সময় কলকাতা ডেস্ক:- ফের শহরে অমানবিক চিত্র। ট্রেন দুর্ঘটনায় মারাত্মক ভাবে জখম হয়েছিলেন গোপাল বণিক নামে এক তরুণ। আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু ইমার্জেন্সি টিকিট করা হয়নি, এই যুক্তিতে চিকিৎসাই শুরু হয়নি গোপালের। শেষ পর্যন্ত মারাই যান বছর একুশের তরুণ। এই ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরে।
মৃতের মা রিনা বণিক জানান, সোমবার রাতে উল্টোডাঙা ও দমদম স্টেশনের মাঝে দক্ষিণদাঁড়ি এলাকায় ট্রেনলাইন ধরে হাঁটছিলেন গোপাল। তখনই ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর জখম হন তিনি। বন্ধুরা আরজি করে নিয়ে যান তাঁকে। হাসপাতালে বসে কাঁদতে কাঁদতে রিনা বলেন, ‘ছেলেকে এখানে আনার ইচ্ছে ছিল না আমার। কিন্তু ওর বন্ধুরাই এখানে নিয়ে আসে। কিন্তু টিকিটের অভাবে চিকিৎসা শুরুই হবে না, এটা ভাবতে পারিনি। ছেলেকে হারিয়ে একা একা আমি বাঁচব কী করে! দোষীদের শাস্তি চাই।’
গোপালের বাড়ি দক্ষিণ দমদম পুরসভার দক্ষিণদাঁড়িতে। ক্ষুব্ধ পরিজনের অভিযোগ, তাঁর মুখ ও মাথা থেকে অবিরাম রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। কিন্তু ইমার্জেন্সি টিকিট করা হয়নি বলে ট্রমা কেয়ার সেন্টারে তাঁকে ঢুকতে দেননি এক নিরাপত্তারক্ষী। পরে ঢুকতে দিলেও শেষরক্ষা হয়নি। এর পরেই মৃতের আত্মীয়–বন্ধুরা তুমুল বিক্ষোভ দেখান হাসপাতালে। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছে বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন। ‘জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট’ জানিয়েছে, ফর্মালিটির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল চিকিৎসা। সেটা না–হওয়া ক্ষমার অযোগ্য। সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন ‘সার্ভিস ডক্টর্স ফোরাম’–এর সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনাটিকে তদন্তের আওতায় আনা উচিত। কেউ দোষীসাব্যস্ত হলে কঠোরতম শাস্তি হওয়া দরকার।’


More Stories
এবার থানায় থানায় বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে এফআইআর করবে কংগ্রেস
মেজবাবুকে চড় মেরে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছি : রেখা পাত্র
বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোয় গ্রেফতারের নির্দেশ শুভেন্দুর