Home » বৃষ্টিতে বেসামাল দক্ষিণবঙ্গ, শীর্ষে উলুবেড়িয়া, তুমুল ভিজল দমদম

বৃষ্টিতে বেসামাল দক্ষিণবঙ্গ, শীর্ষে উলুবেড়িয়া, তুমুল ভিজল দমদম

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ৬ মে ২০২৪–এর পর ৮ জুলাই ২০২৫ — গুনে গুনে ৪২৯ দিন পরে ভারী বৃষ্টি দেখল কলকাতা। আবহাওয়া বিজ্ঞান অনুযায়ী, কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টি হলে তাকে ‘ভারী বৃষ্টি’ বলা হয়। তাই সোমবার ৭ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার পর থেকে মঙ্গলবার ৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সময়ে কলকাতায় আলিপুর চত্বর ৮৯.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি পাওয়ায় তা ‘ভারী বৃষ্টি’–র তালিকাতেই এসেছে স্বাভাবিক ভাবে।

পুনের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজি’–র রেকর্ড অনুযায়ী, কলকাতা এর আগে শেষবার ভারী বৃষ্টি পেয়েছিল ২০২৪–এর ৬ জুলাই। সে দিন শহরে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৭০.৭ মিমি। আইআইটিএম জানাচ্ছে, ২০২১–এর পর থেকে এখনও পর্যন্ত এই ৮৯.৬ মিমি বৃষ্টিপাতই ২৪ ঘণ্টার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের নজির।

মঙ্গলবার দুপুরে আলিপুর হাওয়া অফিস যে বুলেটিন প্রকাশ করেছে তাতে সামনের সাতদিন দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে, আজ বুধবার থেকে বৃষ্টির প্রাবল্য অনেকটা কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের আটটি জেলাতেও সামনের সাত দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

মৌসম ভবনের আবহাওয়ার গতি–প্রকৃতি নির্ণয়কারী কৃত্রিম উপগ্রহ ইনস্যাট থ্রি–ডির পাঠানো ছবি অনুযায়ী, পরের ২৪ ঘণ্টা নিম্নচাপটি একই জায়গায় আটকে ছিল। ফলে দক্ষিণবঙ্গের আকাশে পুরু হয়ে মেঘের আস্তরণ জমে যায়। প্রায় আট কিলোমিটার উঁচু ওই মেঘই সোমবার গভীর রাত থেকে প্রবল বৃষ্টি নামায় দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায়। এই প্রসঙ্গে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা বলেন, ‘উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতা ও হাওড়ার উপরেই খুব বেশি করে মেঘ জমেছিল। তাই দক্ষিণবঙ্গের ১৫টি জেলা মাঝারি বৃষ্টি পেলেও এই চারটি জেলায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে।’

দক্ষিণবঙ্গের আকাশে নতুন করে যে একটি নিম্নচাপ পেকে উঠছে, ২ জুলাইতে এমনটা শুনিয়েছিলেন আবহবিদরা। তাঁরা জানিয়েছিলেন, রাজস্থান থেকে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিসগড়, ঝাড়খণ্ড হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে একটি মৌসুমি অক্ষরেখা বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

ঘটনাচক্রে দক্ষিণবঙ্গের যে অঞ্চলে নিম্নচাপটি তৈরি হচ্ছিল, সেই অঞ্চলের উপর দিয়েই ওই মৌসুমি অক্ষরেখাটি এগিয়েছিল। তাই সমুদ্র থেকে দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করতে শুরু করেছিল।

৭ জুলাই, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ দক্ষিণবঙ্গে নিম্নচাপটি তৈরি হয়। শুরুতে ওই নিম্নচাপ কিছুটা বাঁ–দিকে হেলে থাকায় মনে করা হয়েছিল, সেটি দ্রুত বাংলা ছেড়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে চলে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

About Post Author