Home » ইউনুসের শপথের দিন ৮ আগস্ট; ৮ আগস্ট ‘নতুন বাংলাদেশ’ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত

ইউনুসের শপথের দিন ৮ আগস্ট; ৮ আগস্ট ‘নতুন বাংলাদেশ’ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বাংলাদেশে গত বছর শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তিনদিনের মাথায় ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন মহম্মদ ইউনুস। এখন প্রতি বছর ওই দিনটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ দিবস হিসেবে উদযাপন করবে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সাধারণ অধি শাখা বুধবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের উপ সচিব তানিয়া আফরোজের জারি করা নির্দেশিকায় বাংলাদেশ সরকারের সমস্ত অফিস এবং দূতাবাসগুলিতে দিনটি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালনের কথা বলা হয়েছে। এদিকে, বুধবার ইউনুস সরকারের তরফে জানানো হয়, ছাত্র-জনগণের অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের দিন ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ হিসাবে পালন করা হবে।

এদিকে, গত বছর কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৬ জুলাই রংপুরে ছাত্র জনতার সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত হন বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ। ইউনুস সরকার ওই দিনটি আবু সাঈদ দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবু সাঈদ সেদিন পুলিশের সামনে বুক উঁচিয়ে দাড়িয়েছিল।

তবে পুলিশের গুলিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না তা নিয়ে পরবর্তীকালে প্রশ্ন ওঠে। আলাদা করে আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সেই তদন্ত আর এগোয়নি।

এই তিনটি দিবস যাতে প্রতিবছর যথাযথভাবে পালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ আগস্টকে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দিবস হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি দুটি দিবসকে সেই তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ, খ শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে।

তবে সরকারের শপথের দিনটিকে নতুন বাংলাদেশ দিবস হিসাবে উদযাপনের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। জুলাই গণ অভ্যুত্থান ও আবু সইদকে সম্মান জানিয়ে বিশেষভাবে দিন পালনে রাজি হলেও, ইউনুসের শপথ গ্রহণের দিনকে নতুন বাংলাদেশ দিবস হিসাবে মানতে নারাজ রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এই নিয়ে সরকারি অফিসগুলিতেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলি এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত। অন্যদিকে সরকার পক্ষের বক্তব্য জুলাই বিপ্লবকে সম্মান জানাতেই আট আগস্ট নতুন বাংলাদেশ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

About Post Author