সময় কলকাতা ডেস্ক:- দলীয় কর্মীরা কি তাঁকে ব্রাত্য করে দিয়েছে? স্বাভাবিকভাবেই দিলীপ ঘোষকে নিয়ে এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিগত কয়েক সপ্তাহে যা যা ঘটেছে তা একদিকে। কিন্তু খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভাতেও তাঁর না থাকার বিষয়টি রাজনৈতিক মহলের চোখে লাগছে। কেন গেলেন না দিলীপ? এর জবাব নিজেই দিয়েছেন বর্ষীয়ান নেতা। নিজেকে বিজেপির ‘সাধারণ কর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমে বিজেপির বর্ষীয়ান নেতার যুক্তি, যারা পদাধিকারী আছেন তাদের প্রোটোকল থাকে, তাদের থাকতে হয়। তিনি কোনও পদাধিকারী নন তাই সাধারণ কর্মী হিসেবে যখন প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় আসবেন তখন যাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভায় তাঁর না যাওয়া নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর সাফ কথা, এ ব্যাপারে আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপি বলতে পারবে কারণ তাঁরা এই সভার উদ্যোগী। রীতিমতো দায় ঝেড়ে ফেলার কাজটা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বঙ্গ বিজেপির অন্যতম মুখ শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে দল তাঁকে ব্রাত্য করছে কিনা এর উত্তরে দিলীপের সোজাসুজি মন্তব্য, কে স্বীকার করল কী করল না, তাতে কিছু এসে যায় না। তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। দিলীপ ঘোষের স্পষ্ট কথা, তিনি অস্তিত্ব সঙ্কটে ভোগেন না।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল দিলীপের। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে আসন বদলের পর সেই দূরত্ব আরও বাড়ে। এরপর তাঁর বিয়ে এবং দিঘার জগন্নাথ মন্দির দর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বসে ‘গল্পগুজব’ ফাটল আরও চওড়া করেছে। দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভের মুখেও পড়তে হয়েছে সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষকে। এমন পরিস্থিতিতে মোদির অনুষ্ঠানে ডাক না পাওয়া কি সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ?
দলের রাজ্য নেতারা কি দিলীপ ঘোষকে ব্রাত্য করতে চাইছে? প্রশ্নের জবাবে নিজস্ব মেজাজে ব্যাট চালান দিলীপ। আর তাতেই বঙ্গ বিজেপিকে খোঁচা দিয়েছে শাসকদল তৃণমূল।
তবে দিলীপ ঘোষ যতই পদের দোহাই দিয়ে যতই বিষয়টিকে হালকা করার চেষ্টা করুন না কেন, দলের অন্দরেই অন্য সুর শোনা যাচ্ছে। রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের দূরত্ব যে শত যোজন, তা বৃহস্পতিবারের ঘটনায় আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?