সময় কলকাতা ডেস্ক:- বাধা পড়েছিল শুরুতেই। এবার পুরীর রথযাত্রাতেও ঘটে গেল বিপর্যয়। বিজেপি শাসিত রাজ্য ওড়িশায় ফের চূড়ান্ত অব্যবস্থা। ভিড় সামলাতে ব্যর্থ পুলিশ প্রশাসন। যার জেরে ফের পদপিষ্টের পরিস্থিতি। অত্যাধিক ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে কমপক্ষে তিন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হল। আহত কমপক্ষে আরও ১০ জন। জগন্নাথের মাসির বাড়ি, পুরীর শ্রী গুণ্ডিচা মন্দিরের কাছে রবিবার ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, জগন্নাথ দেবের রথ নন্দীঘোষের চাকার সামনেই বিপর্যয় ঘটে। মন্দিরের কাছে জগন্নাথ দেবের রথ পৌঁছতেই হুড়োহুড়ি পড়ে যায় ভক্তদের মধ্যে। ভিড়ের চাপে বেশ কয়েকজন পড়ে যান।
জানা গিয়েছে
ভোর ৪টে-৫টা নাগাদ গুণ্ডিচা মন্দিরে পৌঁছয় জগন্নাথ দেবের রথ। তখনই ধাক্কাধাক্কিতে ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে। হুড়মুড়িয়ে ভক্তরা রথের দিকে ছুটে যায়। এতেই অনেকে পড়ে যান। পদপি্ষ্ট হন অনেকে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত কমপক্ষে ১০ জন। সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। এবারের রথযাত্রায় পুরীতে ১০ লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছিল। এতটাই ভিড় হয়েছিল যে রথের দিন, বলরাম ও সুভদ্রার রথ সামান্য এগোতে পারলেও, জগন্নাথের রথ এগোনো যায়নি। মন্দির ছেড়েই বেরতে পারেনি নন্দীঘোষ।
অশুভ ইঙ্গিত
এত বছরে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটে, যাকে অশুভ ইঙ্গিত বলেই মনে করেছিলেন অনেকে। শনিবার সকালে ফের রথযাত্রা শুরু করা হয়। তাতেও অত্যাধিক ভিড় হয়েছিল যে কারণে গুণ্ডিচা মন্দিরে পৌঁছতে দেরী হয়। রবিবার ভোরে মাসির বাড়ি পৌঁছয় রথ। আর সেখানেই ঘটল বিপর্যয়। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন ওড়িশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দন। তিনি জানিয়েছেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ জানতে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাদের গাফিলতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, তাঁদের কড়া শাস্তি পেতে হবে।’ রথযাত্রার দিনও অত্যাধিক ভিড়ে প্রায় পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বলরাম ও সুভদ্রার রথের সামনে পৌঁছতে গিয়ে ৫০০ জনের বেশি পুণ্যার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। রবিবারও ঘটল দুর্ঘটনা। তাতে আবার ৩ জনের মৃত্যু। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি শাসিত রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সরকার অবশ্য পুরো বিষয়টির জন্য ভিড়কেই দায়ী করছে।


More Stories
সবকিছু ঠিক থাকলে পুরী-সহ ৬টি রুটে ভলভো চালাবে রাজ্য