Home » যুগান্তকারী আবিষ্কার: উটের চোখের জল এবার বাঁচাবে মানুষের প্রাণ

যুগান্তকারী আবিষ্কার: উটের চোখের জল এবার বাঁচাবে মানুষের প্রাণ

সময় কলকাতা ডেস্ক:- গ্রামগঞ্জ শহর থেকে শহরতলী, সাপের অস্তিত্ব প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়। ভারতবর্ষে প্রায় ৩০০ প্রজাতি সাপ রয়েছে, যার মধ্যে ৬০ টি প্রজাতি বিষাক্ত। এদের মধ্যে বিগ ফোর নামে পরিচিত চারটি প্রজাতি। যেমন রাসেল ভাইপার, কোবরা, কমন ক্রেইট এবং স-স্কেলড ভাইপার। সাপের পরিবারের বৈজ্ঞানিক নাম অফিডিয়া। এই অফিডিয়া শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ অফিডন থেকে।

সাধারণত বিষধর সাপকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়, ভাইপেরিড, ক্রোটিলিডি, হাইড্রোফিডি, কলুব্রিভি, এট্রাকটাস্পিজ ডিডি। সাপের কামড়ে প্রতি বছর ভারতবর্ষে প্রায় ৫৮ হাজার মানুষ মারা যায়। বিশেষ করে গ্রামীন এলাকায় সাপের কামড়ে মৃতের সংখ্যা অনেকটাই বেশি। আর সেখানে মৃত্যুর হারও বেশি কারণ পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকা। সম্প্রতি রাজস্থানের বিকানেরের ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার অন ক্যামেল অর্থাৎ এনআরসিসি একটি গবেষণায় আবিষ্কার করেছে যে, ঊটের চোখের জলের ফোঁটা নিষ্ক্রিয় করতে পারে প্রায় ২৬ টি বিষাক্ত সাপের বিষ।

যুগের পর যুগ ধরে উটকে একমাত্র মরুভূমির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হত। উটের চোখের জল পড়তে অনেকেই বিভিন্ন ভিডিওই দেখেছেন। কিন্তু সেই উটের চোখের জল থেকে যে বিষাক্ত সাপের প্রতিষেধক তৈরি করা সম্ভব এটা ছিল কল্পনার অতীত। তবে এনআরসিসির গবেষণায় এটি প্রমাণিত হয়েছে যে উটের চোখের জল থেকে ২৬ রকমের সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরি করা সম্ভব এবং সেটা খুবই স্বল্প খরচে। এই অবিশ্বাস্য আবিষ্কার গ্রাম বাংলার বহু মানুষের প্রাণ বাঁচাবে এটা মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

এতদিন ঘোড়ার ইমিউনোগ্লোবিউলিন থেকে এন্টিভেনাম তৈরি করা হত। যে অ্যান্টিভেনামের বিভিন্ন সময়ে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখতে পাওয়া গিয়েছে এবং এই এন্টিভেনাম তৈরি করা অনেকটাই ব্যয়বহুল ছিল। কিন্তু উটের চোখের জল এবং রক্ত থেকে তৈরি এই অ্যান্টিবডি গুলি কোনরকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মানুষের শরীরে করবে না। এনআরসিসির এই গবেষণা একটা যুগান্তকারী দিক উন্মোচন করেছে।

উটের চোখের জল এবং রক্ত থেকে তৈরি এন্টিভেনাম উৎপাদনে খরচ যেমন কম তেমনি উট পালকেরা এই উটের মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করতে পারবে। রাজস্থান সহ একাধিক অঞ্চলে কয়েক লক্ষ উট, মরুভূমির জাহাজ খ্যাতি পেয়ে পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। উটের চোখের জল এবং রক্ত থেকে এন্টিভেনাম তৈরির ফলে উটের চাহিদা যেমন বেড়েছে তেমনি উট-পালকেরা মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার বাড়তি আয় করার রাস্তা খুঁজে পেয়েছেন।

ইতিমধ্যে সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া সহ একাধিক কোম্পানি এগিয়ে এসেছে এই উটের চোখের জল এবং রক্ত থেকে এন্টিবডি তৈরি করার কাজে। আর এর ফলস্বরূপ আগামী দিনে ভারতবর্ষে প্রতি বছর যে ৫৮ হাজার মানুষ মারা যায় তার সংখ্যা অনেকটাই কমবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

About Post Author