মী জখম হন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত যুবক হুমায়ুন কবির। বর্ধমানের মেমারির বাসিন্দা। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বুধবার সকালে বাড়িতেই বাবা-মাকে হত্যা করেছিল সে। তার পর মেমারি থেকে বনগাঁয় এসে মাদ্রাসায় তান্ডব চালায়। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও ভাবেই সাম্প্রদায়িক অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য পরিস্থিতি একটু শান্ত হতেই পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার স্পষ্ট ভাষায় জানান, এটি কোনও সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়।
তিনি আরও জানিয়েছেন, এই ঘটনা নিয়ে যাতে কোনও রকম গুজব না ছড়ায়, তার জন্য সচেতনতা প্রচার চালানো হচ্ছে পুলিশের তরফে। আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার বিষয়ে সতর্কও করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
তবে কেন বাবা-মাকে খুনের পর প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে এসে হামলা চালাল যুবক, তা নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য। কী কারণে বাবা-মাকে খুন, আর কেনই বা বনগাঁয় হামলা, কারণ মোটেও স্পষ্ট নয়। এদিকে, থানা ভাঙচুরের ঘটনায় ১০ জনের বেশি অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। থানায় চড়াও হওয়া বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি জারি রয়েছে।


More Stories
শান্তি নেই শ্মশানেও -বঙ্গভূমির করুণ আখ্যান
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা