সময় কলকাতা ডেস্ক:- বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা। নির্বাচন কমিশনের বিতর্কিত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন কর্মসূচির অধীনে এই তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। তবে তালিকা প্রকাশের আগেই দেশজুড়ে, বিশেষত সংসদে, উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে ভোটারদের গণহারে বাদ পড়ার আশঙ্কা নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, এই সংশোধন প্রক্রিয়া একেবারেই অস্বচ্ছ এবং এর মাধ্যমে বৃহৎ সংখ্যক প্রকৃত ভোটারদেরও তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলছেন, প্রমাণ রয়েছে নির্বাচন কমিশন ভোট চুরিতে জড়িত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নির্বাচন কমিশনে যাঁরা এই কাজে জড়িত— ওপর থেকে নীচ পর্যন্ত তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না।
লোকসভার বিরোধী দলনেতার হুঁশিয়ারি, নির্বাচন কমিশন ভারতের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এটা সরাসরি দেশদ্রোহ। প্রত্যেককে খুঁজে বের করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিহারে যে হারে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, তা গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত।
যদিও, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির অভিযোগ খণ্ডন করে ভারতের নির্বাচন কমিশন শুক্রবার কড়া জবাব দেয়। দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুলের বিস্ফোরক অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য বলে ব্যাখ্যা করেছে কমিশন। প্রতিদিন যে ভিত্তিহীন অভিযোগ একের পর এক তোলা হচ্ছে, তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না কমিশন। আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সব নির্বাচনী আধিকারিকদের, যাঁরা অবাধ, মুক্ত ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নির্বাচনী কাজ করে চলেছেন, তাঁদের এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র বলছে, নির্বাচন কমিশনের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বিহারের প্রায় ৬০ লক্ষের কাছাকাছি নাম বাদ গিয়েছে। এ বিষয়ে কারও আপত্তি বা সংযোজনের বিষয় থাকলে তা একমাসের মধ্যে সেরে ফেলতে হবে। এই তালিকা সংশোধনী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও বেশ কয়েকটি আবেদন জমা পড়েছে। সব মিলিয়ে বিহারের ভোটার তালিকা হলেও একযোগে বিরোধীরা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ওরফে বিজেপির বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?