Home » জায়গায় জায়গায় ভারত বন্‌ধ কে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে অশান্তি

জায়গায় জায়গায় ভারত বন্‌ধ কে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে অশান্তি

সময় কলকাতা ডেস্ক:- দেশজুড়ে ভারত বন্‌ধের ডাক দিয়েছে দেশের ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং কৃষক ও গ্রামীণ শ্রমিক সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ। ভারত বন্‌ধের জেরে বুধবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে বন্‌ধ সমর্থকদের ধস্তাধস্তি ও বচসা হয়। একাধিক জায়গায় ট্রেন ও রাস্তা অবরোধ হয়। কোথাও পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে বন্‌ধ সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে দেখা যায়।

লেকটাউনে যশোর রোড অবরোধ করলে পুলিশের সঙ্গে বাম সমর্থকদের ধস্তাধস্তি ও বচসা বাধে। এ দিকে, যাদবপুরের ৮বি-এর সামনে আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করেন। সেই সঙ্গে যাদবপুর স্টেশনেও অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একাধিক জায়গায় অবরোধের চেষ্টা হয়। পুলিশ রাস্তায় নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলার জাতীয় ও রাজ্য সড়কের পাশাপাশি রেল অবরোধের জন্য পাঁশকুড়া, হলদিয়া-সহ বিভিন্ন জায়গায় সিপিএম সমর্থকেরা রাস্তায় নামে। এ দিন দিঘার একাধিক রাস্তা অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা।

বাঁকুড়ায় গোবিন্দনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে বেসরকারি বাস ছাড়েনি। ফলে সকাল থেকেই যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বাসের কর্মীরা জানিয়েছেন, মালিকপক্ষের তরফে বাস চালানোর কথা বলা হলেও তাঁরা কাজে যোগ দেননি। সিআইটিইউ অনুমোদিত বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক উজ্জ্বল সরকার জানিয়েছেন, এ বারের বন্‌ধ-এর প্রভাব পরিবহণ ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পড়েছে। সাধারণ ধর্মঘটের সমর্থনে বড়জোড়া চৌমাথায় বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন বন্‌ধ সমর্থনকারীরা। প্রায় ২৫ মিনিট অবরোধ হয় বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়কে। পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের বচসা হয়। পরে ওই রাস্তায় যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের সমুদ্রগড় রেল স্টেশনেও বন্‌ধের প্রভাব পড়েছে।

সিপিএম সমর্থকরা হাওড়া- কাটোয়া আপ লোকাল ট্রেন আটকে রেললাইনে অবরোধ শুরু করেছেন। সকাল থেকেই হুগলি স্টেশনে রেল অবরোধ। হাওড়াগামী ডাউন ব্যান্ডেল লোকাল ট্রেন আটকে দেন ধর্মঘট সমর্থকরা। ঝান্ডা নিয়ে তাঁরা রেল লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন। পরে রেল পুলিশ এসে অবরোধ তুলে দেয়। ভদ্রেশ্বরের শ্যামনগর নর্থ জুটমিল গেটে সকাল থেকেই শ্রমিকদের পিকেটিং চলছ। কাজে যোগ না দিয়ে বাঁশবেড়িয়া গ্যাঞ্জেস জুটমিল অবরোধ করেন শ্রমিকরা। যদিও কিছুক্ষণ পরেই পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দেয়।

উলুবেড়িয়ার গোরুহাটা মোড়েও আন্দোলনে নেমেছেন সিপিএম কর্মী সমর্থকেরা। হলদিয়া বন্দর রেল স্টেশনে ট্রেন অবরোধ করেন বাম সমর্থকরা। রেল পুলিশের সঙ্গে তাঁরা বচসায় জড়ান। হলদিয়ায় বাস আটকানোরও চেষ্টা করেন বাম সমর্থকরা।

অন্য দিকে, হাওড়ার ডোমজুড়ে সিপিএম কর্মীরা বাস ও লরি থেকে চালকদের নামানোর চেষ্টা করেন। এর জেরে উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থলে বিরাট পুলিশ বাহিনী ও ‌র‌্যাফ লাঠি উঁচিয়ে সিপিএম কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে। জানা গিয়েছে, ওই ঘটনায় দু’জন বাম সমর্থক আহত হয়েছেন। ডোমজুড় থানার পুলিশ সিপিএমের দুই কর্মীকে আটক করে। এ দিকে হাওড়ায় বালি জুট মিলের গেটের সামনে সাময়িক কর্মবিরতি হয়। ঘটনাস্থলে বালি থানার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগর ও ইছাপুরের মধ্যে ২২ নম্বর লেভেল ক্রসিংয়ের গেট অবরোধ করেন বাম সমর্থকেরা। প্রায় ৩০ মিনিট অবরোধ চলার পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে উঠে যায়।

ধর্মঘট সফল করতে এ দিন সকাল ছ’টা থেকে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে সরকারি বাস স্ট্যান্ডের সামনে পিকেটিং শুরু করেন বন্‌ধ সমর্থনকারীরা। রাস্তা অবরোধ বেআইনি বলে পুলিশের তরফ থেকে মাইকিং করা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখানোয় এক আন্দোলনকারীকে টেনে হিঁচড়ে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধ্বস্তাধস্তিও হয়। সকাল থেকেই বালুরঘাটে বেসরকারি বাস চলছে না। সরকারি বাস চললেও তাতে যাত্রী সংখ্যা কম। বালুরঘাটের বিভিন্ন বাজারে পিকেটিং করা হবে বলে আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সাধারণ ধর্মঘটের সমর্থনে নিউটাউনের গৌরাঙ্গ নগরে সিপিএম পার্টি অফিস থেকে আটো স্ট্যান্ড পর্যন্ত সিপিএমের সমর্থকেরা মিছিল করেন। সেখানে রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। কলকাতায় লেকটাউনের পাশাপাশি বাঙুরেও অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। বন্‌ধের দাবিতে বাঙুর অ্যাভিনিউ থেকে মিছিল করে গিয়ে দমদমে যশোর রোডে অবরোধও করেন বন্‌ধ সমর্থকরা। যদিও অবরোধ উঠে যায়।

About Post Author