Home » নাড়াজোল কলেজের মধ্যে বিধায়ক-পুত্রের ‘দাদাগিরি’

নাড়াজোল কলেজের মধ্যে বিধায়ক-পুত্রের ‘দাদাগিরি’

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ‘দাদা’–কে বাদ দিয়ে কলেজের চক–ডাস্টার পর্যন্ত কেনা যায় না! আবার দাদার জন্য কলেজেই একটি নির্দিষ্ট আলাদা ঘর রয়েছে। সেখানেই এসে বসেন দাদা। তার পাশের ঘরটিই কলেজের ইউনিয়ন রুম। দাদার নির্দেশে কলেজে প্রায় কুড়ি জন ক্যাজুয়াল শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।

নাড়াজোল রাজ কলেজ সূত্রের খবর, এই কলেজে ছাত্র সংখ্যা প্রায় ১২০০। শিক্ষক রয়েছেন ৭২ জন। স্থায়ী শিক্ষাকর্মী মাত্র চার জন। ক্যাজ়ুয়াল শিক্ষাকর্মী ২৩ জন। ২০১১ সালের পরে ২০ জন নিয়োগ হয়েছেন। এঁরা প্রত্যেকেই শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বলে সূত্রের খবর।

কলেজে ক্যাজুয়াল কর্মী নিয়োগ নিয়ে কোনও দুর্নীতি হয়নি বলে দাবি কলেজ পরিচালন সমিতির সদস্য তথা দাসপুর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সুনীল ভৌমিকের। তিনি বলেন, ‘এই আমলে হয়তো প্রাক্তন ছাত্র নেতারা কিছু কলেজে ঢুকছেন। দীর্ঘদিন কলেজে কর্মী নিয়োগ না হওয়ায় কলেজ চালাতে গিয়ে সামান্য বেতনে ক্যাজুয়াল কর্মী নিয়োগ করতে হয়েছে। এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই।’

এ দিকে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ বাসুদেব মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের কলেজে আগে থেকে বহিরাগতদের ঢোকা বারণ।’ কলেজে ক্যাজুয়াল কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর একজনও ক্যাজুয়াল কর্মী নিয়োগ হননি। আগে কী হয়েছে জানি না।’ কলেজ পরিচালন কমিটির সভাপতি সুজিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘দীর্ঘ কয়েক বছর আমাদের কলেজ পরিচালন সমিতিতে কোনও ছাত্র প্রতিনিধিই নেই।’

পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর ব্লকের নাড়াজোল রাজ কলেজে। যাঁর দাপটে অতিষ্ট কলেজের পড়ুয়ারা। তিনি হলেন বিধায়ক পুত্র কুমারেশ ভুঁইয়া। এই কলেজের ‘দাদা।’ তবে তিনি এই কলেজের প্রাক্তনী নন। দাসপুরের বিধায়ক মমতা ভুঁইয়ার ছেলে কুমারেশ। তাঁর বাড়ি থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে কলেজ। গোটা কলেজের নিয়ন্ত্রণ কুমারেশের হাতে বলে সূত্রের খবর। শুধু তাই নয়, বছর তিনেক আগে এর প্রতিবাদ করায় কলেজ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন অধ্যক্ষ। বছর দুই আগে কলেজে নতুন অধ্যক্ষ যোগ দেন।

কলেজের শিক্ষকদের একাংশের দাবি, ‘দাদাগিরি চলছেই। দাদার ভাইদের ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে কলেজের প্রতিটি জায়গায়!’ কলেজে সব রুম বন্ধ থাকলেও ‘দাদাগিরি’ চলবে। কারণ পাড়ার চায়ের দোকানে বসেই এখন কাজ চলছে বলে অভিযোগ। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুমারেশ।

কুমারেশ বর্তমান নাড়াজোল রাজ কলেজ পরিচালন সমিতির সদস্য। কুমারেশ বলেন, ‘বিরোধীরা অভিযোগ করলে আমার কী করার আছে। আমি এখন কলেজ পরিচালন সমিতির মিটিং ছাড়া কলেজে যাই না। কলেজের কোনও প্রয়োজনে ডাকলে যাই। এ সব অভিযোগ মিথ্যে।’ বিধায়কের সঙ্গে মঙ্গলবার কোনও ভাবে যোগাযোগ করা যায়নি। ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘পরে কথা বলছি।’ কিন্তু তারপরে আর ফোন ধরেননি। উত্তর দেননি এসএমএসেরও।

এসএফআই এর জেলা সম্পাদক রনিত বেরা বলেন, ‘নাড়াজোল কলেজে কুমারেশের অনুমতি ছাড়া কোনও কাজ হয় না। কলেজের সামগ্রী কেনা থেকে কর্মী নিয়োগ, সবই কুমারেশের কথায় হয়। শুধু নাড়াজোল কলেজ নয়, রাজ্যের অধিকাংশ কলেজে এই কালচার চালু করেছে তৃণমূল। আমরা চাই কলেজে ফের ছাত্র নির্বাচন চালু হোক। বহিরাগতদের দাদাগিরি বন্ধ হোক।’

About Post Author