Home » অচেনা নম্বর থেকে লাগাতার ফোন করে টাকা চেয়ে হুমকি চিকিৎসক-কে

অচেনা নম্বর থেকে লাগাতার ফোন করে টাকা চেয়ে হুমকি চিকিৎসক-কে

সময় কলকাতা ডেস্ক:- ফোনে লাগাতার হুমকি, অশ্রাব্য গালিগালাজে নাজেহাল চিকিৎসক দম্পতি। অভিযোগ, এক মহিলা চিকিৎসককে ফোন করে বলা হয়, তাঁর স্বামী নাকি লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়ে ফেরত দেননি। অকথ্য ভাষায় ফোনে হুমকিও দেওয়া হয়। চিকিৎসক দম্পতির দাবি, তাঁরা কারও থেকে টাকা নেননি। অচেনা নম্বর থেকে ক্রমাগত হুমকি–ফোন পেয়ে অতিষ্ঠ দম্পতি নিউ আলিপুর থানা ও কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে প্রাক্তন আইপিএস কল্যাণ মুখোপাধ্যায় জানান, ‘ফোনে হুমকি এলে পুলিশে অভিযোগ করতে হবে। পুলিশ কললিস্ট দেখে তদন্ত শুরু করবে।’ সাইবার বিশেষজ্ঞ সন্দীপ সেনগুপ্ত–র পরামর্শ, ‘নম্বর ব্লকের সঙ্গে অভিযোগপত্র–সহ ঘটনার বিবরণ সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া ভালো। যাতে আপনার পরিচিতরাও সাবধান থাকে।’

অনিন্দ্য জানান, চিকিৎসার মতো ইমার্জেন্সি সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত থাকায় নম্বর পরিবর্তন সম্ভব নয়। ফোনে বা অনলাইন প্রতারণা ঘটতে পারে। ভয় দেখিয়ে হয়তো টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ছক হতে পারে। জেনেছি, ব্যারাকপুর সাব ডিভিশনে রাজীব সরকার নামে এক চিকিৎসক ছিলেন। তিনি এখন ওখানে নেই। যারা ফোন করেছিল, তারা কে বা কোনও গ্যাংয়ের লোক কি না, তাও জানি না।’

অভিযোগ, রাজীব সরকার নামে এক চিকিৎসক নাকি টাকা নিয়েছেন বলে তাঁদের কাছে ফোন আসছে। দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুরের বাসিন্দা ওই চিকিৎসক দম্পতি শরণ্যা ঘোষ ও অনিন্দ্য চৌধুরির দাবি রাজীব সরকার নামে কোনও চিকিৎসককে তাঁরা চেনেন না। পাওনা টাকা ফেরতের জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে লাগাতার। টাকা না পেলে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। শরণ্যার দাবি, ২০০২ থেকে তিনি এই নম্বর ব্যবহার করছেন। এর আগে কখনও এমনটা ঘটেনি।

শরণ্যা বিধাননগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের গাইনোকোলজিস্ট। অনিন্দ্য লিলুয়ায় জয়সওয়াল হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক। শরণ্যার অভিযোগ, ৭ জুলাই বিকেল ৩.৪১ নাগাদ হঠাৎ এক ব্যক্তি তাঁকে ফোন করে বলেন, ‘রাজীব সরকারকে ডেকে দিন। আপনার স্বামীকে ফোন দিন। পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে ফেরত দেননি।’ শরণ্যা জানান, তাঁর স্বামীর নাম রাজীব নয়, অনিন্দ্য চৌধুরি। তাঁরা কোনও টাকা েনননি। তিনি রাজীব সরকার নামে কোনও চিকিৎসককে চেনেন না।

ওই ফোন রাখার পরে এক মহিলা ফোন করে হুমকি দেন এবং গালিগালাজ করেন। রাজীবের নাম করে তিনিও টাকা চান বলে অভিযোগ। তারপর থেকে অবিরাম ফোন আসছে। একটা অচেনা নম্বর ব্লক করলে আর একটা থেকে আসছে। এটা আর্থিক প্রতারণার নতুন কোনও কৌশল হতে পারে বলে দম্পতির আশঙ্কা।

About Post Author