সময় কলকাতা ডেস্ক:- গরমে বৃষ্টিতে এই মরশুমে এখন ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা খুসখুসের মতো শ্বাসনালীর সংক্রমণ লেগেই রয়েছে। কোভিড টেস্ট না হলেও এর নেপথ্যে একটা বড় অংশকেই করোনা বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। খাতায় কলমে রোজই একটু একটু করে করোনা বাড়ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেটা আক্রান্তের আসল সংখ্যা নয়। চিকিৎসকরা বলছেন, বাস্তবে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অলোকেশ কোলে আবার মনে করেন, ‘ঘরে ঘরে যাঁদের জ্বর-সর্দিকাশি হচ্ছে, তাঁদের সকলেই যে করোনায় আক্রান্ত এমন নয়। অনেকেই ফ্লু, আরএসভি, অ্যাডিনো ভাইরাস, রাইনো ভাইরাস ইত্যাদিতেও সংক্রমিত।’
যদিও, প্যাথলজির প্রবীণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রণবকুমার ভট্টাচার্য জানান, ‘করোনা আক্রান্তের আসল সংখ্যাটা অনেক বেশি। অতিমারী পর্বের মতো উপসর্গ দেখা দিলেই যদি অন্তত র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মতো পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতো, তা হলে আসল সংখ্যাটা বোঝা যেত। রাজ্যে যে করোনা বাড়ছে, তার সেই উর্ধ্বগতির ধারাটাও বেড়ে যেত অনেকটা।’
সংক্রামক ব্যাধির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সায়ন চক্রবর্তী বলেন, ‘ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি-জ্বরের নজির অনেকটাই বেড়েছে। সকলের টেস্ট করানো সম্ভব নয়, দরকারও নেই। কিন্তু এই সব সংক্রমণগুলো মূলত করোনা অথবা ইনফ্লুয়েঞ্জা। তাই কোভিড আক্রান্তের যা সংখ্যা জানা যাচ্ছে, করোনা সংক্রমণের আসল সংখ্যাটা তার চেয়ে অনেকটাই বেশি হবে, সন্দেহ নেই।’
অবশ্য বিশেষজ্ঞরা এ কথাও বলছেন যে, এতে শঙ্কিত হওয়ারও কোনও কারণ নেই। বস্তুত, সকলের টেস্ট করানোর দরকারও নেই। কারণ, করোনার যে প্রজাতিগুলি এখন সারা দুনিয়ায় দাপাদাপি করছে, সেগুলি সংক্রমণ ছড়াতে পটু হলেও বেশি অসুস্থতা তৈরির ক্ষমতা তার নেই।
সে জন্যই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) নতুন এই দু’টি উপপ্রজাতিকে নিছকই ‘ভ্যারিয়েন্ট অফ অবজার্ভেশন’ হিসেবেই বিবেচনা করছে। গুরুতর অসুস্থতার জন্ম যদি সেগুলি সত্যিই দিতে পারতো, তা হলে এই এনবি.১.৮.১ এবং এলএফ.৭ উপপ্রজাতি দু’টিকে নির্ঘাত ‘ভ্যারিয়েন্ট অফ কনসার্ন’ অথবা নিদেনপক্ষে ‘ভ্যারিয়েন্ট অফ ইন্টারেস্ট’ বলে অভিহিত করতো।


More Stories
গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর
আরজিকর কাণ্ডের আইনি ফাঁসে রচনা
ঋতব্রত সন্দীপনের বহিষ্কারের চিঠিতে কী কী লেখা হয়েছে?